খাশোগি হত্যা: সৌদির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে আমেরিকা
-
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে ১১,০০০ কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি চিন্তায় ফেলেছে ট্রাম্পকে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি সরকার-বিরোধী সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডে রিয়াদের হাত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হলে রাজতান্ত্রিক দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে ওয়াশিংটন। শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ আভাস দেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, খাশোগির ভাগ্যে কি ঘটেছে তা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর এ ব্যাপারে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া যায় তা নিয়ে তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে শলাপরামর্শ করবেন।
গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলস্থ সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর আর বের হননি সৌদি রাজতন্ত্রের কঠোর সমালোচক সাংবাদিক ও লেখক জামাল খাশোগি। শুক্রবার রাতে সৌদি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে, খাশোগি সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর নিহত হয়েছেন।
খাশোগি হত্যার জের ধরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘হতে পারে, হতে পারে।’ ট্রাম্প বলেন, আগে সবকিছু পরিষ্কার হোক। তারপর তিনি বিষয়টি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের সঙ্গে কথা বলবেন। কংগ্রেস সদস্যরাও সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছেন বলে আভাস দেন ট্রাম্প।
মার্কিন কংগ্রেসের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় পক্ষের সদস্যরা বলছেন, খাশোগির গুম হওয়ার ঘটনায় সৌদি আরব নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত রিয়াদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যেতে হবে। এদিকে তুর্কি ও মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিতভাবে জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের নির্দেশে ইস্তাম্বুলে খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সৌদি আরবের কাছে ১১ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির চুক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে রিয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চান। তিনি ২০১৭ সালের গোড়ার দিকে ক্ষমতা গ্রহণ করে প্রথম বিদেশ সফরে সৌদি আরবে যান এবং ওই বিশাল অস্ত্রচুক্তি করেন। এরপর দেশে ফিরে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি আমেরিকার (অস্ত্র শিল্পে) বহু মানুষের চাকরির বার্তা নিয়ে এসেছেন। #
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২০