আজ ‘বনি হাশিমের চাঁদ’-এর ১৪১১ তম জন্ম-বার্ষিকী
আজ হতে ১৪১১ চন্দ্রবছর আগে ২৬ হিজরির এই দিনে (৪ শাবান) পবিত্র মদীনায় জন্ম নিয়েছিলেন মহান কারবালা বিপ্লবের শীর্ষস্থানীয় সেনাপতি ও পতাকাবাহী নেতা হযরত আবুল ফজল আব্বাস (আ.)।
ইরানসহ বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে তাঁর পবিত্র জন্ম-বার্ষিকী। তিনি ছিলেন হযরত আলী (আ.)’র পুত্র ও ইমাম হুসাইন (আ.)’র সৎ ভাই। তাঁর মাতা ছিলেন হযরত উম্মুল বানিন (সালামুল্লাহি আলাইহা)। নবী-নন্দিনী হযরত ফাতিমা জাহরা (সা.)’র মৃত্যুর পর এই মহীয়সী নারীকে বিয়ে করেছিলেন আমিরুল মু’মিনিন হযরত আলী (আ.)।
সৌন্দর্য ও বীরত্বের জন্য খ্যাত হযরত আবুল ফজল আব্বাস (আ.) ছিলেন তাঁর বড় দুই সৎ ভাইয়ের চেয়ে বয়সে প্রায় দুই যুগেরও ছোট। তাঁকে বলা হত বনি হাশিমের চাঁদ। তিনি ইমাম হাসান ও হুসাইন (আ.)-কে শ্রদ্ধার কারণে কখনও ভাই বলে সম্বোধন করতেন না, বরং বড় ভাইকে বলতেন- সাইয়্যিদি বা আমার কর্তা ও ছোট ভাইকে বলতেন ‘মৌলায়ি’ বা ‘আমার নেতা’।
তিনি কারবালায় ভাই ইমাম হুসাইন (আ.)’র পাশে ছিলেন অনুগত ছায়ার মত এবং পানি-নিষেধাজ্ঞার শিকার ইমাম শিবিরের জন্য পানি আনতে গিয়ে প্রথমে দুই হাত ও পরে জীবন বিসর্জন দেন। চরম তৃষ্ণার্ত অবস্থায় পানি পানের সুযোগ পেয়েও তিনি ইমাম শিবিরের অন্য সব তৃষ্ণার্তদের আগে নিজে পানি পান করতে লজ্জা বোধ করায় সেই পানি পান করেননি।
মহাকালের পাখায় চির-অম্লান নাম শহীদদের নেতা হযরত ইমাম হুসাইন (আ.)’র সেনাদলের পতাকাধারী সেনাপতি হিসেবে ইতিহাসে অমর ও অম্লান হয়ে আছেন তাঁরই সৎ ভাই হযরত আবুল ফজল আব্বাস (আ.)। মুক্তি ও স্বাধীনতাকামীদের আদর্শ নেতার পবিত্র মাজারের পাশেই রয়েছে এই মহান বীরের মাজার। ইমামের প্রতি আনুগত্যের আদর্শ হযরত আব্বাস (আ.) বাবুল মুরাদ বা বাবুল হাওয়ায়েজ তথা মানুষের মুশকিল আসানের দরজা নামেও খ্যাত।
এই মহামানবের জন্মদিন ইসলামী ইরানে ‘রুজই জানবজান’ বা যুদ্ধাহতদের দিবস হিসেবে পালিত হয়।
বাংলাদেশের জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম তার অমর কবিতা ‘মহররম’-এ এই মহান বীরকে উল্লেখ করেছেন এভাবে:
দুই হাত কাটা তবু শেরনর আব্বাস
পানি আনে মুখে হাঁকে দুশমনও 'সাব্বাস'!!
বলা হয় ঐতিহাসিক সিফফিন যুদ্ধের সময়ও তিনি কিছুক্ষণের জন্য ওই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সে সময় যদিও তিনি একজন কিশোর ছিলেন কিন্তু তাকে দেখতে মনে হত দীর্ঘদেহী ও শক্তিমান এক যুবক। তিনি আলী (আ.)' র নির্দেশে অত্যন্ত বীরত্বের সঙ্গে মুয়াবিয়ার বাহিনীর একদল সেনার এক শক্তিশালী হামলাকে তুলো-ধুনো করার মত উড়িয়ে দেন। মুয়াবিয়ার ওই সেনাদল খুব বিপজ্জনকভাবে হযরত আলী (আ.)'র অবস্থানের দিকে এগিয়ে আসছিল। ইমাম তাঁর এই কিশোর পুত্রকে বলেছিলেন, হৈ-চৈ-এর মত কিছু একটা শোনা যাচ্ছে, তাবুর বাইরে দিয়ে দেখোতো ঘটনা কী? ফলে আবুল ফজল তাবু থেকে বেরিয়ে আসেন শত্রু সেনাদের হটিয়ে দেয়ার জন্য। এ সময় অকুতোভয় ও অচেনা এই কিশোর পাহলোয়ানের অপূর্ব সামরিক নৈপুণ্য দেখে শত্রুরা হতবাক হয়ে যায়। ইমাম আলী (আ.) নিজেই তাঁকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। তিনি তাঁর এই পুত্রকে বেশিক্ষণ যুদ্ধের ময়দানে থাকতে দেননি সম্ভবত এ কারণে যে আশুরার অসম যুদ্ধের দিনে ইমাম হুসাইন (আ.)-কে সহায়তা করার জন্য তাঁকে দরকার হবে।
মহান আল্লাহকে অশেষ ধন্যবাদ যিনি মানবজাতিকে উপহার দিয়েছেন এমন এক মহাবীর।
অশেষ সালাম ও দরুদ পেশ করছি এই মহাবীরের শানে এবং সবাইকে জানাচ্ছি মুবারকবাদ।
মু. আমির হুসাইন/১১