জুন ০২, ২০১৯ ১৩:১১ Asia/Dhaka

আশা করছি এ আলোচনা আমাদের হৃদয়ে যোগাবে খোদাপ্রেমের দুনির্বার আকুলতা। হে সর্বোচ্চ করুণাময়! মহানবী (সা) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি দরুদ পাঠানোর উসিলায় এই রমযানে যেন আমরা অর্জন করতে পারি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ক্ষমা।

শেষ হয়ে আসছে এবারের পবিত্র রমজান। রহমত, বরকত ও মাগফিরাতসহ আধ্যাত্মিক যে বিশাল ভোজ-সভার আয়োজন করেছেন মহান আল্লাহ তাতে যোগ দিয়ে কতটা আধ্যাত্মিক খাবার সঞ্চয় করতে পেরেছি সারা বছর ও সারা জীবনের জন্য? মহান আল্লাহর রঙ্গে জীবনকে রাঙ্গানোর জন্য কতটা পদক্ষেপ নিয়েছি? উন্নত নৈতিক চরিত্র ও গুণগুলো অর্জনের জন্য কি দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ হয়েছি? মন্দ কাজের জবাবে ভালো কাজ করা বা খারাপ ব্যবহারের জবাবে ভালো ব্যবহার করা, ঘৃণার জবাব দেয়া ভালবাসা দিয়ে, হিংসার জবাব দেয়া স্নেহ দিয়ে, আত্মীয়দের অশ্রদ্ধার জবাবে তাদের শ্রদ্ধা করা-এসবই হচ্ছে অতি উচ্চ মানের নৈতিক গুণ যা অর্জন করার জন্য প্রত্যেক মুমিনকে সচেষ্ট হতে হবে। যে আত্মীয় বা প্রতিবেশি আপনার খোঁজ-খবর নেয়না তার খোঁজ-খবর নিন। কুরআনের ভাষায় যে মন্দের জবাব দেয় ভালো কিছু করে তার প্রাণের শত্রুও বন্ধু হয়ে যায়। যে আপনাকে পর করতে চায় তাকে আপনি আপন করে নিন, যে আপনার ঘর ভাঙ্গে আপনি তার ঘর গড়ে দিন! যে আপনাকে ভয় করে তাকে দিন নিরাপত্তা!

নিজেকে সবার চেয়ে ছোট ভাবা মুমিনের একটি অপরিহার্য গুণ। মহানবীসহ (সা) সব নবী-রাসুল ও ইমামরা নিজেদের তুচ্ছ ভাবতেন। তাঁরা আল্লাহর দরবারে এমনভাবে কাঁদতেন যেন তারাই দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ও জঘন্য পাপী। এক বেদুইন যুবক একবার মহানবীর (সা) কাছে এসে মহানবীর উচ্চ-সম্মান ও ক্ষমতার কথা ভেবে কাঁপতে থাকে ভয়ে। মহানবী তাকে বললেন, আমি অতি সাধারণ মানুষ! যেসব মানুষ শুকনো রুটি ও ছাগলের দুধ খায় আমিও তাদেরই মত! মহানবী (সা) ও হযরত আলী সঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন সবচেয়ে বেশি রসিক এবং অন্য সবার চেয়ে বেশি রসিকতা করতেন। তাই তাঁদের সঙ্গীরা কখনও কথা বলতে বা কোনো প্রশ্ন করতে তাঁদের ভয় করতেন না। হযরত মুসাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তোমার চেয়ে ছোট পর্যায়ের কেউ আছে কি? মুসা অনেক ভাবলেন! চর্মরোগ আক্রান্ত একটা কুকুর দেখে ভাবলেন, এতো আমার চেয়ে হীন! পরে ভাবলেন, আল্লাহর কাছে এই কুকুর প্রিয়তর হতে পারে! মুসা বললেন: হে আল্লাহ! আমার চেয়ে তুচ্ছ আর কেউ নেই! আল্লাহ বললেন, তুমি যদি নিজেকে ওই কুকুরের চেয়ে বড় ভাবতে তাহলে নবীর তালিকা থেকে তোমার নাম কেটে দিতাম! মানুষকে আল্লাহর দরবারে এমনই বিনয়ী হতে হবে!   

মহান আল্লাহ ভগ্ন ও আকুল হৃদয়ের দোয়াই বেশি কবুল করেন। নবী-রাসুলসহ শীর্ষস্থানীয় মহাপুরুষদের দোয়ার ভাষা লক্ষ্য করুন। তারা সৎকাজে সবচেয়ে অগ্রগামী হওয়া সত্ত্বেও এমনভাবে আল্লাহর দরবারে বিনম্র হয়ে ও কেঁদে কেঁদে দোয়া করতেন যে, মনে হত যে তাঁদের মত বড় পাপী আর কেউই ছিল না। হযরত মুসা আ. মহান আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতে তথা কথোপকথনের সময় আল্লাহকে তাঁর প্রশংসাসূচক নানা নামে যখনই ডাকতেন তখন মহান আল্লাহও একটি ইতিবাচক প্রত্যুত্তর দিতেন। কিন্তু মুসা নবী যখনই বলেছিলেন, হে পাপীদের খোদা!- তখন মহান আল্লাহ তিন বার ইতিবাচক জবাব দেন! অর্থাৎ এই ডাকটি আল্লাহর কাছে খুব বেশি প্রিয় ও পছন্দের। মহান আল্লাহ কুরআনেও বলেছেন, তিনি তওবাকারীদের ভালবাসেন। অনুতপ্ত পাপী ব্যক্তির দোয়াতে বিনম্রতা স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে। কারণ, পাপী মনে করে আমি তো নামাজ, রোজা বা অন্য কোনো ইবাদতই করিনি, বরং সব সময় বহু ধরনের পাপই করেছি, আর আজ যখন আল্লাহর দরবারে তওবা করছি, তখন আল্লাহর রহমত ও দয়ার আশা করা ছাড়া আমার তো কোনো সম্বলই নেই। এ অবস্থায় সে হয়ে পড়ে শতভাগ আল্লাহর দয়ার ওপর নির্ভরশীল।

গভীরভাবে অনুতপ্ত বা লজ্জিত পাপীর তওবা ও কান্নায় যখন অন্তরের সব আকুলতা এবং সবচেয়ে অসহায় ব্যক্তির আর্তি ফুটে ওঠে তখন সর্বোচ্চ দয়ার আঁধার মহান আল্লাহর রহমতের দরিয়াও উথলে উঠে  এবং মহান আল্লাহ যে সবচেয়ে বেশি ক্ষমাশীল ও দয়ালু তা তখন প্রকাশ না করার আর কোনো উপায় থাকে না। এ জন্যই বলা হয়, কান্না হচ্ছে আল্লাহর দরবারে মু’মিনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র!

পবিত্র রমজানের প্রাণ বা হৃদয় হলো শবে কদর। আরবিতে 'কাদর' শব্দটির অর্থ হচ্ছে পরিমাপ। এই রাতে কি পরিমাপ করা হয়? এর উত্তর হল: কতটা সৌভাগ্য বা বরকত বণ্টন করা হবে সারা বছরের জন্য- তাই পরিমাপ করা হয় সৌভাগ্যের এই রাতে। কতটা সৌভাগ্য বা বরকত বরাদ্দ করা হয়? এর উত্তর হল: আপনি যতটা চান ততটাই বরাদ্দ করা হয়। কারণ, এই রাতে যিনি দান করেন তিনি হলেন অফুরন্ত কল্যাণ ও বরকতের অধিকারী অসীম দয়ালু ও দাতা মহান আল্লাহ। কেউ যদি কম চায় তাহলে তো কেউই তাকে বেশি দেয় না। মহান আল্লাহর কাছে কেউ যদি কম চায় তাহলে তা আল্লাহর জন্য এক ধরণের অবমাননাকর বিষয়। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে শবে কদর থেকে সর্বোচ্চ সৌভাগ্য হাসিলের সুযোগ দিন।

অর্থসহ ২৭তম রোজার দোয়া।:-

পার্সটুডে/আমির হুসাইন/আবু সাঈদ/২৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।