ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২০ ১৪:৪৭ Asia/Dhaka
  • অবিলম্বে নতুন নির্বাচন দাবি করলেন ফখরুল

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ৫ ফেব্রুয়ারির বুধবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • করোনাভাইরাসের প্রভাবে চীন থেকে পণ্য আসতে বিলম্ব হতে পারে-দৈনিক প্রথম আলো
  • জিয়া-খালেদা-এরশাদ কেউই বাংলাদেশের মাটির সন্তান নয়: শেখ হাসিনা-দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন

  • অবিলম্বে নতুন নির্বাচন দাবি করলেন ফখরুল- কালেরকণ্ঠ
  • উহানে খাবারের অভাবে ‘মরতে’ বসেছেন ১৭২ বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রী!- দৈনিক যুগান্তর
  • করোনাভাইরাস: সেরে উঠলো ৮৯২ জন -দৈনিক ইত্তেফাক
  • দেড় মাসে সীমান্তে হত্যা ১১ জন’-দৈনিক মানবজমিন
  • বিদেশীরা প্রতি বছর ২৬ হাজার কোটি টাকা পাচার করছে: টিআইবি-দৈনিক নয়াদিগন্ত

ভারতের শিরোনাম:   

  • জালিয়ানওয়ালা বাগ হতে পারে শাহিন বাগ’, মন্তব্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসির-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
  • এক সপ্তাহের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া মিটিয়ে নাও’‌, নির্ভয়ার ধর্ষকদের বলল শীর্ষ আদালত-দৈনিক আজকাল
  • মুসলিমদের কোনও ক্ষতি হবে না’, CAA ইস্যুতে কেন্দ্রের পাশে রজনীকান্ত-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। জনাব সিরাজুল ইসলাম কথাবার্তার আসরে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি।

কতাবার্তার প্রশ্ন
১. কক্সবাজারে ইয়াবা সেবনে দেড় মাসে ৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু। এই সামাজিক অবক্ষয় একে কীভাবে দেখছেন আপনি?
২. সিরিয়ার সেনা অবস্থানে কামানের গোলা নিক্ষেপ করেছে তুরস্ক। এর আগে সিরিয়ার হামলায় তুরস্কের সেনা মারা গেছে ৬ জন। বিষয়টি নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

জনাব সিরাজুল ইসলাম আপনাকে আবারো ধন্যবাদ

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি।

করোনাভাইরাসের প্রভাবে চীন থেকে পণ্য আসতে বিলম্ব হতে পারে-দৈনিক প্রথম আলো

করোনাভাইরাসের প্রভাবে চীন থেকে ফেব্রুয়ারি-মার্চে যেসব পণ্য বাংলাদেশমুখী জাহাজে বোঝাই করার কথা, তা অন্তত ১০ দিন পিছিয়ে গেছে। চীনে নববর্ষের ছুটি আরও বাড়ানো হলে এই সময় আরও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। তাতে কিছুদিন পর উৎপাদন খাত থেকে শুরু করে প্রকল্পকাজ ব্যাহত হতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য আসছে চীন থেকে, যেগুলোর প্রক্রিয়া শুরু হয় নববর্ষের ছুটির আগে। চীন থেকে পণ্য আমদানিতে ১৪ থেকে ২২ দিন সময় লাগবে। ফলে এখন পণ্য জাহাজীকরণ পিছিয়ে গেলে তার প্রভাব পড়তে শুরু করবে এ মাসের শেষে। চট্টগ্রাম বন্দর, জাহাজ কোম্পানি ও ব্যবসায়ীদের সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

চীনে করোনাভাইরাসের প্রভাবে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে ভোগ্যপণ্যের দাম। চীন যেসব পণ্য নিজেদের ব্যবহারের জন্য আমদানি করে, সেগুলোর দাম কমছে বিশ্বজুড়ে। আবার যেসব পণ্য রপ্তানি করে, সেগুলোর দাম বাড়ছে। এর প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের বাজারেও পড়েছে।

চীন থেকে গত অর্থবছর ১৩ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারের (১ লাখ ১৪ হাজার কোটি) পণ্য আমদানি হয়, যার প্রায় পুরোটাই এসেছে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। সামান্য পরিমাণ খালাস হয়েছে মোংলা বন্দরে। খোলা জাহাজ ও কনটেইনার জাহাজে এসব পণ্য সরাসরি ও সিঙ্গাপুর বন্দর হয়ে চট্টগ্রামে আনা হয়।

চীন থেকে আমদানি হয় না এমন তালিকা খুবই কম। আসবাব খাতের স্ক্রু ড্রাইভার থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি প্রকল্পের যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল, বাণিজ্যিক পণ্য ও তিন-চারটি মসলা এমন পণ্যের সংখ্যা অসংখ্য। প্রতিবছর নববর্ষের ছুটির আগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানির কাজ গুছিয়ে নেন চীনারা। এরপর ছুটি শেষে শুরু হয় নতুন রপ্তানি আদেশ নেওয়ার কাজ। ছুটি বাড়ানোর পর এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।

স্ক্রু ড্রাইভার থেকে প্রকল্পের যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল, বাণিজ্যিক পণ্যসহ মসলাও আসে চীন থেকে।

চীনের অনলাইন ‘চায়না ব্রিফিং’-এর তথ্য অনুযায়ী, চীনের স্টেট কাউন্সিল নববর্ষ উপলক্ষে ২৪ থেকে ৩০ জানুয়ারি ছুটি ঘোষণা করেছিল। তবে করোনাভাইরাসের কারণে প্রথমে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়। ১ ফেব্রুয়ারি আরেক নোটিশে বেশির ভাগ প্রদেশে এই ছুটি ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়। যেসব প্রদেশে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে, সেখানে ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়। যেমন হুবেই প্রদেশে ১৩ ফেব্রুয়ারি, ঝিঝিয়ান প্রদেশে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়। কয়েকটি প্রদেশে অবশ্য সীমিত আকারে কাজ হচ্ছে।

বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ ছালাম প্রথম আলোকে বলেন, এমনিতেই ভাইরাসের প্রভাবে আমদানি পণ্য জাহাজে তোলার সময় অন্তত ১০ দিন পিছিয়ে গেছে। চীন থেকেই যেহেতু বাংলাদেশের পোশাক খাতের কাঁচামাল সিংহভাগ আমদানি হয়, সে কারণে এসব পণ্য নির্ধারিত সময়ে আসছে না। এর প্রভাব প্রথমে উৎপাদনে পড়বে। এরপর কাঁচামাল থেকে প্রস্তুত পণ্য রপ্তানি পিছিয়ে যাবে। তাতে পুরো সরবরাহব্যবস্থাই ভেঙে পড়তে পারে।

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের (আইবিএফবি) চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি ও পোশাক খাতের উদ্যোক্তা এস এম আবু তৈয়ব প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের কাপড়ের একটি চালান মার্চের প্রথম সপ্তাহে জাহাজীকরণের কথা ছিল। সেটি এখনই ১০ দিন পিছিয়ে মার্চের মাঝামাঝি জাহাজীকরণ করা হবে বলে সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। যেহেতু বৈশ্বিক সমস্যা, সে কারণে বিদেশি ক্রেতাদের ওপর নির্ভর করছে এটি।

প্রকল্পের যন্ত্রপাতি আসছে, শঙ্কা সামনে

দেশে এখন যেসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে, তার সিংহভাগেরই যন্ত্রপাতি চীন থেকে সমুদ্রপথে আসছে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। ছয়টি কোম্পানির জাহাজে এসব প্রকল্পের যন্ত্রপাতি নিয়মিত আমদানি হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যে দেখা যায়, ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চীন থেকে প্রকল্পের যন্ত্রপাতি নিয়ে পাঁচটি জাহাজ বহির্নোঙরে পৌঁছাবে। চীনের বন্দরেও এখন জাহাজে বোঝাই হচ্ছে প্রকল্পের যন্ত্রপাতি।

চীনের কিন হুয়ান ডাও বন্দরে ‘এমভি শিং ফু সং’ জাহাজে এখন বোঝাই হচ্ছে বাংলাদেশমুখী পণ্য। পদ্মা সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রকল্পের যন্ত্রপাতি বোঝাই চলছে জাহাজটিতে।এই জাহাজ আরও দুটি বন্দর থেকে পণ্য বোঝাই করে সিঙ্গাপুর হয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে পৌঁছার কথা। একইভাবে বাও রিসোর্স জাহাজও চীনের বন্দরে বোঝাই শেষে চট্টগ্রামে ফিরবে ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে।

চীন থেকে পণ্য আনা এই দুটি জাহাজের স্থানীয় প্রতিনিধি কসকোল ও ইনস্কেপ শিপিং লাইনস লিমিটেডের চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেসব পণ্য আগে থেকে বন্দরে এনে রাখা হয়েছে, সেগুলো এখন জাহাজে বোঝাই হচ্ছে। বর্ধিত ছুটি শেষে ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরোদমে কাজ শুরু হবে বলে চীনারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। এ সময় কারখানা সচল না হলে বড় প্রভাব পড়বে। নতুন চালানের পণ্য আসতেও দেরি হবে।’

দাম বাড়ছে মসলার

চীন থেকে ভোগ্যপণ্য আমদানি হয় কম। শুধু রসুন, আদা ও দারুচিনি—এই তিনটি মসলা আমদানি হয়। এই তিনটির সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে পেঁয়াজ। রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশে সমুদ্রপথে আমদানি হওয়া রসুন শতভাগই আসে চীন থেকে। গত অর্থবছর বন্দরটি দিয়ে চীন থেকে ৬৪ হাজার ৭৯৬ টন রসুন আমদানি হয়। এবার নববর্ষের ছুটি শুরু হওয়ার আগের মাসে ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ রসুন আমদানি করেছেন। গত ডিসেম্বরে সাড়ে ১৮ হাজার টন রসুন আমদানি হয়। এরপরও করোনাভাইরাসের অজুহাত তুলে রসুনের দাম কেজিতে ৪৫ টাকা বেড়ে ১৭০ টাকায় উঠেছে পাইকারি বাজারে।

রসুনের মতো বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া আদার ৬০ শতাংশ আসে চীন থেকে। ভাইরাসের অজুহাতে আদার দামও বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা। এ ছাড়া দারুচিনি আমদানির ৬৭ শতাংশই আসে চীন থেকে। বাকিটা ভিয়েতনাম থেকে। ভাইরাসের অজুহাতে এই পণ্যেরও দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে পাইকারি বাজারে। মসলা ছাড়া ৭০ শতাংশ আপেল আমদানি হয় চীন থেকে।

খাতুনগঞ্জের মসলা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ফারুক ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার ফারুক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, চীনের রপ্তানিকারকেরা ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে সব সচল হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন। ছুটি আবার বাড়লে সমস্যায় পড়তে হবে।

দাম কমছে যেসব পণ্যের

চীন নিজেদের ব্যবহারের জন্য যেসব পণ্য আমদানি করে সেগুলোর দাম বিশ্বজুড়ে কমছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চীনের জনসংখ্যা ১৪৩ কোটি। তারা যদি কোনো পণ্যের ব্যবহার কমিয়ে দেয়, তাহলে বৈশ্বিক বাজারও টালমাটাল হবে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ভোজ্যতেলের দামে। বিশ্বে ভোজ্যতেল আমদানিকারকের তালিকায় চীন শীর্ষে। ভাইরাসের প্রভাবে সেখানে আমদানি ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় ইতিমধ্যে পাম তেল ও সয়াবিন তেলের দাম প্রতি টনে ৯০ ডলার বা কেজিতে সাড়ে ৭ টাকা কমেছে। মালয়েশিয়ার পাম তেলের দাম টনে ৮১৫ ডলার থেকে কমে ৭২০ ডলারে নেমেছে। একইভাবে সয়াবিনের দাম ৯০০ ডলার থেকে কমে ৮১০ ডলারে নেমেছে।

বিশ্ববাজারে দাম কমতে থাকায় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে কেজিতে ১২ টাকা কমে পাম তেল বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে সয়াবিন তেল ৯ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। দাম কমায় সাময়িকভাবে ভোক্তাদের স্বস্তি হলেও ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

জিয়া-খালেদা-এরশাদ কেউই বাংলাদেশের মাটির সন্তান নয়: শেখ হাসিনা-দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার বলেছেন, জিয়াউর রহমান, এইচএম এরশাদ ও খালেদা জিয়া বাংলাদেশের উন্নয়নের ব্যাপারে আন্তরিক ছিলেন না, কারণ তাদের কারো জন্মই এ দেশের মাটিতে হয়নি। একমাত্র আমার বাবা (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) এবং আমি এ মাটির সন্তান। আামাদেরকে ছাড়া এখন পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় এসেছেন তারা বাংলাদেশের বাইরে থেকে এসেছে।

ইতালি সফররত প্রধানমন্ত্রী রোমের পার্কো দে প্রিন্সিপি গ্র্যান্ড হোটেলে ইতালির শাখা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।  

শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান বিহারে, এরশাদ কুচবিহারে এবং খালেদা জিয়া শিলিগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। আপনারা যদি খেয়াল করে দেখেন, তা হলে দেখতে পাবেন আমি এবং বঙ্গবন্ধু ছাড়া আর কেউই বাংলাদেশের মাটির সন্তান নয়। আমি, বাংলাদেশের সন্তান হিসেবে, এ মাটির প্রতি আমার কিছু কর্তব্যবোধ রয়েছে। দেশের উন্নয়নের জন্য দেশকে ভালোভাবে জানা অপরিহার্য। অনেকেই ক্ষমতায় এসেছেন। তবে, তারা দেশকে ভালোভাবে জানতেন না কেননা তাদের এ মাটিতে জন্মই হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক এবং তিনি দেশের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। ‘সঠিক পরিকল্পনা ও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা একটি দেশকে অবশ্যই বদলে দিতে পারে। ১৯৭৫ সালের ১৫  আগস্টের পরে যারা ক্ষমতায় এসেছেন তারা দেশের উন্নয়নের কথা কখনোই ভাবেননি। ক্ষমতাকে আমরা জনগণের জন্য কাজ করার সুযোগ বলে মনে করি। এটি জনগণের সেবা করার সুযোগ… আর আমি জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। আর এটাই আমাদের লক্ষ্য।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ শুধু দেশের উন্নয়ন চায়। আমাদের আর কেউ পেছনে টানতে পারবে না। আমরা সামনে এগিয়ে যাবো। বাংলাদেশের সব উন্নয়ন প্রকল্পের ৯০ শতাংশ এখন নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন আমরা উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে বাংলাদেশকে ভিক্ষা দেয়ার কথা বলি না। তারা এখন (উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে সহযোগিতা করতে) আমাদের কাছে আসে।

বাংলাদেশের বিমানবন্দরে অনেকসময় প্রবাসীদের হয়রানির শিকার হওয়ার বিষয়টি বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসলে আমাদের দেশের কিছু মানুষের চরিত্রই খারাপ। যেই শুনে বাইরে থেকে আসবে, তখনই ভাবে যে একটু চাপ দিলেই মনে হয় কয়েকটা ডলার পাওয়া যাবে। ঘুষ যে দেয় সেও যেমন অপরাধী, যে নেয় সেও অপরাধী। উভয়ই সমান অপরাধী। দিয়ে দিয়েই আপনারা এ অভ্যাসটা খারাপ করেছেন। আগামীতে এ কাজটা আর করবেন না।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, ইতালী আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মো. ইদ্রিস ফরাজী এবং ইতালী প্রবাসী হোসনে আরা বেগম।

অবিলম্বে নতুন নির্বাচন দাবি করলেন ফখরুল- কালেরকণ্ঠ

সদ্য সমাপ্ত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফল বাতিল করে অবিলম্বে নিরপেক্ষ কমিশনের অধীনে নতুন নির্বাচন দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

আজ বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশান-১ এ ইমানুয়েলস কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান তিনি। ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত দুই মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন এবং তাবিথ আওয়াল বক্তব্য দেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সদ্য সমাপ্ত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জনগণের মতের কোনো প্রতিফল ঘটেনি। নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। সেই কারণে অবিলম্বে এই নির্বাচনের ফল বাতিল করে নতুন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে হবে। একইসঙ্গে আজকে অত্যন্ত ন্যায়সংগতভাবে প্রশ্ন উঠেছে, এই নির্বাচনে মাত্র ৪ থেকে ৭ ভাগের বেশি ভোট পড়েনি। যা তারা দেখাচ্ছে ২০-২৪ ভাগ। এত কম ভোটে যারা জয়ী হয়েছেন, তারা প্রকৃতপক্ষে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে কি-না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আসলে আইনগত তারা দায়িত্ব পালন করতে, জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ কারণে নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে অবিলম্বে নতুন একটি নির্বাচন দিতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের অধীনে কখনও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। এ কারণে একটি নিরপেক্ষ ব্যবস্থা, যা আগে ছিল 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা' সেই ব্যবস্থার অধীনে দেশে নির্বাচন হতে হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা ছাড়া দেশের রাজনৈতিক সংকট সমাধা হবে না। সেই কারণেই দেশনেত্রীকে মুক্ত করে দেশের রাজনৈতিক সংকট সমাধান করতে হবে।

মির্জ ফখরুল আরো বলেন, এই সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসার পর থেকে নিবাচনী ব্যবস্থাকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার জন্য ষড়যন্ত্র করে আসছে। গণতন্ত্রকে তারা ধ্বংস করেছে। ১৯৭৫ সালে তারা সংবিধান পরিবর্তন করে সকল রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেও তারা সফল হতে পারেনি, এবারো পারবে না। 

বিএনপি মহাসচিব সিটি করপোরেশন নির্বাচনের অনিয়ম, ভোট জালিয়াতি, কেন্দ্র দখলসহ ভোটের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার জন্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে ধন্যবাদ জানান। 

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ, ভাইস-চেয়ারম্যানবৃন্দ, উপদেষ্টা, সম্পাদকবৃন্দ, নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা। আরো ছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী এবং ২০ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 

উহানে খাবারের অভাবে ‘মরতে’ বসেছেন ১৭২ বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রী!- দৈনিক যুগান্তর

চীনে হুবেই প্রদেশের যে উহান শহর থেকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে সেখানে থ্রি গোর্জেস ইউনিভার্সিটির ১৭২ বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রী আটকা পড়েছেন। এসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ডরমিটরিতে (আবাসিক হল) থাকেন সেটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। ফলে কেউ বাইরে বের হতে পারছেন না। কার্যত তারা এখন বন্দী।

তাদের খাবার ফুরিয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও কোনো খাবার সরবরাহ করছে না। ফলে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে অনেকে অসুস্থ হওয়ার উপক্রম। এমন পরিস্থিতি নিজেদের জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সাহায্য চেয়ে অনেক শিক্ষার্থী ফেসবুকে আকুতি জানিয়েছেন।

দ্বীন মুহাম্মদ প্রিয় নামের এক শিক্ষার্থী তার আইডিতে লিখেছেন, ‘খাবারের অভাব যে কত বড় একটা অভাব তা নিজে সম্মুখীন না হলে হয়তো বুঝতে পারতাম না। পানিটা তাও ফুটিয়ে খাওয়া যায়, কিন্তু খাবার না থাকলে তো আর রান্না করা যায় না। আমরা এখানে ১৭২ বাংলাদেশি যে কি পরিমাণ কষ্টে আছি, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। আমাদের ডরমিটরি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। আমরা বাইরে যেতে পারি না এবং কেউ ভেতরেও আসতে পারে না।’

তিনি আরও লেখেন–‘ইউনিভার্সিটি খাবার দিতে চেয়েছে সেই তিন দিন আগে, খাবার অর্ডার করেছিলাম এখন পর্যন্ত খাবার পাইনি। এ অবস্থায় আমরা এখানে কতদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকব সেটি জানি না। আমাদের ট্রেন, স্টেশন ও বিমানবন্দর বন্ধ। সরকারের সাহায্য ব্যতীত আমরা এখান থেকে বের হতে পারব না। ’

বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে দ্বীন মুহাম্মদ প্রিয় লেখেন– ‘প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের প্রতি বিনীত অনুরোধ– আমাদের এই অবস্থা থেকে রক্ষা করুন। এখানে কোনো বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হইনি; কিন্তু ইউনিভার্সিটিতে বেশ কয়েকজন আক্রান্ত। বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকটে অচিরেই অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়বে।’

করোনাভাইরাস: সেরে উঠলো ৮৯২ জন -দৈনিক ইত্তেফাক

চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৮৯২ জন সুস্থ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার পর সুস্থ হলে মঙ্গলবার তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। চীনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বুধবার একথা জানায়। জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন তাদের প্রতিবেদনে জানায়, সুস্থ হয়ে উঠায় মঙ্গলবার ২৬২ জনকে হাসপাতাল থেকে চলে যেতে দেখা যায়। এদের ১২৫ জন হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা।

চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রাণঘাতি এই ভাইরাসে এখন পর্যন্ত চীনে আক্রান্ত হয়েছেন ২৪ হাজার ৩২৪ জন। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে চীনের বাইরে প্রথম এই ভাইরাসে ফিলিপাইনে একজন এবং হংকংয়ে আরেক জন মারা গেছে। এছাড়া এই ভাইরাস এখন পর্যন্ত ২৪ টির বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো উহান থেকে দ্রুত তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে।

গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাসের আবির্ভাব ঘটে। প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশির মত সমস্যা দেখা 

দেড় মাসে সীমান্তে হত্যা ১১ জন’-দৈনিক মানবজমিন

গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত সীমান্তে ১১ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পরিচালক (পরিকল্পনা) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ আশিকুর রহমান। বুধবার সকালে বিজিবি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত সীমান্তে নিহতের সংখ্যা ১১ জন। এ ধরনের মৃত্যু যাতে না হয় সেজন্য বিজিবির পক্ষ থেকে যা যা পদক্ষেপ নেয়ার তা নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ডে যেটা সাধারণভাবে বোঝা যায় যে, সীমান্তের সন্নিকটে, তা কিন্তু না। অনেক সময় দেখা যায় ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে ৫ থেকে ১৫ কিলোমিটারের ভেতরেও হয়। হয়তো দেখা যায় কোন নিরীহ মানুষ ভারতের সীমান্তে ঢুকে যাচ্ছে, হয়তো গরু আনার জন্য গেছেন, তাই অনেক সময় দেখা যায় আমাদের নির্দিষ্ট এলাকার বাইরেও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। যখন আমাদের ওপাশ থেকে মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়, তখনই আমরা জানতে পারি। এই সংখ্যাটা বেশি ঘটে যারা গরু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের ক্ষেত্রেই।আমরা এটা দেখছি। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসফ ও বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির মধ্যে এ বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদান হচ্ছে। মহাপরিচালক পর্যায়ে যে সম্মেলন হয়েছে, সেখানেও সীমান্ত হত্যা নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা আবারও আলাপ আলোচনা করছি।তিনি আরও বলেন, সীমান্তে চোরাকারবারি অনেকে চিহ্নিত, অনেকে চিহ্নিত না। তবে সীমান্তে যারাই এ ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত আছেন, তাদের আমরা নজরদারিতে রেখেছি। তারা যখনই কোনোকিছু পাচারের চেষ্টা করছে, তখনই আমরা তাদের গ্রেপ্তার করছি। গণমাধ্যমে তা জানানোও হচ্ছে।গত মাসে বিজিবির অর্জন তুলে ধরে তিনি বলেন, এক মাসে ৯৭ কোটি ১৮ লাখ ৩ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালানের পণ্য ও মাদক দ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৭ লাখ ২৩ হাজার ৬৮৫ ইয়াবা, ৪০ হাজার ৭৪১ বোতল ফেন্সিডিলসহ মদ, গাঁজা, হেরোইন ও নেশা জাতীয় ইনজেকশন। এসময়ের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৪ কেজি সোনা, ইমিটেশন গহনা, কসমেটিক, পোশাক, থান কাপড়, কষ্টি পাথরের মূর্তি, কাঠ, ২১টি ট্রাক, ৬টি পিকআপ, ১টি প্রাইভেট কার, ১১টি অটোরিকশা ও ৫৪ টি মটরসাইকেল জব্দ করা হয়।গত মাসে ২টি পিস্তল, ৪টি বন্দুক ও ১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান বিজিবি কর্মকর্তা সৈয়দ আশিকুর রহমান। এ সময় মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৭২ চোরাকারবারিকে এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করার অপরাধে ৩৮ জন বাংলাদেশি ও দুইজন ভারতীয় নাগরিককে আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিজিবি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজও করে যাচ্ছে বলে জানান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর।

বিদেশীরা প্রতি বছর ২৬ হাজার কোটি টাকা পাচার করছে : টিআইবি-দৈনিক নয়াদিগন্ত

বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা প্রতিবছর অবৈধভাবে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বিদেশে নিয়ে যাচ্ছে। এমন তথ্য উঠে এসেছে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের এক গবেষণায়। টিআইবি বলছে, বিভিন্ন সূত্র থেকে তারা সংগ্রহ করা তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে বৈধ এবং অবৈধভাবে কর্মরত বিদেশী নাগরিকদের সংখ্যা কমপক্ষে আড়াই লাখ।

এদের অনেকে কর ফাঁকি দিচ্ছে আবার অনেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে কাজ করে কোনো কর না দিয়ে টাকা নিয়ে যাচ্ছে।এর ফলে প্রতিবছর বাংলাদেশ সরকারের প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে বলে উঠে এসেছে টিআইবি'র গবেষণায়।

সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিকদের নিয়োগ ও চাকরি করার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অভাব ও নীতিমালা বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ না থাকার কারণে এমন ঘটনা ঘটছে। টিআইবির গবেষণায় বলা হয়েছে, বিদেশী নাগরিকরা যেসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন সেখানে তাদের প্রকৃত বেতন গোপন করা হচ্ছে।

গার্মেন্টসখাতে কর্মরত বিদেশী নাগরিকদের উদাহরণ তুলে ধরে টিআইবি বলেছে, সেখানে একজন বিদেশী নাগরিক সিইও হিসেবে প্রতিমাসে ১০ থেকে ১২ হাজার ডলার বেতন পেলেও কাগজপত্রে সেটি দেখানো হচ্ছে মাত্র তিন থেকে চার হাজার ডলার। তবে বাংলাদেশে কোন কোন দেশের কতজন বিদেশি নাগরিক কাজ করে, সেবিষয়ে সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই।

বাংলাদেশের বিভিন্ন সংস্থায় বৈধ ও অবৈধভাবে কাজ করা বিদেশি নাগরিকদের প্রকৃত বেতন গোপন করার ক্ষেত্রে তাদের নিয়োগকারী সংস্থা সহায়তা করার কারণে মূলত এই পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি টিআইবি'র। টিআইবি বলছে, বাংলাদেশে প্রায় আড়াই লাখ বিদেশি নাগরিক কাজ করে। তবে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ সংখ্যাটি অনুমান করা হলেও, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে বলেও ধারণা করছে তারা।

কী পাওয়া গেছে গবেষণায়? বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে কাজ করা বিদেশি কর্মীদের সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য না থাকলেও টিআইবি'র গবেষণা অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বিদেশি কর্মী কাজ করে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে।

এছাড়া বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, আন্তর্জাতিক এনজিও, হোটেল ও রেস্তোঁরার মত খাতে বিদেশি কর্মীরা কাজ করে থাকেন।

বাংলাদেশে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো সমন্বিত ও কার্যকর কৌশলগত নীতিমালা না থাকায় এই ধরণের নিয়োগের ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো সুনির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষও নেই। যার ফলে বিদেশি কর্মীদের আসা-যাওয়ায় নজরদারি রাখা, নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা পরীক্ষা এবং অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে নিয়ম বহির্ভূত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠে থাকে।

এপ্রিল ২০১৮ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত সময়কালের তথ্য নিয়ে চালানো গবেষণার ভিত্তিতে টিআইবি বলছে, বাংলাদেশে কমপক্ষে ৪৪টি দেশের প্রায় আড়াই লাখ বিদেশি নাগরিক কাজ করেন, যারা প্রতিবছর অবৈধভাবে প্রায় সাড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাঠান।

অবৈধভাবে কীভাবে বিদেশি নাগরিকরা চাকরি করছেন?টিআইবি'র গবেষণা অনুযায়ী, ভিসা নীতি লঙ্ঘন করার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ বিদেশি কর্মী অবৈধভাবে বাংলাদেশে কাজ করে।

অনেক বিদেশি নাগরিক সাধারণত ট্যুরিস্ট ভিসা বা অন অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন এবং পরবর্তীতে কাজ করার অনুমতি না নিয়েই চাকরিতে যোগ দেন এবং কাজ করতে থাকেন।

অনেকক্ষেত্রেই তারা যেসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, সেসব প্রতিষ্ঠানের নথিপত্রে বিদেশি কর্মীদের উল্লেখ থাকে না।আয়কর ফাঁকি দিতে বৈধভাবে কাজ করা বিদেশি কর্মীদের বেতনও প্রকৃত বেতনের চেয়ে অনেক কম দেখানো হয়।এছাড়া প্রকৃত বেতনের একটি অংশ বৈধভাবে দেয়া হলেও সিংহভাগই অবৈধভাবে নগদ দেয়া হয়ে থাকে।

আর অবৈধভাবে কাজ করা কর্মীদের পুরো বেতনই নগদ অথবা অন্য কোনো দেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেয়া হয়ে থাকে।এছাড়া কর্মীদের হাতখরচ, আবাসন, পরিবহন ও অন্যান্য সুবিধা দেয়া হয়ে থাকে বলেও উঠে এসেছে টিআইবি'র গবেষণায়।

এবার ভারতের বিস্তারিত খবর তুলে ধরছি

জালিয়ানওয়ালা বাগ হতে পারে শাহিন বাগ’, মন্তব্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসির-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা

জামিয়া মিলিয়া ও শাহিন বাগের আন্দোলনে গুলি চালানোর ঘটনায় এ বার নতুন আশঙ্কা প্রকাশ করলেন অল ইন্ডিয়া মজলিস এ ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম)-এর প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তাঁর মতে, দিল্লির ভোট মিটলে শাহিন বাগে জালিয়ানাওয়ালা বাগের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

বুধবার সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে এই আশঙ্কা প্রকাশ করে আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, ‘‘এমনটা হতে পারে যে ওদের গুলি করা হল। ওরা শাহিন বাগকে জালিয়ানওয়ালা বাগে পরিণত করে ফেলতে পারে। এটা হতে পারে। কারণ, বিজেপির মন্ত্রীই গুলি করার কথা বলছেন।’’ ‘গোলি মারো’ স্লোগান বিতর্কে ইতিমধ্যেই নাম জড়িয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের। এ দিন ওয়াইসি ইঙ্গিত করেছেন সে দিকেই। এর পরই কেন্দ্রীয় সরকারকে ওয়াইসি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, ‘‘উত্তর দিতে হবে, কারা চরমপন্থা অনুসরণ করছে।’’

সাক্ষাৎকারে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) ও জাতীয় জনসংখ্যা পঞ্জি (এনপিআর)-এর কথাও টেনে এনেছেন ওয়াইসি। তাঁর মতে, ‘‘সরকারকে সাফ জানাতে হবে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এনআরসি চালু হবে না। তা হলে কেন সরকার এনপিআর-এর জন্য তিন হাজার ৯০০ কোটি টাকা খরচ করছে? আমি এক জন ইতিহাসের ছাত্র হিসাবে এটাই মনে করি, হিটলার তাঁর আমলে দু’বার সেন্সাস চালিয়েছিলেন। তার পর ইহুদিদের গ্যাস চেম্বারে পাঠিয়েছিলেন। আমার দেশ এই পথে চলুক এ আমি চাই না।’’

সিএএ নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন হায়দরাবাদের ওই সাংসদ। শাহিন বাগ ও জামিয়া মিলিয়ার বিক্ষোভে গুলি চালানোর ঘটনা নিয়েও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। এ বার ওই গুলি -কাণ্ডে ভিন্ন আশঙ্কা প্রকাশ করলেন তিনি।

এক সপ্তাহের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া মিটিয়ে নাও’‌, নির্ভয়ার ধর্ষকদের বলল শীর্ষ আদালত-দৈনিক আজকাল

এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হল। যা পদক্ষেপ নেওয়ার আছে নিয়ে নাও। নির্ভয়ার ধর্ষকদের উদ্দেশ্যে বুধবার ঠিক এই মর্মেই রায দিল দিল্লি আদালত। এদিনের রায়ে নির্ভয়া কাণ্ডের দোষীদের জানানো হয়েছে, এক সপ্তাহের মতো সমস্তরকম আইনি প্রক্রিয়া মিটিয়ে নিতে হবে। মৃত্যুদণ্ড থেকে বাঁচতে যা যা আইনি পদক্ষেপ নিতে চান তারা, নিতে পারেন। একের পর এক আইনি জটিলতায় এত বছর ধরে ফাঁসি থেকে দূরেই রয়েছে নির্ভয়া কাণ্ডের দোষীরা। অবশেষে এই বছরের শুরুতেই নির্দেশ আসে যে, ২২ জানুয়ারি ফাঁসি হবে তাদের কিন্তু তা পিছিয়ে গিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি হয়। আইনি জটিলতায় সেই ফাঁসির নির্দেশও স্থগিত হয়ে যায়। এ নিয়ে নির্ভয়ার মা আশাদেবী সহ গোটা দেশ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। নির্ভয়ার মা দাবি করেন, দোষীরা আইন নিয়ে খেলছে ইচ্ছা করে, তাদের আলাদা আলাদা ফাঁসি দেওয়া হোক। সেই নিয়ে আজকের মামলার শুনানি আদালত জানিয়েছে, আলাদাভাবে নয়, একসঙ্গেই ফাঁসি হবে দোষীদের। বিনয় শর্মা, মুকেশ কুমার, অক্ষয় ঠাকুর, পবন গুপ্ত নির্ভয়া কাণ্ডের এই ৪ পাষন্ডের ফাঁসির সাজা ঘোষণা হয়েছে আগেই। কিন্তু একে একে দেশের রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমার আবেদন করে চলেছে দোষীরা। ফলস্বরূপ, রাষ্ট্রপতির আবেদন নাচক করার অন্তর ১৪ দিন পর ফাঁসি কার্যকর করতে পারে জেল কর্তৃপক্ষ। সেই সুযোগটাকেই হাতিয়ার করা হয়েছে। থমে বিনয় শর্মা ও পরে মুকেশ কুমারের আবেদনের জেরে ফাঁসির দিন ২২ জানুয়ারি থেকে গড়ায় ১ ফেব্রুয়ারি। এরপর সেই দিনও পিছিয়ে যায়।

মুসলিমদের কোনও ক্ষতি হবে না’, CAA ইস্যুতে কেন্দ্রের পাশে রজনীকান্ত-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

স্রোতের বিপরীতে গা ভাসালেন থালাইভা!সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনকে(CAA) সমর্থনে মুখ খুললেন দক্ষিণের সুপারস্টার রজনীকান্ত। তাঁর অভিযোগ, CAA নিয়ে আম জনতাকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। এতে ভারতীয় মুসলিমদের আদৌ কোনও ক্ষতি হবে না। থালাইভার কথায়, বহিরাগতদের চিহ্নিত করতে NPR জরুরী। তাঁর এহেন মন্তব্যে রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছে রাজনৈতিক মহল।

ডিসেম্বর মাসে সংসদে CAA বিল পেশ হয়। তারপর থেকেই এই বিতর্কিত বিলের বিরুদ্ধে উত্তাল গোটা দেশ। অভিযোগ, এই আইন কার্যকর হলে দেশের মুসলিমদের ঠাঁই হারাতে হবে। আম জনতার এই অভিযোগ উড়িয়ে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের স্বাক্ষরের পর দেশে CAA কার্যকর হয়েছে। কিন্তু আন্দোলন থামার লক্ষ্মণ নেই। আইন বাতিলের দাবিতে সরব বিশিষ্টজন থেকে পড়ুয়ারা। রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তাঁরা। যদিও তাতে কান দিতে নারাজ কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। তাঁদের পালটা দাবি, ভোটে ফায়দা তুলতে আমজনতাকে ভুল বোঝাচ্ছে বিরোধী দলগুলি। এবার কেন্দ্র সরকারের সুরেই সুর মেলালেন দক্ষিণের সুপারস্টার রজনীকান্তও।

বুধবার সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রজনীকান্ত জানান, “CAA নিয়ে দেশের মানুষকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। এই আইনে দেশের মুসলিমদের কোনও ক্ষতি হবে না। দেশভাগের সময় এঁরা ভারতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁদের সিদ্ধান্তকে প্রতিটি ভারতীয় সম্মান করেন। তাই CAA’র জন্য দেশের একটি মুসলিমের কোনও ক্ষতি হলে, আমি সবার আগে রুখে দাঁড়াব।” একইসঙ্গে তিনি NPR-এর স্বপক্ষেও সরব হন।

রজনীকান্তের কথায়, “২০১০ সালে কংগ্রেস এটা করেছিল। ২০১৫ সালেও NPR হয়েছিল। দেশের বহিরাগতদের চিহ্নিত করতে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। আমি বুঝতে পারছি না, এটা নিয়ে কি সমস্যা হয়েছে!”  এই দক্ষিণি সুপারস্টারের আশঙ্কা, রাজনৈতিক নেতারা পড়ুয়াদের ভুল বুঝিয়ে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির কাজে ব্যবহার করছে। তাই দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাঁর আবেদন, “এই আইনটা সম্পর্কে আগে ভাল করে জানো। আইনটা পড়ো। প্রয়োজনে বাড়ির বড়দের কিংবা অধ্যাপকদের সাহায্য নাও। তারপর না হয় এর বিরোধিতা কর। নয়তো রাজনীতিবিদরা তোমাদের ব্যবহার করে নেবে।”  

পার্সটুডে/বাবুল আখতার/৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।