ঢাকা ও কোলকাতার পত্রপত্রিকার সব গুরুত্বপূর্ণ খবর
বেগমপাড়া’র কথা এবং মুরাদের কানাডায় জায়গা না হওয়ার নেপথ্যে
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ১৪ ডিসেম্বর মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম :
- নোয়াখালিতে বিবস্ত্র করে নারী নির্যাতন, ১৩ আসামির ১০ বছরের কারাদণ্ড -দৈনিক কালেরকণ্ঠ
-
র্যাবের ৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা-অবস্থান পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালাব: পররাষ্ট্রমন্ত্রী-প্রথম আলো
- বেগমপাড়া’র কথা এবং মুরাদের কানাডায় জায়গা না হওয়ার নেপথ্যে- দৈনিক মানবজমিন
- ‘শুধু খালেদা জিয়া নয়, সরকার কাউকেই রাজনীতি করতে দিতে চায় না’: যুগান্তর
- ১৯৭১ সালের যুদ্ধ নিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের নিন্দা পাকিস্তানের -দৈনিক ইত্তেফাক
- বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত ট্যাঙ্ক-বিমান উপহার দেবে ভারত : দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
ভারতের শিরোনাম:
- কেন বিএসএফ-এর ক্ষমতা বৃদ্ধি? জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে চাইল হাই কোর্ট-আনন্দবাজার পত্রিকা
-
রাওয়াতের পরে সেনা সর্বাধিনায়ক কে? প্রধানমন্ত্রীর পছন্দই সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর- প্রতিদিন
- কংগ্রেস এলে ভাল, না এলে চুপ করে বসে থাকব না’, হাত শিবিরকে বার্তা তৃণমূলের’ আজকাল
শ্রোতাবন্ধুরা! শিরোনামের পর এবার দু'টি খবরের বিশ্লেষণে যাচ্ছি-
কথাবার্তার প্রশ্ন
কথাবার্তার প্রশ্ন (১৪ ডিসেম্বর)
১. বিজয়ের ৫০ বছরেও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পাইনি। একথা বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কী বলবেন আপনি?
২. আফগান বেসামরিক নাগরিক হত্যা বিচারের মুখে পড়তে হবে না মার্কিন সেনাদের। কিভাবে দেখছেন বিষয়টিকে?
র্যাবের ৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা-অবস্থান পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালাব: পররাষ্ট্রমন্ত্রী-প্রথম আলো
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জানান, র্যাব এবং সংস্থার সাতজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা পরিবর্তনের জন্য প্রচেষ্টা চালানো হবে। আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এক ভার্চ্যুয়াল ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব তথ্য জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্র্রণালয় ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সফর উপলক্ষে ওই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিন মন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, সেটি দুঃখজনক। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আমাকে আলোচনা করে একটি করে উত্তর দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন। একা হুট করে উত্তর দেওয়া ঠিক হবে না।’

যুক্তরাষ্ট্রে বিচারবর্হিভূত হত্যা ও গুমের প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন পদক্ষেপের সমালোচনা করে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে যারা এসব করছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি নেওয়ার কথা আমি কোনোদিন শুনিনি। কিন্তু বাংলাদেশে হঠাৎ কোনো কোনো লোকের প্ররোচনায়, কোনো কোনো সংস্থা বিশেষ করে, মানবাধিকার ও বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কারণে এমন বড় একটি সিদ্ধান্ত আলোচনা না করে চাপিয়ে দেওয়া হলো।
আমাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। প্রতিনিয়ত তাদের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করছি। হঠাৎ না জানিয়ে কেন এটা করা হলো আমরা এটা ওদের সঙ্গে আলোচনা করব। ওদের সব সিদ্ধান্ত সঠিক এমন নয়, এর ভূরি ভূরি নজির আছে। তাদের মধ্যে পরিপক্ব ও জ্ঞানী লোক আছে। তারা যাতে তাদের অবস্থার পরিবর্তন করে সেই প্রচেষ্টাই চালাব।’
নোয়াখালিতে বিবস্ত্র করে নারী নির্যাতন, ১৩ আসামির ১০ বছরের কারাদণ্ড -দৈনিক কালেরকণ্ঠ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় ১৩ আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে আসামীদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক জয়নাল আবেদীন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, নুর হোসেন বাদল, আবদুর রহিম, আবুল কালাম, ইসরাফিল হোসেন মিয়া, মাঈন উদ্দিন সাজু, সামছুদ্দিন সুমন কন্ট্রাকটর, নুর হোসেন রাসেল, আনোয়ার হোসেন সোহাগ ও দেলোয়ার হোসেন দেলু উপস্থিত ছিলেন। এ মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিরা হলেন- আবদুর রব চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান, জামাল উদ্দিন ও মিজানুর রহমান তারেক।
রাষ্ট্র পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ লাবলু। বাদী পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোল্লা হাবিবুর রসুল মামুন ও আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন বাদল।
রাষ্ট্র পক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ লাবলু বলেন, এ মামলায় মোট ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে ইতোমধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পিবিআই। অভিযুক্তদের মধ্যে ৯ আসামিকে আদালতে আনা হয়েছে। অপর চারজন পলাতক রয়েছে। গত এক বছর আদালত বাদীসহ ৪০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আজ আদালত ১৩ আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। একইসঙ্গে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে এবং অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
‘শুধু খালেদা জিয়া নয়, সরকার কাউকেই রাজনীতি করতে দিতে চায় না’: যুগান্তর
সরকার দেশে বিরাজনীতিকীকরণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এই গণবিরোধী সরকার, স্বাধীনতাবিরোধী সরকার খালেদা জিয়া শুধু নয়, কাউকেই এখানে রাজনীতি করতে দিতে চায় না।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
খালেদা জিয়ার সবশেষ অবস্থা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে কয়েক বছর ধরে সাজানো মামলায় আটক করে রাখা হয়েছে। এখন এ মুহূর্তে তিনি অসুস্থ হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। আমরা বারবার বলেছি, দেশনেত্রীকে মুক্তি দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হোক। কিন্তু সরকার এতে কর্ণপাত করেনি।
প্রকৃত দেশপ্রেমিকরা এই সরকারের সময়ে নিগৃহীত মন্তব্য করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে একদিকে যেমন তারা বন্দি করে রেখেছে, চিকিৎসার সুযোগ দিচ্ছে না। অন্যদিকে সব দেশপ্রেমিক মানুষের ওপর তারা অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। ঠিক এ রকম একটি দিনে আমরা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। জনগণ আবারও জেগে উঠবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণ আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জেগে উঠবে। দানবীয় কর্তৃত্ববাদী সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার, জনগণের পার্লামেন্ট এবং একটা মুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা পাবে।
এ সময় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, উপদেষ্টা ও দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরীসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বেগমপাড়া’র কথা এবং মুরাদের কানাডায় জায়গা না হওয়ার নেপথ্যে- দৈনিক মানবজমিন
ডা. মুরাদ হাসান। কেলেঙ্কারিতে আকস্মিক মন্ত্রিত্ব হারিয়ে এখন আত্মগোপনে। দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কানাডার বিমানবন্দরেও পৌঁছেছিলেন। কিন্তু জায়গা হয়নি সেখানে। বিমানবন্দর থেকেই কানাডার কর্তৃপক্ষ ফেরত পাঠায় তাকে। চেষ্টা করেছিলেন দুবাইয়ে থাকার। সেখানেও ব্যর্থ হয়ে ফেরেন দেশে।কেন কানাডায় জায়গা হলো না মুরাদ হাসানের? এ নিয়ে এখন চলছে নানা আলোচনা।দুনিয়ার নানা দেশের অনেক প্রভাবশালীই কানাডাকে বেছে নিয়েছেন তাদের সেকেন্ড হোম হিসেবে। এ নিয়ে রয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষকরে অর্থ পাচারের মতো ঘটনা বরাবরই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।কেন কানাডা গ্রহণ করলো না মুরাদ হাসানকে। ঢাকার ইংরেজি দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে এ প্রসঙ্গে ইমিগ্রেশন আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি বলেন, ‘‘কানাডা এমন একটি রাষ্ট্র যেখানে সে দেশের সরকার এবং সরকার সংশ্লিষ্টরা নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। যখন কোনো বিদেশি নাগরিক সে দেশে সফর, পড়াশুনা বা কর্মসংস্থানের জন্য প্রবেশ করে, তার উপর কানাডার বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ) কঠোর নজরদারি রাখে। এক্ষেত্রে দুইটি বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেয় তারা।ওই বিদেশি নাগরিকের প্রবেশের কারণে যদি কানাডা তথা কানাডায় বসবাসকারী জনগণের নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং তার দ্বারা কোনো সহিংসতা তৈরির সম্ভাবনা থাকে, তাহলে সিবিএসএ ওই বিদেশি নাগরিককে কোনোভাবেই দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয় না।’’ কানাডীয় এক ইমিগ্রেশন কনসাল্টিং কোম্পানির কর্ণধার এম এল গনি এ ব্যাপারে লিখেছেন, ‘‘বাংলাদেশের এক চিত্রনায়িকাকে তিনি যেভাবে হুমকি দিয়েছেন বলে অডিও ভাইরালে শোনা গেছে, তা যেহেতু ওই চিত্রনায়িকার নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক, একই কারণে তা যে কোনো কানাডিয়ান নাগরিকের জন্যও বিপজ্জনক গণ্য করা যায়।’’

রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দগমপাড়া আসলে কোথায়?
কানাডায় বাংলাদেশি ‘বেগমপাড়া’ নিয়ে গত কয়েকবছর ধরেই অনেক কথাবার্তা চলছে। বলা হয়, বাংলাদেশে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া বহু ব্যবসায়ী-আমলা-রাজনীতিক তাদের স্ত্রী-সন্তানদের পাঠিয়ে দিয়েছেন কানাডায়। তাদের নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ‘বেগমপাড়া’। এ নিয়ে গত বছর বিবিসি বাংলায় একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, টরন্টোর পাশে লেক অন্টারিওর তীরে আরেকটি শহর মিসিসাগা। শহরের একটি বড় কন্ডোমিনিয়াম হঠাৎ করেই কানাডার গণমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয় বছর দশেক আগে। সেই কন্ডোমিনিয়ামে মূলত থাকেন দক্ষিণ এশিয়া থেকে আসা বহু অভিবাসী পরিবার। এসব পরিবারের স্বামীরা কাজ করেন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। স্বামীদের অনুপস্থিতিতে স্ত্রীদের নিঃসঙ্গ জীবন এবং কঠিন জীবন সংগ্রাম নিয়ে এক ভারতীয় পরিচালক রশ্মি লাম্বা তৈরি করলেন একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম। নাম ‘বেগমপুরা।’ 'বেগমপুরা' ছবি নিয়ে আলোচনা শুরু হলো কানাডার গণমাধ্যমে। আর এই ছবির সূত্র ধরে সেখানকার পত্র-পত্রিকাতেও প্রকাশিত হতে থাকলো অনেক ধরণের প্রতিবেদন। টরন্টো স্টারে ২০১১ সালে প্রকাশিত এরকম একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘কলোনি অব ওয়াইভস থ্রাইভস ইন মিসিসাগা।’মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনে কাজ করেন ভারত বা পাকিস্তানের যেসব মানুষ, যাদের বেশিরভাগই মূলতঃ প্রকৌশলী, তারা জীবনের একটা সময় সপরিবারে কানাডায় চলে আসেন অভিবাসী হয়ে। কিন্তু এরা কানাডায় তাদের পেশাগত যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ খুঁজে না পেয়ে আবার ফিরে যান মধ্যপ্রাচ্যেই, তবে পরিবার রেখে যান কানাডায়। মধ্যপ্রাচ্যে তারা ভালোই আয় করেন। সেই অর্থ তারা কানাডায় স্ত্রীদের কাছে পাঠান পরিবারের ভরণপোষণের জন্য। মিসিসাগার কয়েকটি কন্ডোমিনিয়াম, যেখানে থাকতেন এরকম বহু পরিবার, সেগুলো পরিচিত হয়ে উঠে বেগমপুরা নামে। যেখানে স্বামীর অনুপস্থিতিতে বেগম বা স্ত্রীরাই পরিবারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন একা হাতে। কানাডা প্রবাসী সাংবাদিক শওগাত আলী সাগর জানান, এই বেগমপুরার কাহিনি থেকেই মূলতঃ প্রথম বাংলাদেশি ‘বেগমপাড়া’র কথা চালু হয়।শওগাত আলী সাগরই প্রথম ‘বেগমপাড়া’ কথাটি ব্যবহার করেছিলেন টরন্টো স্টারে প্রকাশিত বেগমপুরার কাহিনি তার এক লেখায় বর্ণনা করতে গিয়ে। এরপর বাংলাদেশের অনেকেই এই 'বেগমপাড়া' কথাটি ব্যবহার করেছেন বাংলাদেশের দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী-আমলা-রাজনীতিকদের কানাডায় পাড়ি জমিয়ে সেখানে দ্বিতীয় নিবাস স্থাপনের প্রতি ইঙ্গিত করে। শওগাত আলি সাগর বলেন,‘‘বেগমপুরার যে বেগমরা, তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের কথিত বেগমপাড়ার বেগমদের অনেক তফাৎ।বেগমপুরার বেগমদের স্বামীরা পেশাজীবী, মধ্যপ্রাচ্যে কঠোর পরিশ্রম করে সেই অর্থ কানাডায় পাঠাচ্ছেন তাদের পরিবারের ভরণপোষণের জন্য। অন্যদিকে আমরা যে বেগমপল্লীর কথা বলি, সেটি কিন্তু একেবারেই ভিন্ন অর্থে, যেখানে দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ কানাডায় পাচার করে সেখানে আয়েশি জীবনযাপন করছে তারা সপরিবারে।’’ টরন্টোতে বা কানাডায় সেই অর্থে কী কোন সুনির্দিষ্ট এলাকা আছে, যেটিকে বেগমপাড়ায় বলা হয়? সাংবাদিক শওগাত আলী সাগর বলছেন, এই বেগমপাড়া আসলে কানাডায় পাড়ি জমানো দুর্নীতিগ্রস্তদের স্ত্রীদের দ্বিতীয় নিবাস অর্থে ব্যবহৃত হয়। বাস্তবে এমন কোন সুনির্দিষ্ট এলাকা নেই, যেটিকে 'বেগমপাড়া' বলা হয়।সাজ্জাদ আলি টরন্টোতে একজন রিয়েলেটর (রিয়েল এস্টেট এজেন্ট) হিসেবে কাজ করছেন কয়েক বছর ধরে। তার মতে, এরকম বেগমপাড়া নামে হয়তো কোন এলাকা নেই, কিন্তু এমন জায়গা বাস্তবে রয়েছে, যেখানে এধরণের বহু বাংলাদেশি গিয়ে বসতি গড়েছেন। ‘‘বেগমপাড়া যে শুধু কথার কথা, লোকমুখে শোনা ব্যাপার, তা নয়। আমরা দেখি এখানে বাংলাদেশিরা অনেক সংখ্যায়, এমন সব জায়গায় বাড়িঘর কিনেছেন, যেটা একটু অভিজাত এলাকা। কিন্তু তাদের জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে তাদের এই সম্পদ সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তারা এখানে তেমন কিছু করেন বলে তো আমরা দেখি না। কীভাবে তারা এক বা দুই মিলিয়ন ডলারের একটি বাড়ি কেনার ক্ষমতা রাখেন!’’
১৯৭১ সালের যুদ্ধ নিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের নিন্দা পাকিস্তানের -দৈনিক ইত্তেফাক
গত ১২ ডিসেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া গেটে ১৯৭১ সালের যুদ্ধে বিজয় এবং ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বের ৫০ বছর স্মরণে এক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছিল। সেখানে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বিগত ৫০ বছরে বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং গণতন্ত্রেরও প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে সেই যুদ্ধকে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তার এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। খবর প্রকাশ করেছে দ্য ডন নিউজ।
এক বিবৃতিতে পাকিস্তান বলছে, রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্য অযৌক্তিক, অকারণ ও উসকানিমূলক। তার এই বক্তব্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে হুমকি বলেও অভিহিত করেছে দেশটি।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে রাজনাথ সিং বলেন,‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভারত অবদান রেখেছে। গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে দ্রুত অগ্রসর হয়েছে। যা বাকি বিশ্বের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধের বিজয় পর্ব উদযাপন করতে আজ আমরা ইন্ডিয়া গেটে সমবেত হয়েছি। এই উৎসব ভারতীয় সেনাবাহিনীর গৌরবময় বিজয়কে স্মরণ করিয়ে দেয়। এই বিজয় দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও ভূগোল বদলে দিয়েছে।’ ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনে আমি ভারতীয় সেনাবাহিনীর সৈন্যদের সাহসিকতা, বীরত্ব ও আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা জানাই, যাদের কারণে ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ভারত জয়ী হয়েছিল। ভারত সবসময় তাদের কাছে ঋণী থাকবে।’
এর এক দিন পর গতকাল সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আসিম ইফতিকার আহমাদ বলেন, ‘ঐতিহাসিক সত্য নিয়ে রাজনাথ সিংয়ের অযৌক্তিক ও উসকানিমূলক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে পাকিস্তান এবং সন্ত্রাসবাদের প্রেক্ষাপটে এগুলো ভিত্তিহীন অভিযোগ। এর মধ্য দিয়ে ইসলামাবাদকে হুমকি দিচ্ছে নয়াদিল্লি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতিহাসকে ভুলভাবে উপস্থাপন, সবকিছুর নাম বদলে দেওয়া, বিভ্রান্তিকর চিন্তাভাবনার আশ্রয় ও মিথ্যা সাহসিকতায় লিপ্ত হওয়ার মতো বিষয়গুলোয় ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির একটি শক্তি।’
বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত ট্যাঙ্ক-বিমান উপহার দেবে ভারত : দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
ভারত বাংলাদেশকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত একটি ট্যাঙ্ক ও একটি বিমান উপহার দেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। মঙ্গলবার ভার্চ্যুয়ালি এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বাংলাদেশের ৫০তম বিজয় দিবস উদযাপনে যোগ দিতে ঢাকায় আসছেন। তিনি আগামী ১৫-১৭ ডিসেম্বর ঢাকা সফর করবেন।
এটাই ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের হবে বাংলাদেশে প্রথম সফর।সফরকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রপতি বৈঠক করবেন। সে সময় ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ব্যবহৃত একটি টি৫৫ ট্যাঙ্ক ও একটি মিগ-২৯ যুদ্ধ বিমান বাংলাদেশকে উপহার দেবেন। এই ট্যাঙ্ক ও বিমান প্রদর্শনীর জন্য জাদুঘরে রাখা হবে। আগামীকাল ১৫ ডিসেম্বর ঢাকায় আসছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। সফরকালে ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ হবে।
কেন বিএসএফ-এর ক্ষমতা বৃদ্ধি? জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে চাইল হাই কোর্ট-আনন্দবাজার পত্রিকা
সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-র পরিধি বৃদ্ধি সংক্রান্ত মামলায় কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে চাইল কলকাতা হাই কোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, দু’মাসের মধ্যে ওই বিষয়ে কেন্দ্রকে হলফনামা জমা দিতে হবে। আবার যে হেতু পঞ্জাব সরকারের দায়ের করা এই ধরনের একটি মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন, তাই সেখানে কী হয় সে দিকে তাকিয়েও সব পক্ষ।

পঞ্জাব ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে ৫০ কিলোমিটার পরিধি পর্যন্ত এলাকায় বিএসএফ-এর ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার, যা আগে ছিল ১৫ কিলোমিটার। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় হাই কোর্টে। মামলাকারীর আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় সওয়াল করেন, ‘‘বিএসএফ-এর আইন অনুযায়ী যে কোনও ক্ষেত্রে তাদের কার্যক্ষেত্রের পরিধি বাড়তে পারে। ফলে এখন ১৫ কিলোমিটার, এর পর ৫০ কিলোমিটার, তার পর হয়তো আরও বৃদ্ধি পাবে! তাই এখনই এটাকে আটকানো দরকার।
কংগ্রেস এলে ভাল, না এলে চুপ করে বসে থাকব না’, হাত শিবিরকে বার্তা তৃণমূলের’ আজকাল
গোয়ায় জোটে এলে ভাল, তবে চুপ করে বসে থাকবে না দল, মুখপত্রে ফের বার্তা দিল তৃণমূল। প্রসঙ্গত, ২০২২-এর বিধানসভা ভোটে গোয়ায় লড়ছে ঘাসফুল শিবির। গতকাল এনসিপি বিধায়ক আলেমাও চার্চিল মমতা ব্যানার্জির উপস্থিতিতে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ফের কংগ্রেসকে কটাক্ষ করল তৃণমূল। মুখপত্রে তৃণমূলের তরফে বলা হয়েছে, ‘বিজেপির বিরুদ্ধে গোয়ায় লড়বে তৃণমূল কংগ্রেস। সঙ্গে রয়েছে জোট। কংগ্রেস এলে ভাল।

কিন্তু কংগ্রেসের জন্য চুপ করে বসে থাকবে না। লড়াই টুইটে হয় না। মাঠে নেমে লড়তে হয়। ফলে লড়াই হবে। খেলা হবে। মানুষ বাংলার মতো গোয়াতেও প্রমাণ করবেন, দেশে আসল কংগ্রেস হল তৃণমূল কংগ্রেস।’ এরই পাশাপাশি কংগ্রেস-সিপিএমের আগে গোপন আঁতাঁত ছিল বলে দাবি করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। এরই সঙ্গে তাদের বক্তব্য, ‘এখন প্রকাশ্যে সেটি। নিট ফল দুই দলই বাংলায় শূন্য।’
রাওয়াতের পরে সেনা সর্বাধিনায়ক কে? প্রধানমন্ত্রীর পছন্দই সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর- প্রতিদিন
গত বুধবার ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আকস্মিক মৃত্যু হয় দেশের প্রথম সেনা সর্বাধিনায়ক (CDS) বিপিন রাওয়াতের (Bipin Rawat)। দেশের প্রতিরক্ষায় তিন বাহিনীর প্রধান জেনারেল রাওয়াতের এভাবে আচমকা চলে যাওয়া দেশের নিরাপত্তা বলয়ে নিঃসন্দেহে বড়সড় ধাক্কা। আর এই পরিস্থিতিতেই উঠছে এক অমোঘ প্রশ্ন। এবার কাকে দেওয়া হবে এই গুরুদায়িত্ব? মনে করা হচ্ছে, এই তালিকায় রয়েছে ৪ থেকে ৬ জনের নাম। তাঁদেরই মধ্যে থেকে একজনকে বেছে নেওয়া হবে। আর সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পিছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)।

ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, পরবর্তী সেনা সর্বাধিনায়ক বাছার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর মূলত দু’টি। এক, যাঁর ট্র্যাক রেকর্ড সবচেয়ে উজ্জ্বল। দুই, যিনি প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে বিশ্বাসভাজন হবেন। উল্লেখ্য, মোদিই এই সংক্রান্ত নিয়োগ কমিটির শীর্ষপদে রয়েছেন। কিন্তু কেবল সেই কারণেই মোদির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ তা নয়। আসলে প্রধানমন্ত্রীর হৃদয়ের খুব কাছাকাছি ভারতীয় সেনা। তাই তাঁর মত এক্ষেত্রে এতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। শেষ পর্যন্ত কাকে তিনি ও তাঁর কমিটি বেছে নেয় আপাতত সেদিকেই নজর সকলের।#
পার্সটুডে/বাবুল আখতার/১৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।