ইউরেনিয়ামের মজুদ আগের অবস্থায় নামিয়ে আনুন: ইরানকে ইইউ
ইরানকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদের পরিমাণ ৩০০ কেজির নীচে নামিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ। ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনি এবং জার্মানি, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানকে পরমাণু সমঝোতায় বর্ণিত সীমাবদ্ধতা মেনে অতিরিক্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। ইইউ’র বিবৃতিতে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ বাড়ানোর যে পদক্ষেপ ইরান নিয়েছে তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এতে আরো বলা হয়, ইইউ পরমাণু সমঝোতায় টিকে থাকবে কিনা তা নির্ভর করছে ইরানের পক্ষ থেকে এ সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলার ওপর।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ গত সোমবার ঘোষণা করেন, ইউরোপীয় দেশগুলো পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় তার দেশ এ সমঝোতার ৩৬ নম্বর ধারা অনুসরণ করে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পরিমাণ নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বাড়িয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা গত চার বছর ধরে বাস্তবায়ন করে এসেছে তেহরান। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিবাদে এবার ঘোষণা দিয়ে এবং পরমাণু সমঝোতার ৩৬ নম্বর ধারা মেনেই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ বাড়িয়েছে তার দেশ। জারিফ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইউরোপীয় তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে এর পরের পদক্ষেপে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের নির্ধারিত ৩.৬৭ মাত্রাও অতিক্রম করবে।
গত বছরের ৮ মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে তার দেশকে বেআইনিভাবে ও গায়ের জোরে বের করে নেন। এরপর জার্মানি, ব্রিটেন ও ফ্রান্স এবং ইইউ এ সমঝোতায় টিকে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইরানকেও এ সমঝোতা রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছিল। ইউরোপের পক্ষ থেকে ইরানকে পরমাণু সমঝোতায় বর্ণিত আর্থিক সুবিধা প্রদানের প্রতিশ্রুতিও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন হুমকি ও চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তারা এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়।#
পার্সটুডে/মো. মুজাহিদুল ইসলাম/৩