খালেদার বিরুদ্ধে মানহানির দুই মামলার চার্জ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে
'খালেদা জিয়া বেঁচে আছেন- এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আতঙ্কিত করে’
বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বেঁচে আছেন- এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আতঙ্কিত করে’- এমনটিই মন্তব্য করেছেন বিএনপি’স সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ বুধবার (১৭ নভেম্বর) সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত মিলাদ-মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে শেখ হাসিনার পথের কাঁটা হবে। অনির্বাচিত অবস্থায় তাদের ক্ষমতায় থাকতে কষ্ট হবে। এ কারণেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সাজানো, বানোয়াট, মিথ্যা মামলায় কারাগারে রাখা হয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তাকে যখন কারাগারে রাখা হয়, তখন একজন সাধারণ মানুষের যে অধিকার সেই অধিকারও তাকে দেওয়া হয়নি।’এ প্রসঙ্গে আইন মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘আইনমন্ত্রীর কথা শুনলে মনে হয়- নির্যাতনের জন্য, নিপীড়নের জন্য, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে ধ্বংস করার জন্যই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যে মামলায় তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে, সে মামলায় তার ন্যূনতম, বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততার প্রমাণ নেই। মামলায় যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কোনো স্বাক্ষর থাকার প্রমাণ তারা দিতে পারেনি।‘
রিজভী বলেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) যখন মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের আমলে গ্রেফতার হয়েছিলেন, তখন বিদেশে গেছেন এবং উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তখন কোন আইনে গেছেন?’আইনমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি মিথ্যা কথা বলছেন। আপনি সেই ব্যক্তি, যিনি মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের আমলে দুদকের প্রধান আইনজীবী হিসেবে এদেশের এই দেশের রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কাজ করেছেন। আপনি এতো নির্দয়, এতো মানসিকভাবে অসুস্থ, আপনি শেখ হাসিনাকে খুশি করার জন্য বিএনপির নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে হেন কোনো কাজ নাই, যা আপনি করছেন না।’‘
আদালতকে কব্জায় নিয়ে, পকেটের মধ্যে নিয়ে আপনার (আইনমন্ত্রী) মতো এতো হীন, এতো খারাপ কাজ পৃথিবীতে কেউ করেনি। আর আপনি বলছেন, কারাগারে ফিরে আবেদন করতে হবে। তাহলে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা কী করে বিদেশে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিল, আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল কী করে গিয়েছিল? সেদিন কোন আইনে গিয়েছিল? এর আগেও কারাগারে থাকা অবস্থায় আ স ম আব্দুর রব বিদেশে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। এ রকম অসংখ্য দৃষ্টান্ত আছে’- বলেন রুহুল কবির রিজভী।
মামলার চার্জ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে
এদিকে, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ভুয়া জন্মদিন পালন এবং যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেয়ার দায়ে মানহানির দুই মামলায় চার্জ গঠনের বিষয়ে শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামী ২ ডিসেম্বর ধার্য করেছেন আদালত।
বুধবার (১৭ নভেম্বর) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূরের আদালতে মামলাটি চার্জ শুনানির জন্য ধার্য ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় আদালতে হাজির হতে পারেননি। এজন্য তার আইনজীবী মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার সময় আবেদন করেন। আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে চার্জ শুনানির এ তারিখ ধার্য করেন বলে জানান মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার।
প্রসঙ্গত, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।মামলার অভিযোগে বলা হয়, খালেদা জিয়ার একাধিক জন্মদিন নিয়ে ১৯৯৭ সালে ১৯ ও ২২ আগস্ট দুই জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মেট্রিক পরীক্ষার মার্কশিট অনুযায়ী জন্ম তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ সাল। ১৯৯১ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে একটি দৈনিকে তার জীবনী নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জন্মদিন ১৯ আগস্ট ১৯৪৫ সাল। তার বিবাহের কাবিননামায় জন্মদিন ৪ আগস্ট ১৯৪৪ সাল। সর্বশেষ ২০০১ সালে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট অনুযায়ী তার জন্মদিন ৫ আগস্ট ১৯৪৬ সাল।মামলায় বলা হয়, বিভিন্ন মাধ্যমে তার ৫টি জন্মদিন পাওয়া গেলেও কোথাও ১৫ আগস্ট জন্মদিন পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় তিনি ৫টি জন্মদিনের একটিও পালন না করে ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকীর জাতীয় শোক দিবসে আনন্দ উৎসব করে জন্মদিন পালন করে আসছেন। শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার জন্য তিনি ওইদিন জন্মদিন পালন করেন। ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী স্বীকৃত স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকার মানহানি ঘটানোর অভিযোগে আদালতে একটি মানহানির মামলা দায়ের করেন।#
এআরকে