মার্চ ০৮, ২০১৭ ১৩:১৫ Asia/Dhaka

রংধনু আসরের শিশু কিশোর বন্ধুরা! কেমন আছ তোমরা? আশা করি ভালো ও সুস্থ আছ। আজকের আসরের শুরুতেই রয়েছে তিনটি মাছ ও এক শিকারির গল্প। এরপর একটি গান এবং সবশেষে একটি ইতিহাসের কৌতুক।

একটা ছোট্ট পুকুরে বাস করত তিনটি মাছ। মাছগুলো ছিল দেখতে বেশ সুন্দর এবং নাদুশ-নুদুশ। কিন্তু ছোট্ট পুকুরের ভেতর মাছগুলোর খুব কষ্ট হচ্ছিল। তাছাড়া তাদের জীবনেরও নিরাপত্তা ছিল না। কখন না জানি শিকারির চোখে পড়ে যায় এ নিয়ে তাদের চিন্তার অন্ত ছিল না।

একদিন হলো কী..সত্যি সত্যিই ওই পুকুরের পাড় দিয়ে যাচ্ছিল এক মাছ শিকারী। হৃষ্টপুষ্ট আর সুন্দর মাছগুলো শিকারির চোখ এড়াল না। শিকারী মাছগুলোকে দেখে ফেলল। এরপর একাকি সে বিড়বিড় করে বলল: জাল দিয়ে হোক, বড়শি দিয়েই হোক মাছগুলোকে ধরতেই হবে।

মাছগুলোর মধ্যে একটা ছিল খুবই বুদ্ধিমান এবং দূরদর্শী। আরেকটি মাছের মোটামুটি এতটুকু বুদ্ধি ছিল যে বুঝতে পারত পালানো উচিত এবং কীভাবে পালানো যায় তা-ও ভাবতে পারত আরকি...তবে তৃতীয় মাছটি ছিল বোকা এবং অলস...খামোখা সময় নষ্ট করত সে।

বুদ্ধিমান মাছটি মনে মনে ভাবল: এই বালা-মুসিবৎ থেকে যে করেই হোক প্রাণে বাঁচতে হবে...শিকারী যে-কোনো মুহূর্তেই চলে আসতে পারে, তাই ছোট্ট এই পুকুর থেকে দ্রুত পালিয়ে যেতে হবে বিশাল সমুদ্রের দিকে। সে তার চিন্তাটা গোপন রাখার চেষ্টা করল এবং বাদবাকি মাছ দুটোকে জানাবে না বলে সিদ্ধান্ত নিল। কারণ সে ভাবল, কথাটা যদি সবাইকে জানিয়ে দেয় তাহলে তারা বলবে: সমুদ্রে যাবার জন্যে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে, অনেক কষ্ট হবে, অনেক সমস্যা, এটা সেটা আরো কত্তো কী...এসব বলে-টলে তারা হয়তো তাকে তার সিদ্ধান্ত পাল্টাতে বাধ্য করে বসতে পারে..।

বুদ্ধিমান মাছটি কীভাবে কী করছে- কাউকে কিচ্ছু না জানিয়ে একাকি রওনা দিল। সমুদ্রে যাবার জন্যে সে এক্কেবারে সরু ও বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিল এবং শেষপর্যন্ত  সমুদ্রে গিয়ে পৌঁছে গেল সে।

দ্বিতীয় মাছটির বুদ্ধিশুদ্ধি একেবারে তীক্ষ্ণ না হলেও মোটামুটি ছিল অর্থাৎ একেবারে বোকা ছিল না। শিকারীরা যখন তাকে দেখতে পেল তখনি তার টনক নড়ল। বুঝতে পেল অলসতা করে ফেলেছে এবং শিকারিরা ওঁৎ পেতে আছে তাকে ধরার জন্যে। নিজেকেই নিজে ধিক্কার দিতে লাগলো- ইস্ কেন যে অলসতা করলাম, কেন বুদ্ধিমান মাছটির সাথে চলে গেলাম না..গেলে তো জানটা অন্তত রক্ষা পেত..আহ..এখন যে কী হবে...!

ভাবতে ভাবতে হঠাৎ মাছটির মনে হলো..এখন তো রাগ করার সময় নয়; এখনো যেটুকু সময় হাতে আছে তাকে কাজে লাগানো উচিত। কীভাবে নিজেকে রক্ষা করা যায় সেই চিন্তা করা উচিত..এই ভেবেই মাছটি তাড়াতাড়ি বুক আকাশের দিকে আর পিঠটাকে পানির দিকে দিয়ে মরার ভান করে ভেসে উঠল। কোনোরকম নড়াচড়া না করে মাছটি ভেবেছিল পানির সরু একটি নালায় গা ভাসিয়ে দিয়ে পার হয়ে যাবে। কিন্তু শিকারী মাছটাকে ধরে ফেলল ঠিকই। ধরে পুকুরের পাড়ে মাটির ওপর ফেলে রাখল। মাছটি যেহেতু কোনোরকম নড়াচড়া করল না, সেহেতু শিকারী ভেবেছিল..ওটা কতদিনের মরা কে জানে। তাই সেখানেই ফেলে রেখে চলে গেল। শিকারীরা যখন কিছুটা দূরে চলে গেল। মাছটি তখন লাফিয়ে লাফিয়ে পুকুরে পড়ে প্রাণে রক্ষা পেল।

মাছটির বুদ্ধির প্রশংসা করতে হয়। আসলে উপস্থিত বুদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। ঠাণ্ডা মাথায় মাছটি ওভাবে তার বুদ্ধিটাকে কাজে না লাগালে নির্ঘাৎ তার মৃত্যু হতো...

বন্ধুরা, তোমরা নিশ্চয়ই তৃতীয় মাছটির ভাগ্য সম্পর্কে জানতে চাচ্ছো। তোমরা আগেই জেনেছ যে, তৃতীয় মাছটি ছিল একটু আহাম্মক টাইপের। খামোখা সময় নষ্ট করত।  তবে, এইমাত্র সে বুঝতে পারল যে তার সামনে বিপদ। তাই অস্থির হয়ে পড়লো।কী করবে না করবে ভেবে কুল পাচ্ছিল না। এদিক-ওদিক খালি দৌড়াদৌড়ি করতে লাগল। ভেবেছিল দৌড়াদৌড়ি করে হয়তো বিপদ থেকে বাঁচা যাবে কিন্তু কীভাবে তা সে নিজেও জানত না। অগত্যা সে শিকারীর পাতা জালে আটকা পড়ে গেল। আটকে গিয়েও সে এফোঁড়-ওফোঁড় করার চেষ্টা করল নিজেকে বাঁচাতে। কিন্তু যতোবারই সে জালের ঘরে আটকাল, ততবারই আহত হলো। আহত হতে হতে ক্লান্ত হয়ে পড়ল। ক্লান্তির ভারে এক সময় সমস্ত শক্তি হারিয়ে ফেলল এবং শিকারীর হাতে ধরা পড়ে গেল।

শিকারির হাতে ধরা পড়ার পর মাছটা মনে মনে বলল: এবার যদি কোনোভাবে বেঁচে যেতে পারতাম তাহলে আর কোনোদিন অলসতা করতাম না। যেভাবেই হোক যতো কষ্টই হোক সমুদ্রে পাড়ি জমাবো। আর একবার যদি সমুদ্রের বিশাল অস্তিত্বের সাথে গিয়ে মিশে যেতে পারি তাহলে তো ভয়ের কিছু থাকবে না..নিশ্চিন্তে জীবন যাপন করব।

কথায় বলে 'বিপদ এলে বোকারও বুদ্ধি খোলে'। বোকা মাছটাও তাই বলেছিল  নিজের বুদ্ধিতে যদি না কুলায়, তাহলে যাদের বুদ্ধি আছে তাদের সাথে গিয়ে যোগ দেবে, কীভাবে বিপদ থেকে রক্ষা পেতে হয় সেই বুদ্ধি এবং কলাকৌশল জেনে নেবে তবু সমুদ্রে যাওয়া চাই..ই..চাই..নিরাপদ জীবন যাপন করা চাই।

কিন্তু তার আর সুযোগ হলো না। সকল সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেল। কথায় বলে, চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে। সে জন্যেই সময় থাকতেই সময়ের মর্যাদা বুঝতে হয়।

বন্ধুরা, এই গল্পটিতে তোমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ আছে।  উপদেশটি হলো- সবকিছুরই একটা সময় আছে। সময় পেরিয়ে গেলে বোকা মাছটির মতোই পস্তাতে হবে।

শুধু তাই নয়, যারা স্কুলে যায়..পড়ালেখা করে..তাদেরকে বুঝতে হবে পরীক্ষার সময় যখন আসে তখন পড়ালেখা না করে যদি খেলাধুলা নিয়েই ব্যস্ত থাকে..তাহলে কিন্তু ফল অত্যন্ত খারাপ হবে। এমনকি ফেলও করে বসার আশঙ্কা থাকে। এজন্যেই কবি লিখেছেন:

পড়ার সময় হেলা তো নয়

পড়া লেখাই ঠিক

তবেই চলবে জীবনঘড়ি

টিক টিক টিক টিক।

বন্ধুরা,এবারে রয়েছে একটি ইতিহাসের কৌতুক। তোমরা নিশ্চয়ই বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের নাম শুনেছ। তার বোকামি নিয়ে নানারকম গল্প শোনা যায়। একটি গল্প ছিল এ রকম: 

আইনস্টাইন একবার ট্রেনে করে এক কনফারেন্সে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। একসময় টিকেট চেকার টিকেট চেক করতে করতে তার কাছে এল। আইনস্টাইন টিকেটের জন্য কোটের পকেটে হাত ঢুকালেন, সেখানে নেই। তারপর প্যান্টের পকেটে, না, সেখানেও নেই। তিনি ব্রিফকেস খুলে দেখলেন, পাশের সিটে খুঁজলেন, কিন্তু কোথাও টিকেট পেলেন না। এই অবস্থায় চেকার বললেন, আপনাকে আমি চিনি, আমরা সবাই-ই চিনি। আপনি নিশ্চয়ই টিকেট কিনছিলেন। দয়া করে এটা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হবেন না।

আইনস্টাইন মাথা নোয়ালেন। টিকেট চেকার বাকি যাত্রীদের টিকেট চেক করতে লাগলেন। কামরা ছেড়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলেন আইনস্টাইন হাত আর হাঁটুর উপরে ভর দিয়ে সিটের নিচে টিকেট খুঁজছেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে গেলেন। বললেন, জনাব আইনস্টাইন, আপনি খামাখা চিন্তা করছেন, আমি আপনাকে চিনি। এখানকার সবাই আপনারে চিনে। কোনো সমস্যা হবে না। বললাম তো, আপনার টিকেট লাগব না!

আইনস্টাইন তার দিকে তাকালেন এবং বললেন, আরে বাবা, খালি তুমি তো আমারে চিনো না, আমিও আমাকে খানিক চিনি। আর সমস্যাটা সেখানেই।

এই কথা শুনে চেকার বললেন, মানে?

জবাবে আইনস্টাইন বললেন, আমি কোন স্টেশনে নামব মনে করতে পারছি না। ওইটা টিকেটে লেখা আছে। তাই টিকেটটা খুব দরকার!#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৮