জুন ০৬, ২০১৭ ১৪:৩২ Asia/Dhaka

পবিত্র রমজান আমাদেরকে মহান আল্লাহর প্রকৃত দাস হওয়ার শিক্ষা দেয়। প্রকৃত দাসের লক্ষ্য হওয়া উচিত কিসে মহান আল্লাহ বেশি ও সর্বোচ্চ মাত্রায় সন্তুষ্ট হন তা জানা এবং এরই আলোকে কাজ করা।

মহান আল্লাহর একজন প্রকৃত দাসই হতে পারেন তাঁর প্রকৃত প্রেমিক। একজন প্রকৃত দাসের দৃষ্টান্ত বোঝা যেতে পারে একটি সত্য ঘটনা থেকে। একজন ধনী ব্যক্তি এক বালককে দাস হিসেবে নিয়োগ করেন। ওই ব্যক্তি সেই বালক দাসকে প্রশ্ন করেন: তোমার নাম কী বা তোমাকে কি নামে ডাকা যেতে পারে? বালকটি বলল: আপনি পছন্দ করে আমাকে যে নামে ডাকতে চান সেটাই আমার নাম, এ ছাড়া আমার অন্য কোনো নামের দরকার নেই। এরপর মালিক প্রশ্ন করেন: তোমাকে কতো বেতন দিতে হবে? বালকটি বলল: আপনার কাছে আমার কোনো দাবি নেই। আপনি চাইলে কিছু দিতে পারেন আর কিছু না দিলেও আমার পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি নেই।  এরপর মালিক বললেন, তোমার থাকার বা শোয়ার ঘর কোথায় হলে ভালো হয়? ছেলেটি বলল: আপনার যেখানে খুশি সেখানেই আমি থাকবো, আমার নিজস্ব কোনো পছন্দ নেই। মালিক আরও বললেন: তোমাকে কোন্ ধরনের খাবার ও তা কতটা দিতে হবে? বালকটি বলল: এটাও একান্তই আপনারই ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। আমার এ ক্ষেত্রেও কোনো দাবি নেই। 

বালক দাসটির এমনসব উত্তর শুনে ধনী মালিক কেঁদে ফেললেন। বালকটি বলল: আমার মালিক! আমি কি আপনাকে কোনো কষ্ট দিয়েছি? ওই ব্যক্তি বললেন: না, আমি কাঁদছি এ জন্য যে আল্লাহর মোকাবেলায় আমারও তো এমনই কামনা-বাসনাহীন ও বিনীত হওয়া উচিত ছিল, অথচ আল্লাহর দরবারে আমার চাওয়া-পাওয়ার তালিকা বেশ দীর্ঘ ও তা অনেক সময় অশেষ হয়ে পড়ে। 

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য কামনা কর। অনেকেই মনে করেন এখানে ধৈর্য বলতে রোজা বা সংযমকে বোঝানো হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, রোজা আত্মরক্ষার ঢালস্বরূপ।  রমজানে পাপ থেকে মুক্ত থাকার প্রশিক্ষণ নেয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে পাপের কুফল ও পরিণতি সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।

আমরা অনেক সময় জালিমের জুলুমের ভয়ে বা জুলুমের বিরুদ্ধে কেউ এগিয়ে আসছে না দেখে পাপে জড়িয়ে পড়ি। আসলে জালিমদের বাহ্যিক ভালো অবস্থা দেখে হতাশ হতে নেই। 

মহানবী (সা.) বলেছেন, " যখন তোমরা কেউ দেখ যে, কেউ অন্যায়, অবিচার ও পাপাচার করে চলেছে অথচ আল্লাহ তাকে অঢেল নিয়ামত দান করেছেন, তখন বুঝে নিও যে আল্লাহ তার রশিটা বেশি লম্বা বা দীর্ঘ করে দিয়েছেন, আর আল্লাহ এক টানেই এদের গুটিয়ে ফেলবেন।" 
 
অনেক সময় আমরা একই বিষয়ে নানা পথ ও মত দেখে বিভ্রান্ত হই এবং হতাশ হয়ে ধর্ম থেকেই দূরে সরে পড়ি। অথচ পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন,
'যারা মনোনিবেশ সহকারে (নানা মতের) কথা শুনে, অতঃপর যা উত্তম, তার অনুসরণ করে। তাদেরকেই আল্লাহ সৎপথ প্রদর্শন করেন এবং তারাই বুদ্ধিমান।' (সুরা জুমার-১৮) 

 বিশ্বনবী (সা.)'র হাদিসে এসেছে, আমার উম্মতের মধ্যে ৭২ ফিরকা হবে। তবে ৭২ ফিরকার মধ্যে কেবল এক ফিরকাই বেহেশতে যাবে। -এখানে ৭২ ফিরকা বলতে হুবহু যে ৭২ ফিরকা বোঝানো হয়েছে তা নয়। বাস্তবে মুসলমানদের মধ্যে ৭২টি নয় বরং শত শত ফিরকা সৃষ্টি হয়েছে নানা যুগে।

মহানবী (সা.) বলেছেন, আমার আহলে বাইত হচ্ছে নুহের কিশতির সমতুল্য, যারা তাতে আরোহণ করবে, তারা নাজাত পাবে, আর যারা তাতে আরোহণ করবে না তারা নাজাত পাবে না। মহানবী (সা.) আরও বলেছেন, পবিত্র কুরআন ও আহলে বাইত কখনও বিচ্ছিন্ন হবে না পরস্পর থেকে।

মহান আল্লাহ আমাদেরকে যেন পবিত্র কুরআনের অনুসারী করেন এবং বিশ্বনবী (সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি অসংখ্য দরুদ ও সালাম পাঠানোর উসিলায় আমাদেরকে চরম প্রশান্তি ও সৌভাগ্য লাভের সুযোগ দান করেন।#

পার্সটুডে/মু.আ.হুসাইন/৬