চিঠিপত্রের আসর
প্রিয়জন: 'গণমাধ্যম হিসেবে রেডিও তেহরান সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে'
শ্রোতা বন্ধুরা, আপনাদের সবাইকে প্রীতি আর শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আপনাদেরই চিঠিপত্রের আসর 'প্রিয়জন'। আজও অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় রয়েছি আমরা তিনজন। আমি গাজী আবদুর রশীদ, আমি আকতার জাহান এবং আমি আশরাফুর রহমান।
আশরাফুর রহমান: আসরের শুরুতেই আমি একটি বাণী শোনাতে চাই। আমিরুল মোমেনীন হযরত আলী (আ.) বলেছেন, “মানুষের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ লোক সে, যে অন্যদের দোষ খোঁজে অথচ নিজের দোষ দেখতে পায় না।”
আকতার জাহান: খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি হাদিস শুনলাম। আমরা সবাই অন্যের দোষ খোঁজার বদভ্যাস থেকে নিজেদেরকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করব- এ কামনা করে নজর দিচ্ছি চিঠিপত্রের দিকে।
আসরের প্রথম চিঠিটি এসেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুপী থেকে। আর পাঠিয়েছেন হাফিজুর রহমান। তিনি লিখেছেন, দীর্ঘ ত্রিশ বছরের বেশি সময় আইআরআইবি বাংলা বিভাগের সাথে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ থেকে ২০২১ সালের জুন মাসের শ্রেষ্ঠ শ্রোতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় আমি আপ্লুত, অভিভূত, উচ্ছাসিত ও আনন্দিত। এটা আমার dxing জীবনের একটা অন্যতম পাওয়া। আজ থেকে জীবনের সর্বক্ষণ আইআরআইবি বাংলা বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞ।
গাজী আবদুর রশীদ: ২০২১ সালে জুন মাসের শ্রেষ্ঠ শ্রোতা নির্বাচিত হওয়ায় হাফিজুর রহমান ভাই আপনাকে রেডিও তেহরানের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আপনি সবসময় ভালো সুস্থ ও সুন্দর থাকবেন- এ দোয়াও করছি।
বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের খড়ম পট্টি থেকে আইআরআইবি ফ্যান ক্লাবের অর্থ সম্পাদক শরিফা আক্তার পান্না পাঠিয়েছেন আসরের পরের মেইলটি। তিনি লিখেছেন, “রেডিও তেহরান থেকে প্রতি শনিবার প্রচার হওয়া ‘ইরান-ইরাক যুদ্ধের ইতিহাস’ আমার অতি প্রিয় একটি অনুষ্ঠান। কেননা এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমি ইরানের সৈন্যদের সাহস, বুদ্ধিমত্তা, পরিশ্রম, কৌশল সর্বোপরি যুদ্ধজয় সম্পর্কে জানতে পারি। সেকারণে এর প্রতিটি পর্বই আমার খুব ভালো লাগে। কিন্তু ৩ জুলাই প্রচারিত অনুষ্ঠানটি আমাকে আনন্দ দিতে পারেনি। কেননা, ওইদিন কারবালা-৪ অভিযানের ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ইরানের যেকোন ব্যর্থতা আমার হৃদয়ে বেদনার সৃষ্টি করে। কারণ প্রতিটি যুদ্ধেই ইরানের জয়ই আমাদের কাম্য।”
আশরাফুর রহমান: ‘কারবালা-৪ অভিযানের ব্যর্থতা’ শীর্ষক আলোচনাটি শুনে মন খারাপ হওয়ার অর্থ হচ্ছে- আপনি ইরানকে ভীষণ ভালোবাসেন। ইরানের প্রতি আপনার এ অকৃত্রিম ভালোবাসা আমাদেরকে মুগ্ধ করেছে। আশা করি এভাবেই সবসময় ইরানের পাশে থাকবেন।
আকতার জাহান: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ইসলামপুর থেকে এবারের চিঠিটি পাঠিয়েছেন পুষ্প মৈত্র। তিনি লিখেছেন, "আমি রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগের একজন ভক্ত শ্রোতা। বিগত কয়েক বছর পূর্বে রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগের সাথে যুক্ত ছিলাম। পারিবারিক সমস্যা থাকায় একটুখানি দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তবে, রেডিও তেহরানের নিরপেক্ষ সংবাদ, সঠিক প্রতিবেদন ও জীবনঘনিষ্ঠ অনুষ্ঠানমালা পুনরায় অনুষ্ঠান শোনায় উৎসাহিত করছে। আমি নিয়মিত অনুষ্ঠান শুনব ও মতামত দেবো। একজন গৃহবধূ হিসেবে রেডিও তেহরানের ভূমিকায় আমি খুবই আপ্লুত।”
গাজী আবদুর রশীদ: বোন পুষ্প মৈত্র, আপনার এ চিঠিটি আমাদেরকেও আপ্লুত করেছে। নতুন করে অনুষ্ঠান শোনা শুরু করায় আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আসরের এ পর্যায়ে রেডিও তেহরানের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে 'আইআরআইবি ফ্যান ক্লাব বাংলাদেশ' আয়োজিত প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্য থেকে একজনের লেখার কিছু অংশ তুলে ধরব। আজকের লেখাটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার নয়াদিয়াড়ী গ্রামের শ্রোতা আবু তাহেরের তিনি ওই প্রতিযোগিতায় ৫ম পুরস্কার জিতেছেন। তিনি লিখেছেন,
আশরাফুর রহমান: “বর্তমানে পৃথিবীর অধিকাংশ গণমাধ্যম পশ্চিমা ধাঁচের সংবাদ পরিবেশন করে এবং সাধারণ মানুষকে সুস্থ বিনোদন থেকে বঞ্চিত করে। কিন্তু রেডিও তেহরান বাংলা সংবাদ সপ্তাহের প্রতিটি দিনই পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াতের পর বিশ্বসংবাদ ও দৃষ্টিপাতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরে।”
আকতার জাহান: আবু তাহের ভাই আরও লিখেছেন, “ইরানকে অনেক গণমাধ্যম 'শিয়া দেশ' হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা করে এবং বিভাজনের চেষ্টা করে। কিন্তু রেডিও তেহরান-এর প্রোগ্রাম থেকে বোঝা যায় আসলে তারা ইসলাম ধর্ম নিয়ে কোনো বিভেদে জড়াতে চায় না বরঞ্চ সবার মাঝে ইসলামের সুমহান আলো পৌঁছে দিতে চায়। এক্ষেত্রে গণমাধ্যম হিসেবে রেডিও তেহরান নিষ্ঠার সাথে এবং সততার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের এসব ইসলামি ধাঁচের এবং তথ্যবহুল অনুষ্ঠানমালা সব ধর্মের, সব পেশার, সব জাতিরর মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। সুস্থ ধারার অনুষ্ঠান প্রচার ও প্রসার এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বর্তমান প্রজন্মের কাছে রেডিও তেহরানের কোনো বিকল্প নেই।”
গাজী আবদুর রশীদ: আবু তাহের ভাইকে ধন্যবাদ রেডিও তেহরান সম্পর্কে যথাযথ মূল্যায়নের জন্য। আশা করি আমাদের অনুষ্ঠান নিয়মিত শুনবেন এবং মতামত দেবেন।
আশরাফুর রহমান: বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার ছোট জামবাড়িয়া গ্রাম থেকে মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম মিঞা পাঠিয়েছেন পরের চিঠিটি। তিনি নিজেকে রেডিও তেহরানের একজন অনেক পুরাতন শ্রোতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে লিখেছেন, "ছাত্রজীবনে আজ থেকে প্রায় ২০/২৫ বছর আগে রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠান রেডিওতে শর্টওয়েভ মিটার ব্যান্ডে নিয়মিত শুনতাম এবং নিয়মিত চিঠিপত্র লিখতাম। ১৯৯৪ সালে এসএসসি পাশের পর বাইরে লেখাপড়া করতে গিয়ে এবং লেখাপড়া শেষে কর্মজীবনের কর্মব্যস্ততায় আর নিয়মিত হয়ে উঠতে পারিনি। প্রযুক্তির বদৌলতে ফেসবুক লাইভে রেডিও তেহরান আবার নতুন করে শোনা আরম্ভ করেছি। আমার ভালো লাগা অনুষ্ঠানসমূহের মধ্যে রয়েছে- বিশ্বসংবাদ, চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন, কথা-বার্তা, কুরআনের আলো ও আলাপন। বর্তমানে রেডিও তেহরানে বিভিন্ন কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আমি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের নিয়ম কানুন বিস্তারিত জানতে চাই।”
আকতার জাহান: ভাই মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম মিঞা, নতুন করে রেডিও তেহরান শোনার পর চিঠি লিখায় আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আর কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের নিয়মাবলি রেডিও তেহরানের অনলাইন সংস্করণ parstoday.com/bn-এর ‘প্রতিযোগিতা’ ক্যাটাগরিতে দেওয়া আছে। আশা করি সেখান থেকে ভালোভাবে পড়ে নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন।
আসরের এ পর্যায়ে আমরা ভারতের এক শ্রোতার সাথে সরাসরি কথা বলতে চাই। টেলিফোনের অপরপ্রান্তে যিনি অপেক্ষা করছেন প্রথমেই তার পরিচয় জানা যাক।

আশরাফুর রহমান: বাংলাদেশের রাজবাড়ী জেলার খোশবাড়ীর গ্রামের রংধনু বেতার শ্রোতা সংঘের সভাপতি শাওন হোসাইন পাঠিয়েছেন এবারের মেইলটি। তিনি লিখেছেন, “গত ১২ জুলাই প্রিয়জনের আসরে নবীন-প্রবীণ শ্রোতাদের এক মিলন মেলা বসেছিল। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রবীণ দুই ডিএক্সার বন্ধু ভারতের আব্দুস সালাম সিদ্দিক ও ঝিনাইদহের নজরুল ইসলামের চিঠির জবাব দেয়া হয়। আব্দুস সালাম সিদ্দিক ভাইয়ের চিঠিতে তার প্রথম রেডিও তেহরান শোনার অভিজ্ঞতা শুনে বেশ ভালো লেগেছিল। এছাড়া ভারতের নিয়মিত শ্রোতা নিজামুদ্দিন সেখের সাক্ষাৎকার বেশ উপভোগ করেছি। রেডিও তেহরান নিয়ে তার বিশ্লেষণ ছিল অসাধারণ। অনুষ্ঠানের শেষে ‘হাবিবি’ শিরোনামের গানটি বেশ ভালো লেগেছে।”
আকতার জাহান: ১২ জুলাইয়ের প্রিয়জন অনুষ্ঠানটি আপনার ভালো লেগেছে জেনে আমাদেরও ভালো লাগছে। তো মতামতের জন্য শাওন ভাই আপনাকে অনেকে অনেক ধন্যবাদ।
ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার নওপাড়া শিমুলিয়া থেকে শ্রোতাবন্ধু নিজামুদ্দিন সেখের লেখা একটি চিঠি আমি ইনবক্সে দেখতে পাচ্ছি। তিনি লিখেছেন, “রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠানের প্রতিটি অনুষ্ঠান অত্যন্ত মূল্যবান ও জ্ঞানবর্ধক। যা আমাদের মানসিক বিকাশে সাহায্য করে। এমনি একটি অনুষ্ঠান হচ্ছে রংধনু। এই অনুষ্ঠান আমাদের দেয় সত্য ও ন্যায় কাজের পরামর্শ, অমায়িক ব্যবহার ও উত্তম আচরণের শিক্ষা। সাহায্য করে শিক্ষা ও সংস্কৃতির অঙ্গনে আমাদের অবাধ বিচরণ করতে। ইসলামিক আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেহ ও জীবন গঠনের শিক্ষাও আমরা রংধনুর আসর থেকে পাই। আশরাফুর রহমান ভাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই এ রকম মূল্যবান অনুষ্ঠান আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য।”
গাজী আবদুর রশীদ: রংধনু অনুষ্ঠানটি শিশু-কিশোরদের জন্য নির্মিত হলেও বড়রা উপকৃত হচ্ছেন জেনে ভালো লাগল। চিঠি লিখে বিষয়টি জানানোয় নিজামউদ্দিন ভাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আসরের পরের চিঠিটিও ভারতের। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার মহেন্দ্রনগর অগ্রগামী ক্লাব থেকে এটি পাঠিয়েছেন ভাস্কর পাল।
আশরাফুর রহমান: এ শ্রোতাবন্ধু প্রায় প্রতিদিনই আমাদের কাছে চিঠি লিখছেন। ফেসবুকে রেডিও তেহরানের ফ্যান পেইজ ও ম্যাসেঞ্জার গ্রুপেও বেশ অ্যাকটিভ তিনি!
আকতার জাহান: এটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। তো এ চিঠিতে তিনি কী লিখেছেন?
গাজী আবদুর রশীদ: ভাস্কর পাল লিখেছেন, "গত ৭ জুলাই 'স্বাস্থ্যকথা' অনুষ্ঠানে মৌসুমি রোগের বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ড. আবু কামরান রাহুলের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ মনোযোগ সহকারে শুনলাম। তিনি জানালেন বর্ষাকালে বাংলাদেশে সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশি লেগেই থাকে। তাই সবক্ষেত্রেই এটাকে কোভিড ভাবলে চলবে না। বর্ষাকালীন রোগ-ব্যাধি থেকে রক্ষা পেতে তিনি বেশকিছু পরামর্শও দিয়েছেন। তার পরামর্শগুলো মেনে চললে আমরা সুস্থ ও নীরোগ থাকতে পারব।"
আশরাফুর রহমান: স্বাস্থ্যকথা অনুষ্ঠান সম্পর্কে মতামতের জন্য ভাস্কর পাল আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে বাংলাদেশ থেকে কয়েকটি মেইল এসেছে। যারা এগুলো পাঠিয়েছেন তাদের নাম ঠিকানা জানিয়ে দিচ্ছি।
- নারায়ণগঞ্জের আলী সাহারদি থেকে এইচ এম তারেক
- মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার ইমামপুর থেকে ফারিয়া খানম মুমু
- দিনাজপুরের দক্ষিণ বালুবাড়ি থেকে শাহ মো. মোকাররম হোসাইন রনি
- ফয়সাল আহমেদ সিপন গোপালগঞ্জের ঘোড়াদাইড় থেকে
- এবং ভারতের অসমের বরপেটা থেকে আবদুস সালাম সিদ্দিক
আকতার জাহান: আপনাদেরকেও ঈদুল আজহা পরবর্তী শুভেচ্ছা। তো বন্ধুরা, আজকের আসর শেষ করব একটি গান শুনিয়ে। সত্তুরের দশকের প্রথম দিকে এ গানটি লিখেছিলেন আবু হেনা মোস্তফা কামাল। আর গেয়েছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদী।
গাজী আবদুর রশীদ: তো শ্রোতাবন্ধুরা, আপনারা গানটি শুনতে থাকুন আর আমরা বিদায় নিই প্রিয়জনের আজকের আসর থেকে।
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।