পাশ্চাত্যের জন্য যা পুণ্য তা ইরানের বেলায় পাপ!
ইসলামী ইরানের ব্যাপারে সাম্রাজ্যবাদী ইউরোপের একচোখা ও দ্বিমুখী নীতি আবারও স্পষ্ট হয়েছে। ইউরোপীয় শক্তিগুলো যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদেরই সহযোগী ও লেজুড় ইউরোপের ভণ্ডামীপূর্ণ ইরান-নীতি তা আবারও প্রমাণ করল। তাই দেখা যায় ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ও জাতিসংঘের অনুমোদিত ইরান বিষয়ক আন্তর্জাতিক পরমাণু সমঝোতার অন্যতম প্রধান শরিক মার্কিন সরকার এখন থেকে এক বছর আগে ওই সমঝোতা বাতিল করলেও ইউরোপ তাতে কেবলই মৌখিক দুঃখ প্রকাশ করেছে।
মার্কিন সরকার এ বিষয়ে অতীতের সব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে নতুন অনেক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও ওই সমঝোতার ওপর অবিচল বা অটল থাকার দাবিদার ইউরোপীয় জোট এবং ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানি এ নিয়ে প্রতিরোধ তো দূরে থাক তেমন একটা উচ্চবাচ্যও করেনি ও এখনও করছে না। এই শক্তিগুলো ওই পরমাণু সমঝোতা অনুযায়ী ইরানের সঙ্গে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার কথা থাকলেও নানা টাল-বাহানা আর অজুহাত দেখিয়ে তা করেনি।
শুধু তাই নয়, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক লেনদেন চালু করা হবে বলে ইউরোপ প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসলেও বাস্তবে বিশেষ ওই চ্যানেল চালু করার প্রতিশ্রতিকে প্রতারণার মুলোর মত ঝুলিয়ে রেখে ইউরোপ তেহরানের ওপর নতুন কিছু শর্ত চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে।
সম্প্রতি মার্কিন সরকার ঘোষণা দেয় যে চৌঠা মে'র পর থেকে আর কোনো দেশই ইরানের এক ফোঁটা তেলও কিনতে পারবে না, যারা কিনবে তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। উল্লেখ্য, পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগেও ওবামার সরকার বাস্তবে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়াটা কার্যকর করেনি ব্যাংকিং ক্ষেত্রসহ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। কেবল দু-একটি ক্ষেত্রে সীমিত সময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল মাত্র।
এ অবস্থায় এক বছর ধরে ধৈর্য ধরার পর ইসলামী ইরান গত ৮ মে আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরানের পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘনের তথা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর ইশতেহার লঙ্ঘনের প্রথম বার্ষিকীতে দুই মাসের জন্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও ভারী পানি বিক্রি বন্ধ রাখবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। পরমাণু সমঝোতার শর্তের আলোকেই ইরান এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি উল্লেখ করেছেন। এই দুই মাসের মধ্যে ইউরোপ ইরানকে দেয়া প্রতিশ্রুতি পালন না করলে ইরান পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে।
কিন্তু ইউরোপীয় জোট বা ইইউ (গতকাল বৃহস্পতিবার) বলেছে, পরমাণু সমঝোতার প্রতি এই জোটের সমর্থন অব্যাহত থাকলেও এ ব্যাপারে ইরানের চরমপত্র বা আল্টিমেটাম তারা মানবে না। জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, ইরানকে একতরফাভাবে বহুপক্ষীয় পরমাণু সমঝোতা মেনে চলার পরামর্শ না দিয়ে ইউরোপের নিজের উচিত এ সমঝোতা মেনে চলা।
জারিফ বলেন, পরমাণু সমঝোতা সম্পর্কে ইইউ’র বিবৃতি দেখে মনে হয়, ইরান কেন এর কিছু ধারা স্থগিত রাখল সেজন্য তারা বিস্মিত হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আমেরিকা এক বছর ধরে ইউরোপসহ গোটা বিশ্বকে ভয় দেখিয়ে পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘন করে পায়ের তলায় পিষে ফেললেও ইইউ ‘দুঃখ প্রকাশ’ ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি।
প্রশ্ন হল এ কেমন বিচার যে কোনো কোনো দেশ হাজার হাজার পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হলেও কিংবা ইসরাইলের মত অবৈধ ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র শত শত পরমাণু বোমার অধিকারী হলেও তাতে কোনো দোষ নেই, বরং তা যেন মহাপুণ্য, কিন্তু ইসলামী ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু তৎপরতাও সীমাবদ্ধ না হলে তা হয়ে যায় মহাপাপ!
মার্কিন সরকারই বিশ্বের একমাত্র সরকার যে জাপানের দুটি শহরের বেসামরিক জনগণের ওপর পরমাণু বোমা ফেলে নারী ও শিশুসহ লাখ লাখ নিরপরাধ মানুষের প্রাণ কয়েক মিনিটের মধ্যেই কেড়ে নিয়েছিল! #
পার্সটুডে/এমএএইচ/১০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন