দুই পেনাল্টির ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফ্রান্সের কষ্টার্জিত জয়
রাশিয়ার কাজানে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের 'সি' গ্রুপের প্রথম খেলায় অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ১৯৯৮ সালের শিরোপাজয়ী ফ্রান্স। দুটি গোলেই প্রযুক্তির সহায়তা পেয়েছে ফরাসিরা।
প্রথমার্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই-ই চালিয়েছেন দুই দলের ফুটবলাররা। ৪৫ মিনিটে ৫২ শতাংশ সময় বলের দখল ছিল ফ্রান্সের কাছে। আক্রমণ শানানোর ক্ষেত্রে অবশ্য আরো একটু বেশি এগিয়ে ছিল ফ্রান্স। অস্ট্রেলিয়ার গোলপোস্ট লক্ষ্য করে মোট চারবার শট নিতে পেরেছিলেন ফরাসি ফুটবলাররা। অন্যদিকে দুইবার গোলের চেষ্টা করলেও গোলপোস্ট লক্ষ্য করে শট নিতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।
প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবে কাটার পর দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল দুই দলই। তবে প্রথম সাফল্যটা পেয়ে যায় ফ্রান্স। বিশ্বকাপের আসরে প্রথমবারের মতো ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফরি (ভিএআর) প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে পেনাল্টি পেয়ে যায় ফ্রান্স।
৫৭ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি বক্সের মধ্যে আন্তেনিও গ্রিজম্যানকে ফাউল করেন জশ রিসডন। সঙ্গে সঙ্গে বেজে ওঠে রেফারির বাঁশি। কিন্তু সেটা ফাউল ছিল কিনা, তা বোঝার জন্য রেফারি নিয়েছিলেন ভিএআরের সাহায্য। শেষপর্যন্ত ফাউল নিশ্চিত হওয়ার পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন মাঠের রেফারি। বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম সেই ভিআরএ’র সাহায্যে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দিতে কোনো ভুল করেননি গ্রিজম্যান। নিজের নামটাও সেই সুবাদে তুলে ফেলেছেন ইতিহাসের পাতায়।
তবে এগিয়ে থাকার সুখটা বেশিক্ষণ উপভোগ করতে পারেনি ফ্রান্স। পরের মিনিটেই নিজেদের পেনাল্টি বক্সের মধ্যে হ্যান্ডবল করে বসেন স্যামুয়েল উমতিতি। সেখান থেকে পেনাল্টি পেয়ে গোল করেন অস্ট্রেলিয়ার মাইল জেডিনাক। খেলায় ফেরে ১-১ গোলের সমতা।
৮০ মিনিট পর্যন্ত ছিল এই স্কোর। ৮১ মিনিটে দুর্দান্ত এক শট থেকে গোল করেন পল পগবা। এরপরে আর কোনো গোল করতে পারেনি কোনো দলই। শেষপর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স। খেলায় ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন ফ্রান্সের আন্তেনিও গ্রিজম্যান
এবারের আসরে ফ্রান্সকে মনে করা হচ্ছে হট ফেভারিট। কিন্তু তাদের শুরুটা মন ভরাতে পারেনি দর্শকদের। অনেকটা পিছিয়ে থাকা দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে দেশমের শিষ্যরা।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৭