রংধনু আসর: বাদশা ও তার ছেলের গল্প
রংধনু আসরের শিশু-কিশোর বন্ধুরা, কেমন আছ তোমরা? আশা করি যে যেখানে আছ ভালো ও সুস্থ আছ। এ মুহূর্তে যারা রেডিও, মোবাইল কিংবা ওয়েবসাইটে আমাদের অনুষ্ঠান শুনছ তাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশিদ এবং আমি আকতার জাহান। আজকের আসরে থাকবে একটি রূপকথার গল্প ও একটি গান। এ অনুষ্ঠানটিও তৈরি করেছেন আশরাফুর রহমান। তাহলে প্রথমেই 'বাদশা ও তার ছেলের গল্প' শোনা যাক।
অনেক অনেক দিন আগের কথা। কোনো এক বাদশার কথা বলছি। ওই বাদশার এক পুত্র সন্তান ছিল। তার নাম ছিল জামশিদ। জামশিদের বয়স যখন দশে পড়ল তখন তার মা মারা যান। মাতৃস্নেহহীন জীবন তার জন্য বেশ কষ্টকর হয়ে উঠল। মনটা তার একেবারেই ভেঙে পড়েছিল। কোনো কিছুই ভালো লাগছিল না তার। আনমনা হয়ে থাকতো জামশিদ।
জামশিদ ছিল তার বাবার চোখের মণি। বাদশা তার আপন চোখের চেয়েও বেশি ভালবাসতো রাজপুত্রকে। বাদশা নানাভাবে চেষ্টা করত জামশিদকে হাসিখুশি রাখতে, স্বাভাবিক জীবন যাপনে ফিরিয়ে নিতে। কিন্তু কিছুতেই কাজ হলো না। জামশিদ কোনো কিছুতেই কান দিল না। একেবারেই কোনো কাজে মন বসল না তার। সারাক্ষণ বসে বসে মনমরা হয়ে শুধু মায়ের কথাই ভাবতে লাগল। এরকম পরিস্থিতিতে একদিন এক লোক বাদশাকে পরামর্শ দিয়ে বলল: ‘যদি জামশিদের জন্য একটা সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চা পাওয়া যেত তাহলে ও ভীষণ খুশি হতো এবং মায়ের জন্যে তার সকল দুঃখ, সকল ব্যথা বেদনা দূর হয়ে যেত, স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেত রাজপুত্র’।
বাদশা সঙ্গে সঙ্গে উজিরকে ডেকে পাঠাল এবং বলল: ‘এক্ষুণি যাও! জামশিদের জন্য সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চা সংগ্রহ করে আনো’।
উজির যথারীতি ‘জ্বী হুজুর’ বলে কাজে নেমে পড়ল। সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চা বিষয়ে অভিজ্ঞ দু'জন চাকরকে পাঠিয়ে দিল সমুদ্রে। রাজপুত্রের জন্য সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চা সংগ্রহ করে আনতে হবে- আদেশ দিয়ে দিল। চাকরেরা আদেশ অনুযায়ী চলে গেল সমুদ্রের তীরে। সেখানে গিয়ে তারা লুকিয়ে রইল। একসময় সামুদ্রিক ঘোড়া উঠে এল তীরে এবং বাচ্চা প্রসব করল। চাকরেরা তখন সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চা সংগ্রহ করে সোজা হাজির হয়ে গেল বাদশার আস্তাবলে।
সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চা সংগ্রহ করার খবর শুনে বাদশা ভীষণ খুশি হয়ে গেল এবং উজির আর তার চাকরদের উত্তম পুরস্কার দিল। কিন্তু এই সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চার অদ্ভুত কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল। সে পানির পরিবর্তে শরবত কিংবা গোলাব জল খেত। শুকনো ঘাসের পরিবর্তে জাফরান-চিনি-হার্বাল মিষ্টি ইত্যাদি খেত। আরো আশ্চর্যের ব্যাপার হলো সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চা ঠিক মানুষের মতো কথা বলত।
জামশিদ যখন ওই সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চার কথা শুনতে পেল খুশিতে বাগবাগ হয়ে তাকে দেখতে গেল। অনেকদিন পর মনে হলো বদ্ধ কুঁড়ি এবার মেলে ধরেছে তার পাপড়িগুলো। হেঁসে উঠেছে ফুল। বেদনানীল মেঘ যেন কেটে গেছে। জামশিদ সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।
সে আদেশ দিল তার সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চার জন্য সুন্দর পরিপাটি একটি ঘর বানাতে। সোনার একটি গামলাও রাখা হলো তাকে পানি খাওয়ানোর জন্য। এমন ব্যবস্থা করা হলো সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চার জন্য যেন সে সমুদ্র থেকেও আরামে থাকতে পারে। তার কাছে কাউকে ঘেঁষতে দিতো না।
নিজেই তাকে সকল খাবার দাবার দিতো- মিষ্টি, গোলাব জল কিংবা শরবৎ। প্রতিদিন সকালে মক্তবে যাবার আগে জামশিদ তাকে দেখে যেত। দুপুর কিংবা বিকেলে বাসায় ফিরে সবার আগে সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চার খবর নিত, তাকে আদর যত্ন করত।
বাদশা যখন দেখল রাজপুত্র তার মাতৃহীনতার বেদনা ভুলে গিয়ে সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চার প্রতি মনোযোগী হয়ে পড়েছে তখন তিনি স্বস্তি ফিরে পেলেন। বিরাট একটি দুশ্চিন্তা তার মাথা থেকে কেটে গেল।
দিনে দিনে জামশিদ বড়ো হয়ে গেল। বাদশার অপর এক স্ত্রী একদিন জামশিদের দিকে তাকিয়ে দেখল সেদিনের জামশিদ এখন আর ছোট নেই, বড় হয়ে গেছে। হিংসায় জ্বলে উঠল তার ভেতরটা। সিদ্ধান্ত নিল জামশিদকে যে করেই হোক মেরে ফেলবে। চাকরদের ডেকে বড়ো রকমের পুরস্কার দিয়ে বলল: জামশিদ প্রতিদিন যে রাস্তা ধরে স্কুলে যাওয়া আসা করে, সে রাস্তার মাঝে গর্ত খুঁড়ে গর্তের দেয়ালে বিষাক্ত ছুরি গেড়ে রাখতে আর গর্তটাকে একটা কার্পেট দিয়ে এমনভাবে ঢেকে দিতে হবে যেন কোনোভাবেই বোঝা না যায়। ব্যস, গর্তে পড়ামাত্রই হিংসার আগুন নিভে যাবে।
খ) সেদিন জামশিদ স্কুল থেকে ফিরে সোজা গেল সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চার আস্তাবলে। গিয়ে দেখল সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চা কাঁদছে। জিজ্ঞেস করল: কী হয়েছে, কাঁদছো কেন?
ক) উত্তরে সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চা তাকে মেরে ফেলার সকল ষড়যন্ত্রের কথা জামশিদকে বলে দিল। জামশিদ বলল: ‘সমস্যা নেই। আমি অন্য পথ ধরে আমার রুমে যাবো’। এই বলে সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চার জন্যে তৈরি করে আনা মিষ্টি খাবার দাবার দিয়ে নিরাপদ পথে চলে গেল তার কামরায়।
জামশিদ কখন গর্তে পড়ে যায় তা দেখার জন্য বাদশার স্ত্রী ওঁৎ পেতে ছিল। কিন্তু যখন ভিন্ন চিত্র দেখল তখন নতুন কোনো ষড়যন্ত্রের কথা ভাবতে শুরু করল। একদিন জামশিদ যখন স্কুলে গেল তার খাবারে সে বিষ ঢেলে দিল। জামশিদ যথারীতি স্কুল থেকে ফিরে আগে সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চার ঘরে গেল। সেখানে গিয়ে দেখলো সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চা কাঁদছে। আজো জিজ্ঞেস করল: ‘কী হয়েছে তোমার, কাঁদছো কেন’।
সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চা বলল: ‘তোমার সৎ মা তোমার খাবারে বিষ মাখিয়ে রেখেছে তোমাকে মারার জন্য’। জামশিদ বলল: ‘ঠিকাছে! আজ তাহলে খাবারই খাবো না’। এই বলে ফিরে গেল তার রুমে। রাতে যখন তার জন্য খাবার আনা হলো, এক লোকমা খাবার তুলে সে বেড়ালকে দিল। বেড়াল ওই খাবার খেয়ে মরে গেল। সে আর খাবার খেল না।
পরদিন সকালবেলা যখন চাকরেরা খাবার ফিরিয়ে নিয়ে গেল সৎ মা চিন্তায় পড়ে গেল ‘কে তাকে এভাবে আগাম খবর জানিয়ে দেয়’! প্রথমে সে সন্দেহ করেছিল চাকরদেরকে। পরে ভাবল- না..হ! এটা হতে পারে না। হঠাৎ তার মনে হলো- এটা নিশ্চয়ই সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চার কাজ। আগেভাগে সব জামশিদকে জানিয়ে দেয় আর তার ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে যায়। মনে মনে সে সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চাকে মেরে ফেলার চক্রান্ত করল। রোগী সেজে হেকিমকে ডেকে পাঠাবে। হেকিম যখন আসবে তখন তাকে দেখে যেন বলে: তার রোগের একমাত্র ওষুধ হলো সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চার কলিজা এবং হৃদয়। এজন্য হেকিমকে অনেক পুরস্কার দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিল।
বাদশার স্ত্রী যথারীতি রোগের অভিনয় শুরু করে দিল। তার তোশকের নীচে শুকনো রুটির টুকরো রাখা হলো। সবাই যখন তাকে দেখতে এলো সে এপাশ ওপাশ হতেই রুটির টুকরো ভাঙার শব্দ হলো। সবাই ভাবলো বাদশার স্ত্রীর হাঁড়ের শব্দ। হলুদ এবং জাফরানও মাখা হলো তার চেহারায় যাতে সত্যিকারের রোগীর মতো লাগে তাকে।
চিৎকার চেঁচামেচি শুনে বাদশা হেকিমকে খবর দিল এবং নিজেও গেল তাকে দেখতে। হেকিম রোগীকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার সময় রোগী এপাশ ওপাশ হচ্ছিল আর হাড়ের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। হেকিম বলল: ‘কঠিন রোগ। এই রোগের একমাত্র ওষুধ হলো সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চার কলিজা ও হৃদয়’।
বাদশা নিশ্চিন্তে বলে দিল: কোনো ব্যাপারই না। জামশিদ স্কুলে গেলে একজন কসাইকে খবর দিয়ে এনে সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চার মাথা কেটে তার হৃদয় এবং কলিজা বের করে আনলেই হলো!
এত বড় কঠিন সিদ্ধান্ত অথচ জামশিদ কিছুই জানত না। সে যথারীতি স্কুল থেকে এসে সোজা চলে গেল তার প্রিয় ঘোড়ার কাছে। গিয়ে দেখে আজও সামুদ্রিক ঘোড়া কাঁদছে। আজ একটু বেশি। এমনভাবে কাঁদছে যে, যে-ই দেখবে তারই খারাপ লাগবে। জামশিদ জানতে চাইল: কী হয়েছে? এভাবে কাঁদছ কেন?
ঘোড়ার বাচ্চা জবাব দিল: জানতে চাও? তাহলে শোনো। তোমার সৎ মা বুঝতে পেরেছে যে, আমার কারণেই তোমাকে মারার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তাই সে এখন চাচ্ছে আমাকে মেরে তার পথের কাঁটা সরিয়ে ফেলতে। সে অসুস্থতার ভান করে হেকিমকে দিয়ে বলাচ্ছে যে, তার এই রোগের একমাত্র ওষুধ হলো আমার কলিজা ও অন্তর পুড়িয়ে কাবাব বানিয়ে খাওয়ানো।
সামুদ্রিক ঘোড়া আরও বলল: ‘সে ফন্দি এঁটেছে তোমাকে কিছুই বলবে না। আগামীকাল তুমি যখন স্কুলে যাবে কসাই ডেকে আমাকে জবাই করবে। তোমার শিক্ষককেও বলে দিয়েছে কাল যেন দুপুরের খাবার খেতে তোমাকে প্রাসাদে না পাঠায়।
জামশিদ এসব কথা শুনে মহা চিন্তায় পড়ে গেল। ভেবে পাচ্ছিল না- কী করে সামুদ্রিক ঘোড়াকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করা যায়। কী করলে ঘোড়াকে মারবে না বুদ্ধি খাটাতে লাগল সে।
সামুদ্রিক ঘোড়া বলল: কাল তিন বার হ্রেষা তুলব। আমাকে যখন আস্তাবল থেকে বের করে বাইরে আনবে তখন প্রথম হ্রেষা তুলব। দ্বিতীয় হ্রেষা তুলব যখন আমার হাত-পা বাঁধতে চাইবে, তখন। আর তৃতীয়বার শব্দ করব যখন কসাই আমার গলায় ছুরি চালাবে। যদি তুমি তৃতীয়বার হ্রেষাধ্বনি তোলার আগে আসতে পারো তাহলে একটা ধোঁকা দিতে পারব এবং আমরা দুজনই প্রাসাদ থেকে পালিয়ে যেতে পারবো। তা নাহলে আমার কাজ খতম হয়ে যাবে, তুমি আমাকে স্বপ্নে দেখা ছাড়া বাস্তবে আর দেখবে না।
পরদিন মালেক জামশিদ অত্যন্ত উৎকণ্ঠা মনে নিয়েই স্কুলে গেল। স্কুলে তো তার মন বসারই কথা নয়। মনের ভেতরে তো তার প্রিয় ঘোড়া ঘুরে বেড়াচ্ছিল। শিক্ষক কী বলছিল আর কী পড়াচ্ছিল কিছুই তার কানে ঢুকছিল না। এমন সময় হ্রেষাধ্বনি শুনতে পেল সে। অন্তর তার কেঁপে উঠল। সাথে সাথে সে স্কুল থেকে বেরিয়ে যেতে চাইল কিন্তু পারল না। শিক্ষক পথ আটকে দাঁড়াল এবং বলল: তুমি আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত স্কুলে থাকবে। কোনোভাবেই বাইরে যেতে পারবে না।
কিন্তু জামশিদ কিছুতেই তা মানল না। সে বলল: ‘যেভাবেই হোক বাবার কাছে আমাকে নিয়ে যাও’। শিক্ষক বলল: বাদশার আদেশ অমান্য করার সাধ্য তার নেই।
এভাবে জামশিদের সাথে তার শিক্ষকের কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। এমন সময় দ্বিতীয় হ্রেষাধ্বনি হলো। জামশিদের মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ শিক্ষকের হাত থেকে ছুটে দৌড়ে পালাল সে। বিদ্যুতের মতো দৌড়ে গিয়ে হাজির হলো প্রাসাদে। দেখতে পেল- সামুদ্রিক ঘোড়ার হাত পা বাঁধা হয়ে গেছে এবং বাগিচার পাশে নিয়ে গেছে জবাই করার জন্য। বাদশা ছেলেকে দেখে অবাক হয়ে গেল এই ভেবে যে, কীভাবে জামশিদ জানতে পেল।
জামশিদ এরইমধ্যে মাটিতে গড়াগড়ি দিতে লাগল ঘোড়ার জন্য। কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগল- কেন তার ঘোড়ার বাচ্চাকে জবাই করা হচ্ছে।
বাদশা ছেলেকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল: তোমার মায়ের কঠিন রোগ হয়েছে। ওই রোগ ঘোড়ার বাচ্চার কলিজা ছাড়া সারবে না, তাই..। তবে, সমস্যা নেই। তোমার জন্য আরেকটা সামুদ্রিক ঘোড়ার বাচ্চা ধরে আনতে আদেশ দিচ্ছি।
জামশিদ বলল: আমার খুব শখ একদিন শাহী পোশাক পরব, মাথায় তাজ পরব এবং বেড়াতে যাব যেখানে যেতে মন চায়। কিন্তু সে আশা তো আর পূর্ণ হলো না।
বাদশা জামশিদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল: এটা ভাগ্যের খেলা! তোমার মায়ের জীবন এই ঘোড়ার চেয়ে প্রিয়তর।
জামশিদ বাদশার মন মোটামুটি তৈরি করে ফেলার পর বলল: আমি এখুনি শাহজাদার পোশাক পরব এবং এক ব্যাগ মুদ্রা রাখব ঘোড়ার পিঠে। এরপর তার পিঠে চড়ে প্রাসাদের ভেতর একটু ঘুরবে। এতে তার ইচ্ছাটাও পূরণ হবে এবং ঘোড়াও কবরে গিয়ে শান্তি পাবে।
বাদশা ভাবল ভালোই হলো! জামশিদ শেষ পর্যন্ত রাজি হয়েছে। ঘোড়ায় চড়ে একটু বেড়ালেই ওর আবদার শেষ হয়ে যাবে আর তাদের কাজ করতে কোনো বাধা থাকবে না। তাড়াতাড়ি করে সোনালি রূপালি ঝকমকে পোশাক পরাল শাহজাদাকে। মাথায় তাজ পরাল। সামুদ্রিক ঘোড়ার হাত পা খুলে দিল।
এবার জামশিদ ঘোড়ার পিঠে চড়ল। প্রাসাদের ভেতর কয়েক পাক দিল। বাদশা ভেবেছিল এবার শাহজাদা ঘোড়ার পিঠ থেকে নামবে তাই শাহজাদার কাছে এগিয়ে গেল তাকে নামাতে। ঘোড়ার গায়ে হাত বুলাল। ঘোড়া একটু পেছনে সরে গেল। একটু লাফিয়ে উঠে প্রাসাদের দেয়ালের বাইরে চলে গেল। এরপর দিল দৌড়। একেবারে শহর পেছনে ফেলে চলে গেল মরুপ্রান্তরের দিকে। বাদশা, উজিরসহ সবাই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে আঙুল কামড়াতে লাগল। বুঝল শাহজাদা সবাইকে ধোঁকা দিয়েছে।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।