খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি: পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i100304-খালেদা_জিয়ার_মুক্তির_দাবিতে_বিএনপির_বিক্ষোভ_কর্মসূচি_পুলিশের_সঙ্গে_সংঘর্ষে_অর্ধশতাধিক_আহত
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিরোধীদল বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে আজ নাটোরে বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ, সংবাদকর্মীসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
নভেম্বর ২২, ২০২১ ১২:৩০ Asia/Dhaka
  • খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি: পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিরোধীদল বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে আজ নাটোরে বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ, সংবাদকর্মীসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন।

সোমবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে শহরের আলাইপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে দুই জন বিক্ষোভকারীকে আটকের তথ্য জানিয়েছেন সদর থানার ওসি মুনসুর রহমান।

জেলা বিএনপি আহবায়ক কমিটির সদস্য ফরহাদ আলী দেওয়ান শাহীন বলেন, পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি পালনের জন্য আলাইপুর এলাকায় বিএনপি কার্যালয়ে জড়ো হন জেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় বিনা উসকানিতে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ শুরু করে। এতে কমিশনার সোহাগ ও আলম গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া বিএনপি নেতা আসাদসহ ছাত্রদল ও যুবদলের মাসুদ, ডালিম, তুষার ও কামরুলসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।

নাটোর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাপ্পী লাহিড়ী বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যুগান্তরের সাংবাদিক শহিদুল হক সরকার ও বাংলাভিশনের কর্মী কামরুল আহত হয়েছে।

তবে জেলা পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেছেন, বিএনপি কর্মীরা সড়কে বিক্ষোভ করে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছে। এ সময়, সড়কের ওপর বিক্ষোভ করতে নিষেধ করা হলে তারা উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে সদর থানার ওসি মুনসুর রহমানসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ, লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেন।

এদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদার জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর দাবিতে খুলনার পুর্বঘোষিত সমাবেশে পুলিশ বাধা দিয়েছে এবং লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনায় সমাবেশ করে তারা। এ সময় বিনা উস্কানিতে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ সমাবেশে অংশ নেয়া নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এ ঘটনায় তাদের ২০ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছে বলেও দাবি তাদের।সোমবার বেলা ১১টায় খুলনা নগরীর কেডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ শুরু করলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গকরে দেয়।

আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ নেই: ফখরুল  ইসলাম

এদিকে  রাজধানীতে এক  সমাবেশে  বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,  খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ নেই ।  তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সামনে এখন আর কোনো পথ খোলা নেই। আমাদের সামনে একটাই পথ, আন্দোলন, আন্দোলন আর আন্দোলন। এ আন্দোলনকে তীব্র করে সামনের দিকে আরও বেগবান করতে হবে।’

আজ সোমবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে তাঁর সুচিকিৎসার দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

সোমবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এ সমাবেশ হয়। সমাবেশে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতা–কর্মী অংশ নেন।  বেলা সাড়ে ১১টায় সমাবেশ শেষে মিছিল বের করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। মিছিলটি মৎস্যভবন হয়ে কাকরাইল মোড়ের দিকে গেলে পুলিশ পেছন থেকে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রদল।

এর আগে প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আগামী ২৪ তারিখ বুধবার বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাঁর সুচিকিৎসার দাবিতে সারা দেশের জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। এর পরও যদি খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের আন্দোলন আরও কঠোর থেকে কঠোর হবে।’

দলের নেতা-কর্মীদের, হঠকারিতা না করার নির্দেশ দিয়ে ফখরুল বলেন, অতীতে হঠকারিতার জন্য আমাদের অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব এবং তাঁকে সুচিকিৎসার জন্য বাইরে পাঠাব।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এই সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তারা মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে দিয়েছে। আজকে সারা দেশে দ্রব্যমূল্য আকাশছোঁয়া। তাই আসুন এই সরকারকে বিদায় করার জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আসুন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আগামী দিনে নিরপেক্ষ সরকার গঠন করে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করি।’

সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে তাঁর উন্নত চিকিৎসায় বাধা দেওয়ার অর্থ হচ্ছে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র। অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। নতুবা এ বিলম্বের কারণে আপনাদের অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হবে।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম ও আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ইশরাক হোসেন প্রমুখ।#

পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/২২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।