মে ০৬, ২০২০ ০৯:২০ Asia/Dhaka

রমজান মাসসহ যে কোনো সময়ে আত্মশুদ্ধির জন্য কুরআন তিলাওয়াত ও নানা দোয়া পাঠের পাশাপাশি হারাম কাজ বা গোনাহ-বর্জন এবং তওবা বা ইস্তিগফার করা অপরিহার্য।

সব পেশার ও সব শ্রেণীর  বা সব বয়সের মানুষ তথা যুবক-যুবতী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, ছাত্র-ছাত্রী, আলেম কিংবা আলেম নন, ফকিহ, ইমাম ও এমনকি নবী-রাসুলদের জন্যও ইস্তিগফার অপরিহার্য। তাই রমজানে ইস্তিগফারের প্রতি সবারই বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া উচিত। বলা হয় বিশ্বনবী (সা.) যখনই কোনো মজলিশ থেকে উঠতেন তখন অন্তত ২৫ বার তওবা করতেন। কারণ কোনো মজলিশে নানা ধরনের ব্যক্তির মধ্যে কেউ কেউ যেমন উন্নত ও ভালো কথা বলতেন তেমনি কেউ কেউ অনুন্নত বা মন্দ বক্তব্যও রাখতেন। আর এসব অনুপযোগী বক্তব্যের ক্ষীণতম ক্ষতিকারক প্রভাবও যাতে মহানবীর আত্মার ওপর পড়তে না পারে সে জন্য তিনি তওবা করতেন।

 

মহানবীর হাদিস অনুযায়ী রমজানে গোনাহ-বর্জনের অনুশীলন যে সবচেয়ে বেশি জরুরি তা আবারও স্মরণ করছি। দোয়া, কুরআন তিলাওয়াত ও অধ্যয়ন এবং নানা সৎ কাজের পাশাপাশি আত্মাকে যখন হিংসা, লোভ ও নানা ধরনের আত্মিক ব্যাধি থেকে দূর করা সম্ভব হবে তখনই রমজানের খোদায়ি ভোজ-সভা থেকে সর্বোচ্চ কল্যাণ লাভ সম্ভব হবে। পরোপকার ও অন্যের জন্য ত্যাগ স্বীকার করার মত নানা ধরনের ভালো গুণ অর্জিত হয় দোয়া, কুরআন অধ্যয়ন ও  সব ধরনের পাপ-বর্জনের ছায়াতলেই।

ইস্তিগফার বা তওবা প্রসঙ্গে মনে রাখা দরকার তওবা হচ্ছে শ্রেষ্ঠ দোয়া। সাধারণ মানুষ পাপে জড়িত হওয়ায় তওবা করেন। কিন্তু উচ্চ পর্যায়ের মুমিন মানুষেরা তওবা করেন সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা থেকে সামান্য দূরে থাকার কারণে।  আরও উচ্চ পর্যায়ের মহামানব তথা নবী-রাসুল ও ইমামবৃন্দ তওবা করতেন প্রকৃতিগত নানা দুর্বলতার ফলে মহান আল্লাহর পরিপূর্ণ পরিচিতি বা মারেফাত অর্জনে যে অক্ষমতা -তারই অনুশোচনায়!

 

সব সময় ইস্তিগফার বা তওবা করার সুবিধা হল: অতীতের সেই পাপগুলো যা ছিল অন্য কারো ক্ষতি ও নিজের ক্ষতির কারণ সেসবের বীভৎসতা, নিষ্ঠুরতা বা কদর্যতা আপনার চোখের সামনে আবারও ভেসে উঠবে। ফলে হৃদয়ে অহংকার বাসা বাধার সুযোগ হবে না, বরং সব সময় আল্লাহর দরবারে মাথা নিচুই হয়ে থাকবে এবং আবারও পাপের শিকার না হওয়ার ব্যাপারে মন সতর্ক থাকবে। প্রকৃত ও আন্তরিক অনুশোচনাকে মহান আল্লাহ গ্রহণ করেন। মনকে এদিক-সেদিক নিবিষ্ট রেখে মুখে মুখে বেশ কিছুক্ষণ আস্তাগফিরুল্লাহ নামক শব্দটি বলা তওবা নয়। তওবা হচ্ছে, হৃদয়ের গভীর থেকে আন্তরিক চিত্তে এটা বলা যে, হে আল্লাহ! আমি অমুক অমুক গোনাহ করেছি!-এসবই ছিল অত্যন্ত কুৎসিত ও অশোভনীয় কাজ। তুমি আমার এই গোনাহগুলো ক্ষমা কর। বিবেকের দংশনে যখন আপনার প্রাণ কাতর হয়ে উঠবে তখন অবশ্যই আল্লাহ আপনার তওবা কবুল করবেন। তবে পাপগুলো মানুষের বস্তুগত অধিকার বা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ক্ষতির সাথে সম্পর্কিত হলে তওবা পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য করার জন্য আত্মিক অনুশোচনার পাশাপাশি নগদ ক্ষতিপূরণের উদ্যোগও নিতে হবে।

অন্যদের কাছে নিজের পাপের কথা বলে বেড়ানোও ইসলামে নিষিদ্ধ। অন্যের কাছে নিজের পাপের কথা বলার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। পাপের কথা আল্লাহর কাছেই বলুন। ক্ষমাও সরাসরি আল্লাহর কাছেই চান। এটা ঠিক যে মহানবীকে (সা) উসিলা করে তওবা করা বৈধ। তবে এর অর্থ এ নয় যে মহানবীই ক্ষমা করেন। ক্ষমার মালিক একমাত্র আল্লাহই। 

পবিত্র রমজানের ফজিলত সম্পর্কে বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ জনাব মুহাম্মাদ মুনির হুসাইন খান বলেছেন:

মাহে রমযান বান্দাদের গুনাহ খাতা মাফ হওয়ার মাসঃ

 

মহানবী ( সা: ) বলেছেন: যে ব্যক্তি ঈমান ( বিশ্বাস ) সরকারে  এবং মহান আল্লাহ পাকের কাছ থেকে সওয়াব পাওয়ার উদ্দেশ্যে রমযান মাসে রোযা রাখবে এবং ইবাদত- বন্দেগী করবে  তার অতীতের পাপসমুহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি লাইলাতুল ক্বদরে ঈমান সহকারে এবং মহান আল্লাহর কাছ থেকে সওয়াব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ইবাদত-বন্দেগী করবে তার অতীত পাপগুলো ক্ষমা করে দেয়া হবে।

হযরত আলীকে দেয়া উপদেশে মহানবী (সা) বলেছেন, হে আলী! আল্লাহর সৌন্দর্য তিনটি বিষয়ে: যে ব্যক্তি আল্লাহর কারণে তার মুমিন ভাইয়ের সাক্ষাতে গমন করে অর্থাৎ সে আল্লার জিয়ারতকারী। আর আল্লাহর জিয়ারতকারীর সম্মান রক্ষা করা আল্লাহরই কর্তব্য।  তাই সে যা কামনা করে তিনি তা দান করেন। যে ব্যক্তি নামায পড়ে ‌এরপর দোয়া-দরুদ ও মোনাজাতে অতিবাহিত করে পরবর্তী নামায পর্যন্ত। অতএব, সে আল্লাহর মেহমান। আর আল্লাহর মেহমানের সম্মান রক্ষা করা আল্লাহরই কর্তব্য। আর হজ এবং ওমরাহ্ এ দু’টি হলো আল্লাহর কাছে দূতের আগমন। আর দূতের মর্যাদা রক্ষার কর্তব্য আল্লাহরই।  হে আলী! তিনটি কাজের সওয়াব দুনিয়া ও আখিরাতে বিস্তৃত: হজ যা দারিদ্র্য দূর করে, সদকাহ্ যা বিপদ থেকে রক্ষা করে আর আত্মীয়ের সম্পর্ক জোড়া লাগানো যা আয়ু বৃদ্ধি করে।

হে আলী! তিনটি জিনিস রয়েছে যা কোনো ব্যক্তির মধ্যে না থাকলে তার কর্ম সফল হয় না: আত্মসংযম যা তাকে মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের অবাধ্যতা থেকে বাঁচায়, বিদ্যা যা তাকে নির্বুদ্ধিতার অজ্ঞতা থেকে রক্ষা করে, আর বুদ্ধিমত্তা যা দিয়ে মানুষের সাথে সে মানিয়ে চলবে।

পার্সটুডে/মু.আমির হুসাইন/মো.আবুসাঈদ/ ১২