জুন ১৯, ২০১৬ ১৪:২২ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক!১৯ জুনের কথাবার্তার আসরে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। শুরুতেই বাংলাদেশ ও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ দৈনিকের বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম। এরপর বাছাইকৃত কিছু খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ঢাকার দৈনিকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম:

নিহত যুবক অভিজিৎ হত্যায় ‘জড়িত’: প্রথম আলো

বিচারবহির্ভূত হত্যার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় বিএনপি: প্রথম আলোর আরেকটি শিরোনাম

আসল ঘটনা আড়াল করতেই ফাহিমকে ক্রসফায়ার: বিএনপি: ইত্তেফাক

কারাগারে বন্দীদের সংখ্যা ধারণ ক্ষমতার তিনগুণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটিও ইত্তেফাকের শিরোনাম

ফাহিমের 'বন্দুকযুদ্ধে' মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে: মানব জমিন

এই বন্দুকযুদ্ধ কিসের আলামত : এরশাদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের শিরোনাম

ক্রসফায়ারের কিচ্ছা এখন কেউ বিশ্বাস করে না : বিবিসিকে শাহদিন মালিক, নয়াদিগন্তের শিরোনাম

কোলকাতার দৈনিকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম:

টাকা চায়নি, নারদ ভাইদের ক্লিনচিট দিয়ে দিলেন দিদি: আনন্দবাজার পত্রিকার শিরোনাম

কংগ্রেসের কর্মসূচিতে সূর্যকান্তকে আমন্ত্রণ জানালেন অধীর: বর্তমান পত্রিকা

পরিবারের নিরাপত্তায় আইন ভাঙায় সায় সুপ্রিম কোর্টের: সংবাদ প্রতিদিনের শিরোনাম

তো শিরোনামের পর এবার বাংলাদেশ ও ভারতের নির্বাচিত শিরোনামগুলোর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিস্তারিত।

নিহত যুবক অভিজিৎ হত্যায় ‘জড়িত’ এই শিরোনামে পত্রিকাটি লিখেছে,

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত যুবকের পরিচয় পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। তাদের ভাষ্য, নিহত যুবকের নাম শরিফুল। তিনি পুরস্কার ঘোষিত ছয় জঙ্গির একজন। লেখক অভিজিৎ রায়সহ অন্য সাতটি হত্যায় জড়িত তিনি।

আজ রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের অনলাইন সংবাদমাধ্যম ডিএমপি নিউজে এসব দাবি করা হয়েছে।

 

ডিএমপি নিউজে বলা হয়েছে, গতকাল শনিবার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া এলাকায় মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শরিফুল নিহত হন।

 

পুলিশের ভাষ্য, নিহত শরিফুল একাধিক নামে পরিচিত। যেমন: সাকিব ওরফে শরীফ ওরফে সালেহ ওরফে আরিফ ওরফে হাদি। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সামরিক ও আইটি শাখার প্রধান ছিলেন।

 

পুলিশের দাবি, অভিজিৎ হত্যার তদন্তে সিসিটিভির ফুটেজে শরিফুলের উপস্থিতি ধরা পড়েছে।

ডিবির উপকমিশনার (দক্ষিণ) মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া পুরস্কার ঘোষিত জঙ্গি সুমন হোসেন পাটোয়ারির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এর অংশ হিসেবে গতকাল দিবাগত রাতে খিলগাঁও এলাকায় অভিযানে যায় ডিবি। এ সময় সন্দেহভাজন তিন যুবকের সঙ্গে ডিবির গুলিবিনিময় হয়। এতে একজন নিহত হয়।

মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, ‘প্রথমে আমরা নিহত যুবককে চিনতে পারিনি। পরে দেখি, তাঁর সঙ্গে পুরস্কার ঘোষিত জঙ্গি শরিফুলের মিল রয়েছে।’

 

বিচারবহির্ভূত হত্যার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় বিএনপি: প্রথম আলো এই শিরোনামে লিখেছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান।

দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে মূলত ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

গতকাল শনিবার সকালে মাদারীপুরে কলেজশিক্ষক হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে থাকা আসামি গোলাম ফয়জুল্লাহ ফাহিম পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। সাম্প্রতিক এ ধরনের আরও ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এই ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরোধিতা বরাবরই করে এসেছি, এখনো করছি এবং আমরা এই ধরনের হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি। অবিলম্বে এটা বন্ধ করা উচিত।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ‘ক্রসফায়ারের’ হুমকি দেওয়ার পর পুলিশ হত্যার লাইসেন্স পেয়ে যায়। পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর ক্রসফায়ারের হুমকিকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করে।

তারেক রহমানকে নিয়ে গতকাল প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যকে অরুচিকর, কুৎসাপূর্ণ, অসংস্কৃত, উসকানিমূলক ও ভয়ংকর প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আখ্যায়িত করেন ফখরুল। তিনি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

 

এই বন্দুকযুদ্ধ কিসের আলামত : এরশাদের এই জিজ্ঞাসা সম্পর্কে বাংলাদেশ প্রতিদিনে এসেছে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশ আজ আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, যা আমাদের জন্য লজ্জাকর।’ তিনি বলেন, ‘একসময় শুনেছি ক্রসফায়ার। এখন শুনছি বন্দুকযুদ্ধ। এগুলো কিসের আলামত? তারা কি মানুষ না? বিচার পাওয়ার অধিকার কি তাদের নাই? দেশে এত রক্তপাত, এ জন্য পরিবর্তন দরকার। মানুষও আজ পরিবর্তন চায়।

 

প্রিয় পাঠক! বাংলাদেশের পর এবার ভারতের বাংলা দৈনিকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর খানিকটা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরছি।

টাকা চায়নি, নারদ ভাইদের ক্লিনচিট দিয়ে দিলেন দিদি: আনন্দবাজার পত্রিকা এই শিরোনামে লিখেছে: নারদ কাণ্ডে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন শুক্রবার। নবান্ন থেকে লালবাজারে সেই ফাইল পৌঁছতেও পারল না। শনিবারই ভাইদের ক্লিনচিট দিয়ে দিলেন দিদি। সেই সঙ্গে কার্যত বুঝিয়ে দিলেন, নারদ স্টিং অপারেশনে আসলে ঘুষ কাণ্ডের তদন্ত হবে না, তদন্ত হবে নারদ চক্রান্তের। কেন এবং কী উদ্দেশ্যে সেই টাকা দেওয়া হয়েছিল, চক্রান্তের নেপথ্যে ছিলেন কারা, তৃণমূলের বিরুদ্ধে কুৎসা প্রচারের জন্য এই ষড়যন্ত্রের জাল কত দূর ছড়িয়ে ছিল— সব তদন্ত করে বের করা হবে। দিদির কথায়, ‘‘দেখা যাক, কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে পড়ে কি না!’’

দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার ঠিক এক মাস পর শনিবার নেতাজি ইন্ডোরে দলের সব স্তরের নেতা-কর্মীদের নিয়ে রাজনৈতিক কর্মশালা করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়েই এ দিন নারদ কাণ্ডকে স্পষ্টত ‘ব্ল্যাকমেল’ এবং ‘চক্রান্ত’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভোটের মুখে এই স্টিং অপারেশনের মাধ্যমে তৃণমূলের ভাবমূর্তি মলিন করার চেষ্টা হয়েছে বলে ক্ষোভ জানিয়ে এর পরই দিদি গর্জে ওঠেন। বলেন, ‘‘যারা আমাদের দলকে অসম্মান করেছে, তাদের মুখোশটা এ বার খুলে দিতে হবে।’’

কংগ্রেসের কর্মসূচিতে সূর্যকান্তকে আমন্ত্রণ জানালেন অধীর: বর্তমান পত্রিকা এই শিরোনামে লিখেছে, কংগ্রেসের নিজস্ব কর্মসূচিতে চিঠি দিয়ে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রকে আমন্ত্রণ জানালেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি। নিত্যপ্রয়োজনীয় সমস্ত পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সারা রাজ্যে বিরোধীদের উপর তৃণমূল কংগ্রেসের হামলার প্রতিবাদে আগামী শনিবার মৌলালির রামলীলা ময়দান থেকে ময়দানের গান্ধীমূর্তির পাদদেশ পর্যন্ত মহামিছিলের ডাক দিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। সেই মিছিলেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে সূর্যকান্তবাবুকে। জবাবে সূর্যকান্তবাবু অধীরবাবুকে জানিয়েছেন, সময় পেলে আসবেন। শুক্রবারই বিধানসভায় কংগ্রেস পরিষদীয় দলের সঙ্গে বৈঠকে অধীরবাবু দলীয় সতীর্থদের ‘নিজস্বতা’ ধরে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই দিনে বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীসহ অন্যান্য বাম বিধায়করা কংগ্রেসকে ছাড়াই সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন। ফলে অনেকের মনে হয়েছিল, সিপিএম-কংগ্রেস এবার দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেছে। কিন্তু এদিন সেই জল্পনায় জল ঢেলে অধীরবাবু নিজেই জানিয়ে দিলেন, কংগ্রেসের মহামিছিলে সূর্যকান্তবাবুকে তিনি নিজে চিঠি লিখে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে সিপিএম ছাড়া বাকি বামফ্রন্ট শরিকদের বিষয়ে তিনি কোনওরকম উৎসাহ দেখাননি এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে।#

 

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/১৯