জুন ০৩, ২০১৯ ১৬:২৬ Asia/Dhaka

আশা করছি এ আলোচনা যেন হয় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার স্মারক ও পরম প্রশান্তির মাধ্যম। হে পরম করুণাময়! মহানবী (সা) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি দরুদ পাঠানোর উসিলায় আমরা যেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রমজানে অর্জিত সংযম ও খোদাভীতি ধরে রাখতে পারি এবং মহান আল্লাহকে সব সময়ই কৃতজ্ঞ-চিত্তে স্মরণ করতে পারি।

মহান আল্লাহর অপার করুণার অনন্য মাস রমজান শেষ হতে আর মাত্র এক দিন বা কয়েকটি ঘণ্টা বাকি। তাই সবাইকে জানাচ্ছি আগাম ঈদ-মুবারক! হে অশেষ করুণার আধার! খোদাপ্রেমের এমন মধুমাস তথা এ রমজানই যেন আমাদের জীবনের শেষ রমজান না হয় এবং প্রতিটি রমজান যেন হয় আমাদের জন্য সার্বিক সাফল্য ও সৌভাগ্যে ভরপুর। রমজানে অর্জিত খোদাভীতি ও খোদাপ্রেমকে সম্বল করে দিনকে দিন যাতে আল্লাহর আরো বেশি প্রিয়পাত্র হতে পারি সে চেষ্টা চালানোর তৌফিক চাই মহান আল্লাহর কাছে।

বলা হয় যে দিনটিতে মুসলমান কোনো পাপ করে না সে দিনই তার প্রকৃত ঈদের দিন।

ঈদের জামাআতে শরিক হওয়ার আগেই ঈদের ফিতরা পরিশোধ করা জরুরি। আপনার প্রধান খাদ্যগুলোর প্রায় তিন বা সাড়ে তিন কেজি'র আর্থিক মূল্যই হচ্ছে একজনের জন্য প্রদেয় সর্বনিম্ন ফিতরা। ইসলামী ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও সাম্রাজ্যবাদীদের জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম রমজানের আরেকটি বড় শিক্ষা। পবিত্র ঈদের জামাত এই ইসলামী ঐক্যের একটি মাধ্যম। তাই যতটা সম্ভব মুসলিম নারীরাও যেন ঈদের জামাতে শরিক হয় যাতে ইসলামের শত্রুরা মুসলমানদের আধিক্য দেখে তাদের সমীহ করে।

মুসলমানরা যেদিন জালিমদের নির্মূল করে  বিশ্বব্যাপী ন্যায়বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হবে এবং দুর্নীতিমুক্ত ইসলামী সরকার-ব্যবস্থার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারবে সে দিনই হবে তাদের জন্য প্রকৃত ঈদের দিন। আর এ জন্য প্রত্যেক মুসলমানের উচিত যোগ্যতা অর্জনে সচেষ্ট হওয়া। মহান আল্লাহ যেন মুসলিম বিশ্বের জন্য তাঁর মনোনীত পছন্দের বান্দাকে বিশ্বব্যাপী প্রকৃত ইসলামের ঝাণ্ডা তুলে ধরার পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়তা করেন এবং দেশে দেশে সংগ্রামরত মুসলমানদের মধ্যে আন্তরিকতা,ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা আর ভালবাসা জোরদারের সুযোগ করে দেন।

রমজান মাসে ও ঈদের দিনে আনুষ্ঠানিক নানা ইবাদতের পাশাপাশি মুমিনদের সাহায্য করা ও পরোপকারের গুরুত্বও অপরিসীম। এ মাসে মুমিনদের কবর বেশি বেশি জিয়ারত ও সেখানে কুরআন তিলাওয়াত এবং কবরবাসীর জন্য আল্লাহর ক্ষমা ও রহমত কামনা করাও একটি অতি জরুরি ও অত্যন্ত সাওয়াবের কাজ। কবর জিয়ারত মানুষকে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নেয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আল্লাহ আমাদের প্রস্তুতিবিহীন মৃত্যু থেকে রক্ষা করুন।

রাতে নামাজ পড়তে পড়তে মহানবীর (সা) পা ফুলে যেত এবং খোদার প্রতি প্রেম, শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভয়ের কারণে তিনি অঝোর ধারায় কাঁদতেন! নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও এমন ইবাদত ও কান্না সম্পর্কে কোনো এক স্ত্রীর প্রশ্নের জবাবে মহানবী বলেছিলেন, আল্লাহর এতসব দয়া বা নেয়ামতের কারণে আমি কি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হব না!?- আসলে কৃতজ্ঞতা ও ভক্তির ভাষা অশ্রু হয়ে দেখা দেয় খোদাপ্রেমিকদের চোখে!  আমিরুল মু'মিনিন হযরত আলীর মত মাসুম মহামানবও নৈশ-ইবাদতের সময় পরকালের কথা ভেবে তওবা ও অনুশোচনা করতেন। তিনি বলতেন, হায়! সফর কত দীর্ঘ, অথচ সফরের পাথেয় কত কম সংগ্রহ করেছি!

ইসলামের মহামানবরা রমজানে সর্বোচ্চ মাত্রায় কুরআন তিলাওয়াত করতেন। এ সময় তাঁদের চোখ থেকে নামত অশ্রুর ধারা। নামাজসহ সব ইবাদতে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও একাগ্রতা বজায় রাখা এবং পাপ বর্জনে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরা রমজানের অন্যতম শিক্ষা।

জীবনের সবক্ষেত্রে ইসলামের অনুসরণ, ইসলামের কোনো একটি মূল্যবোধকে বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে অন্য মূল্যবোধগুলোর ব্যাপারে উদাসীন না হওয়া ও এসবক্ষেত্রে চরমপন্থা বর্জন, নিয়মানুবর্তিতা এবং জ্ঞান-অর্জন, আত্ম-উন্নয়ন ও আত্মসংশোধনের পরিকল্পিত কর্মসূচি বজায় রাখা রোজার আরও কয়েকটি শিক্ষা। মহানবী (সা) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইত তথা  ইসলামের প্রকৃত দিশারী ও নেতৃবৃন্দের অনুসরণ এবং কুরআনের প্রকৃত ব্যাখ্যাকারী ও মডেল হিসেবে তাঁদের শিক্ষাগুলো তুলে ধরা ও সেসবের বাস্তবায়নে সচেষ্ট হওয়াও রোজার অন্যতম শিক্ষা। ঈমান অর্জনের পর নামাজ হচ্ছে সবচেয়ে বড় ও প্রধান ইবাদত। রোজাসহ অন্য ইবাদতগুলোকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে নামাজকে কম গুরুত্ব না দেয়া এবং পরিবেশ ও পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মুসলমানদের জন্য যে বিষয়গুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা ইসলামের আন্তরিক দিশারীদের কাছ থেকে জেনে সেভাবে কর্মসূচি ও কর্মতৎপরতা বিন্যস্ত করাও রমজানের অন্যতম শিক্ষা। মহান আল্লাহ আমাদের দান করুন সার্বিক সাফল্য। সবাইকে আবারও জানাচ্ছি ঈদ মুবারক।

অর্থসহ ২৯ তম রোজার দোয়া:  

পার্সটুডে/আমির হুসাইন/আবু সাঈদ/২৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।