বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর ১১ দফা বিধিনিষেধ
বাংলাদেশে করোনার উচ্চ ঝুঁকিতে ঢাকা ও রাঙামাটি
করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ এর উচ্চ ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশের ঢাকা ও রাঙ্গামাটি জেলাকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ৬ টি জেলাকে হলুদ জোন এবং ৫৪ টি জেলাকে গ্রিন ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মধ্যম ঝুঁকির হলুদ জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে রাজশাহী, নাটোর, রংপুর, যশোর, লালমনিরহাট ও দিনাজপুর জেলাকে। আর সংক্রমণের গ্রিন জোন বা ক্ষীণ ঝুঁকিতে আছে ৫৪ জেলা।
গত এক সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আজ (বুধবার) এসব তথ্য জানিয়েছে। তথ্যে দেখা যায়, রাজধানী ঢাকায় করোনা সংক্রমণের হার ১২ দশমিক ৯০। রাঙামাটিতে করোনা সংক্রমণের হার ১০।
মধ্যম পর্যায়ের ঝুঁকিতে থাকা ৬ জেলায় করোনা সংক্রমণের হার ৫ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশে অবস্থান করছে। আর সংক্রমণের গ্রিন জোন বা ক্ষীণ ঝুঁকিতে আছে ৫৪ জেলা। অন্যদিকে পঞ্চগড় ও বান্দরবান জেলায় নমুনা পরীক্ষার হার খুবই কম হয়েছে বলে জানায় অধিদপ্তর।
বাংলাদেশে করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন। সেই সঙ্গে বাড়ছে শনাক্তের হারও। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৪৫৮ জন। এ সময় মৃত্যু হয়েছে দুজন। এক দিনের ব্যবধানে দেশে শনাক্ত করোনা রোগী বেড়েছে ২২৭ জন। আগের দিন শনাক্ত হয়েছিলেন ২ হাজার ২৩১ জন।
এদিকে, করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে উন্মুক্ত স্থানে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ এবং গণপরিবহনে যাত্রী অর্ধেকসহ ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে গত সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। এ সময় উন্মুক্ত স্থানে সর্বপ্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সমাবেশ বন্ধ থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাব ও সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণায় সভায় এই ১১ দফা নির্দেশনা জারির সিদ্ধান্ত হয়।
নির্দেশনাগুলো হলো- দোকান, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরা। অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে আবশ্যিক মাস্ক ব্যবহার। বেস্তোরাঁয় খাবার খেতে এবং আবাসিক হোটেলে থাকতে হলে টিকা সনদ প্রদর্শন, ১২ বছরের ঊর্ধ্বের সব শিক্ষার্থীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত তারিখের পরে টিকা সনদ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া।
আন্তঃমন্ত্রণায় সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুসারে স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরসমূহে স্ক্রিনিংয়ের সংখ্যা বাড়ানো হবে। ট্রেন, বাস এবং লঞ্চে সক্ষমতার অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করতে হবে। সব ধরনের যানের চালক ও সহকারীদের আবশ্যিক টিকা সনদ থাকতে হবে এবং বিদেশ থেকে আগত যাত্রীসহ সবাইকে বাধ্যতামূলক করোনা টিকা সনদ প্রদর্শন করতে হবে । এ ছাড়া, সরকারী প্রজ্ঞাপনে স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং মাস্ক পরার বিষয়ে দেশের সব মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায় ইমামগণের সংশ্লিষ্টদের সচেতন করা, করোনার টিকা এবং বুস্টার ডোজ গ্রহণ ত্বরান্বিত করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রচার এবং উদ্যোগ গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে । #
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১২