আগস্ট ১৮, ২০১৮ ১১:৩৩ Asia/Dhaka
  • তিন মহাসড়কে তীব্র যানজট, দুর্ভোগে ঈদযাত্রীরা

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৮ আগস্ট শনিবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ নির্দেশনা- দৈনিক ইত্তেফাক
  • মির্জা ফখরুলের বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল: কাদের- দৈনিক প্রথম আলো
  • একটি অন্যরকম প্রতিবাদ- দৈনিক মানবজমিন
  • সোমবারের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে মতামত দেবেন অ্যাটর্নি জেনারেল- দৈনিক সমকাল
  • তিন মহাসড়কে তীব্র যানজট, দুর্ভোগে ঈদযাত্রীরা- দৈনিক যুগান্তর
  • গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ফারিয়া রিমান্ডে-দৈনিক মানবজমিন
  • ভারতের শিরোনাম:
  • একা হেঁটে মোদী বোঝাতে চাইলেন, তিনিই বাজপেয়ীর উত্তরসূরি!- দৈনিক আনন্দবাজার
  • বিনা লড়াইয়ে জয়ী পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদে বসছে তদারক-দৈনিক বর্তমান
  • কেরলে ‌আরও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি, ৫০০ কোটির সাহায্য ঘোষণা কেন্দ্রের- দৈনিক আজকাল

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা‍! এবারে চলুন বাছাই করা কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ:

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ নির্দেশনা- দৈনিক ইত্তেফাক

স্বল্পসময়ে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্ত্তৃপক্ষকে কিছু বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চলমান অবস্থায় গাড়ির দরজা বন্ধ রাখতে হবে। স্টপেজ ছাড়া যেখানে সেখানে গাড়ি থামানো যাবে না।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘গভর্নেন্স ইনোভেশন  ইউনিট’ এর এক সভায় ‘ঢাকা শহরে ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনার পর এসব সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মোঃ নজিবুর রহমান। সভায় অটো সিগন্যাল এবং রিমোট কন্ট্রোলড অটোমেটিক বৈদ্যুতিক সিগনালিং পদ্ধতি চালু করারও সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় আরো সিদ্ধান্ত হয়, গণপরিবহনে (বিশেষ করে বাস) দৃশ্যমান দু’টি স্থানে চালক এবং হেলপারের ছবিসহ নাম এবং চালকের লাইসেন্স নম্বর, মোবাইল নম্বর প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান এবং এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সকল মোটর সাইকেল ব্যবহারকারীকে (সর্বোচ্চ দুইজন আরোহী) বাধ্যতামূলক হেলমেট পরিধানের ব্যবস্থা গ্রহণ ও সিগন্যালসহ ট্রাফিক আইন মানার জন্য বাধ্য করতে হবে।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল: কাদের- দৈনিক প্রথম আলো

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য আবার দেশকে ‘স্বাধীন’ করতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আহ্বান রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় ১৭ আগস্ট সারা দেশে সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এই সমাবেশে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন।

ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে আজ শুক্রবার দুপুরে এক সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেন, ‘দেশের জনগণকে আহ্বান জানাব যে শুধু এই নিরাপদ সড়ক নয়, নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য আপনারা এগিয়ে আসুন, আপনারা জেগে উঠুন। আপনারা দেশকে “স্বাধীন” করুন।’ তাঁর এই মন্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলামের বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকেরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি প্রশ্ন রাখতে চাই, এটা কি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল নয়? এর যদি বিচার করতে হয়, ফখরুলকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে বিচার করলে কি ভুল হবে?’ তিনি বলেন, ‘ফখরুল ইসলাম এখনো গ্রেপ্তার হননি, রাষ্ট্রদ্রোহিতার কথা বলে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।’

একটি অন্যরকম প্রতিবাদ- দৈনিক মানবজমিন

এটা হয়তো অন্যরকম এক প্রতিবাদ। বর্তমান শাসনব্যবস্থা, বাকস্বাধীনতা হরণ ও প্রশ্নবিদ্ধ গণতন্ত্রের প্রতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুশফিক মাহবুব ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখে গেছেন কষ্টের কথা। ক্ষোভের কথা। গত ১৫ই আগস্ট নিজ বাড়ির ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার পর তার এ ফেসবুক স্ট্যাটাসকে অনেকেই দেখছেন সুইসাইড নোট হিসাবে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেমুশফিকের সেই স্ট্যাটাস এখন ‘ভাইরাল’।সর্বত্র এ নিয়ে চলছে আলোচনা।

ঢাবির সংগীত বিষয়ের এই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করার প্রায় দশ ঘণ্টা আগে ফেসবুকে লেখেন, ‘দুর্নীতিগ্রস্ত  শাসন ব্যবস্থায় কিছু বলার ন্যূনতম অধিকার থাকে না। এখন এটা বোঝার সময় হয়েছে যে, তোমার কণ্ঠস্বরের কোনো মূল্য নেই। তাই কথা বলা বন্ধ করুন ও সরকারের ভৃত্য হিসেবে তাদের প্রশংসা করা শুরু করুন। কি করতে হবে এবং কি করা যাবে না, শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদেরকে তা বলে দেয়। যেন সমাজ আমাদেরকে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যে সমাজ আমাদেরকে জেলে পাঠানো বা হত্যা করার ক্ষমতা রাখে। এমনকি আমাদের মৃতদেহ এমন জায়গায় ছুড়ে ফেলার ক্ষমতা তাদের আছে, যেখান থেকে কেউ তা খুঁজে পাবে না। এ বিষয়ে আপনাদের অনুভূতি কি? কে তাদেরকে এই ক্ষমতা দিয়েছে? গণতন্ত্র? নাকি এটা গণতন্ত্রের নামে নিয়ন্ত্রণের সুযোগ, যেখানে আমাদেরকে ক্ষমতাসীনদের প্রশংসা করতে হবে, তাদেরকে মেনে চলতে হবে। এটা কি শুধু আপনাদের হাতে বন্দুক আছে বলে? এটাই বিশ্বের সব ক্ষমতা না। বাংলাদেশি হিসেবে আমি স্বাধীনতা চাই। এমনকি এই চাওয়ার জন্য তারা যদি আমাকে হত্যা করে, তাও আমি এটা চাই’।

আত্মহত্যার পর নিহত মুশফিকের বন্ধুমহলও বলেছে, মৃত্যুর আগে প্রায়ই দেশ নিয়ে, দেশের সার্বিক অবস্থা নিয়ে নানা আড্ডায় কথা বলতো। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অনেকটাই অসন্তুষ্ট ছিল ২৪ বছর বয়সী এ শিক্ষার্থী। কিছুতেই অন্যায় দুঃশাসনকে সমর্থন করতেন না মুশফিক।  তবে এসবই যে তার আত্মহত্যার মূল কারণ হতে পারে তা ভাবতে নারাজ বন্ধুরা।

সোমবারের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে মতামত দেবেন অ্যাটর্নি জেনারেল- দৈনিক সমকাল

আগামী সোমবারের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে নিজের মতামত দেবেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। শুক্রবার সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন তিনি। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন,  আমি দুই-তিন দিন আগে চিঠি পেয়েছি। চিঠিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে আমার মতামত চাওয়া হয়েছে। আগামী সোমবারের মধ্যে আমার মতামত দেবো।

এর আগে গত ১৩ আগস্ট সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং কোটা সংস্কার ও পর্যালোচনা কমিটির প্রধান মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, সরকারি চাকরিতে কোটা প্রায় পুরোটাই উঠিয়ে দেয়ার পক্ষে সংস্কার ও পর্যালোচনা কমিটি। তিনি বলেন, আমাদের সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত। আমাদের কমিটির প্রাথমিক সুপারিশ হল— কোটা অলমোস্ট উঠিয়ে দেওয়া, মেধাকে প্রাধান্য দেওয়া।

তবে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন,  সুপ্রিম কোর্টের একটা রায় আছে, মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা প্রতিপালন ও সংরক্ষণ করতে হবে এবং যদি খালি থাকে খালি রাখতে হবে।  এ বিষয়ে আদালতের মতামত চাওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন,  সরকার আদালতের কাছে মতামত চাইবে। আদালত যদি বাতিল করে দেন, তবে কোটা থাকবে না। আর যদি আদালত বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণ করতে হবে, তাহলে ওই অংশ বাদে বাকি সবটুকু উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

তিন মহাসড়কে তীব্র যানজট, দুর্ভোগে ঈদযাত্রীরা- দৈনিক যুগান্তর

ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজটে চরম দুর্ভোগে পড়েন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা। তিন দিন ধরেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ও কুমিল্লায় থেমে থেমে যানজট লেগেই আছে।

শুক্রবারও এ দুটি স্থানে যথাক্রমে ২০ ও ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনে বসে কাটাতে হয় যাত্রীদের। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা এ সময় অত্যধিক কষ্ট পান। পরিবহন শ্রমিকরাও প্রখর রোদে ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে পড়েন।

এদিকে বেতন ও বোনাসের দাবিতে গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন একটি কারখানার শ্রমিকরা। এতে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় ৭ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা প্রচণ্ড গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। এ ছাড়া ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কোনাবাড়ী থেকে কালিয়াকৈর সূত্রাপুর পর্যন্ত দিনভর যানজটে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে যাত্রীদের।

গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ফারিয়া রিমান্ডে-দৈনিক মানবজমিন

Image C

ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত ফারিয়া মাহজাবিনকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম মঈন উদ্দিন সিদ্দিকীর আদালতে হাজির করা হয় তাকে। এসময় মাহজাবিনের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আদালতে ফারিয়ার পক্ষে কোন আইনজীবী ছিল না। তার আগে র‌্যাব-২ এর ডিএডি পুলিশ পরিদর্শক মো. বদিউজ্জামান বাদী হয়ে তথ্য প্রযুক্তি আইনে হাজারীবাগ থানায় মামলা করেন।

সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারিয়া মাহজাবিন পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি কোনো দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। নৈতিকভাবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সমর্থন করেছেন। পরিকল্পিতভাবে কোনো মিথ্যা তথ্য তিনি দেননি। এমনকি এ ঘটনায় অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা নেই  বলে দাবি করেছেন ফারিয়া মাহজাবিন। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেশিরভাগ সময় নীরব থেকেছেন।

এ বিষয়ে হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া জানান, ফারিয়া মাহজাবিনকে জিজ্ঞাসবাদ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তার ফেসবুক আইডির প্রিন্ট ও অডিও ক্লিপের একটি কপি আমরা পেয়েছি। ফারিয়া মাহজাবিন গুজব ছড়িয়েছেন দাবি করে মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে হাজারীবাগ ওসি ইকরাম আলী মিয়া বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন চলাকালে গত ৪ঠা আগস্ট ফেসবুকে, ম্যাসেঞ্জারে গুজব ছড়িয়ে দেন। অডিও বার্তাতে তিনি বলেছেন, ঝিগাতলায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের তিন জনকে হত্যা করা হয়েছে। এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এই গুজব ছড়ানোর দায়ে ফারিয়া মাহজাবিনের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর:

একা হেঁটে মোদী বোঝাতে চাইলেন, তিনিই বাজপেয়ীর উত্তরসূরি!- দৈনিক আনন্দবাজার

কামানবাহী শকট মূল ফটক পেরোতেই হঠাৎ তার পিছনে দাঁড়িয়ে পড়লেন নরেন্দ্র মোদী। পাশে অমিত শাহ। ভিড় তখন উপচে পড়ছে অটলবিহারী বাজপেয়ীকে শেষ বার ছোঁয়ার জন্য। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আর বিজেপি সভাপতি যে গাড়ির পিছনে হাঁটছেন! ভিড় সরাতে নাজেহাল এসপিজি। বিজেপির ঝাঁ চকচকে নতুন দফতর থেকে রাষ্ট্রীয় স্মৃতিস্থল পর্যন্ত শেষযাত্রা বাজপেয়ীর। কাল থেকেই নিজেকে বাজপেয়ীর উত্তরসূরি প্রমাণ করতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন মোদী। তারই অঙ্গ হিসেবে যেন বিজেপি দফতরের দরজা পেরোতেই বাজপেয়ীর কামানবাহী শকটের পিছনে হাঁটতে শুরু করলেন মোদী-শাহ। মোদী বোঝাতে চাইলেন, তিনিই উত্তরসূরি, অমিত তাঁর সেনাপতি।

হাসপাতাল থেকে বাজপেয়ীর বাড়ি— গত দু’দিন ধরে সর্বত্র ছোটাছুটি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। একাধিক মুখ্যমন্ত্রী, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারাও রাত জেগেছেন। তাঁরা কোথায়? কয়েক পা হেঁটেই মোদী-শাহ বোধহয় বুঝতে পারলেন, ব্যাপারটা বেমানান হচ্ছে। একটু থমকে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে হাতের কাছে যাঁকে যাঁকে দেখতে পেলেন, ডেকে নিলেন। শিবরাজ সিংহ চৌহান, দেবেন্দ্র ফডণবীস, অনুরাগ ঠাকুরের মতো কয়েক জন এলেন সে বলয়ে।

তার পরে প্রায় সাড়ে ছ’ কিলোমিটার পথ বাজপেয়ীর শকটের পিছনে হাঁটলেন মোদী। বাকিদের, এমনকি অমিত শাহকেও পিছনে ফেলে একাই সকলের আগে। টিভিতে এ ছবি দেখে কংগ্রেসের এক নেতা বললেন, ‘‘বাজপেয়ী হতে চাইছেন মোদী। কিন্তু বাজপেয়ী সকলকে নিয়ে চলতেন। দেখুন, এখানেও বাজপেয়ী হতে গিয়ে মোদী সেই মোদীতেই থেকে গেলেন! বাজপেয়ীর যাঁরা কাছের লোক ছিলেন, অন্তত তাঁদের তো সঙ্গে নিতে পারতেন!’’

বিনা লড়াইয়ে জয়ী পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদে বসছে তদারক-দৈনিক বর্তমান

শুক্রবারও সুপ্রিম কোর্টে পঞ্চায়েত মামলার নিষ্পত্তি হল না। বিচারপতি এ এম খানউইলকরের অনুপস্থিতি এবং বেলা একটায় সুপ্রিম কোর্ট ছুটি হয়ে যাওয়াই এর কারণ। আগামী সোমবার ফের মামলার শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। কিন্তু দিন গড়িয়ে যাওয়ায় এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী প্রার্থীদের বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়ায় সমস্যায় পড়েছে রাজ্য সরকার। তাই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী পঞ্চায়েতগুলিতে তদারক হিসেব সরকারি অফিসারদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। গ্রাম পঞ্চায়েতে বিডিও, পঞ্চায়েত সমিতিতে এসডিও এবং জেলা পরিষদে জেলাশাসকদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ১২টি জেলা পরিষদ, ২০৬টি পঞ্চায়েত সমিতি এবং ১৬০৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতে ওই তদারক অফিসাররা বসছেন। যতদিন না নতুন বোর্ড গঠিত হবে, ততদিন ওই সব পঞ্চায়েতে তদারকি করবেন সরকারি অফিসাররা। পঞ্চায়েত দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৬ আগস্ট থেকে পঞ্চায়েত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হতে শুরু করে। পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী পুরনো বোর্ড চালানোর এক্তিয়ার থাকে না। বোর্ড না থাকায় একশো দিনের কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। এভাবে চললে একশো দিনের কাজের মতো আরও কিছু প্রকল্প থমকে যাবে। তাই গ্রামীণ কাজকর্ম স্বাভাবিক রাখতে তদারকি অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। নবান্নের এক অফিসারের কথায়, সোমবারও যদি সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, তাহলেও সব প্রক্রিয়া চালিয়ে বোর্ড গঠন করতে লাগবে কমপক্ষে ১৫ দিন থেকে এক মাস। মাঝের এই সময়ে তো কাজ বন্ধ থাকতে পারে না। তাই মুখে প্রশাসক না বললেও সরকারি অফিসারদের দিয়ে কাজ চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এই জাতীয় অবমাননার বিরুদ্ধে সাথে সাথে প্রতিবাদ না হলে এ ক্ষুদ্র ক্ষত একসময় বৃহৎ ক্ষতে পরিণত হবে।

কেরলে ‌আরও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি, ৫০০ কোটির সাহায্য ঘোষণা কেন্দ্রের- দৈনিক আজকাল

ভয়াবহ বন্যায় পুরোপুরি বিপর্যস্ত কেরল। এখনও পর্যন্ত সরকারি হিসেব অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ৩৫০। বন্যায় আটকে পড়েছেন অনেক মানুষ। আক্রান্ত কয়েক লক্ষ।  ত্রান শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন কয়েক লক্ষ গৃহহীন মানুষ। ১৪টি জেলার মধ্যে ১৩টিতে জারি করা হয়েছে সতর্কতা। ইতিমধ্যে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। এখনও চলছে উদ্ধারকার্য। নামানো হয়েছে সেনা, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দল, র‌্যাফ। এছাড়া অন্যান্য রাজ্যও সাহায্যের হাত ইতিমধ্যে বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে শনিবার কেরল যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কোচি বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে যান মুখমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। এরপর বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি। বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী–সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে। কেন্দ্রের তরফ থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ৫০০ কোটি টাকা সাহায্যের কথা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০০০০ টাকা দেওয়ার কথাও জানান। এরপর বিশেষ বিমানে বন্যা কবলিত এলাকাগুলি ঘুরে দেখেন।

তো শ্রোতাবন্ধুরা! কথাবার্তার আজকের আসর এ পর্যন্তই। এ আসর নিয়ে আবার আমরা হাজির হব আগামীকাল।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১৮