বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র:
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রুশ নাগরিকের মৃত্যু
-
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
বাংলাদেশের ঈশ্বরদীতে রূপপুর নির্মাণাধীন প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত এক রুশ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত আট দিনে এ প্রকল্পে কর্মরত পাঁচ রুশ নাগরিকের মৃত্যু হলো।
ঈশ্বরদী পুলিশ বলছে, সর্বশেষ ঘটনায় বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ‘নিকিম’ নামের একটি রুশ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ভোরোটনিকভ আলেকজান্দ্রাকে গতকাল (রোববার) দুপুরের দিকে তার ফ্ল্যাটের কক্ষে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন এক সহকর্মী। তিনি রূপপুরে বিদেশীদের জন্য নির্মিত সাহাপুরের নতুনহাট ‘গ্রিনসিটি আবাসিক প্রকল্পের একটি কক্ষে থাকতেন। পরে গ্রিনসিটি ও রূপপুর প্রকল্পসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে অন্য একজন রুশ নাগরিক চুকিন পাভেল (৪৮) মারা গেছেন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্রেস্ট রোসেম নামে রুশ সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার রুশ নাগরিক চুকিন পাভেল (৪৮) অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। সেখানে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে শুক্রবার রাত ২টার দিকে তলমাসেফ ভাইয়াসেলভের (৫৯) নামের এক রুশ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ১২ নম্বর আবাসিক ভবনের ১৩ তলার ১৩১ নম্বর ফ্ল্যাটে বসবাস করেন। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের এসএমইউ-১ নামে আরেকটি সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ইনস্টলার হিসেবে কাজ করতেন তিনি। তিনি মদ্যপ অবস্থায় হাঁটার সময় হঠাৎ ১৪ তলার সিঁড়ি থেকে পড়ে জ্ঞান হারান। পরে কোম্পানির নিজস্ব ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে গত ২রা ফেব্রুয়ারি শাকিরভ আলেক্সেইয়ের ঘুমের মাঝে এবং ২৮শে জানুয়ারি ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বারচেনকো আলেক্সেইয়ের মৃত্যু হয়। তারা দুজনই এই প্রকল্পের কর্মী ছিলেন।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আলেকজান্দ্রার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে রাজী হন নি।
বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর নামক স্থানে ২.৪ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করছে রাশিয়ার রোসাটোম স্টেট অ্যাটমিক এনার্জি কর্পোরেশন ।
এটি হবে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র যার প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করবে। ২০১১ সালের ২ নভেম্বর, বাংলাদেশ এবং রুশ ফেডারেশন সরকারের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন সংক্রান্ত আন্ত-রাষ্ট্রিয় সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রীর রাশিয়া ফেডারেশন সফরকালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রাক-প্রারম্ভিক পর্যায়ের কার্যাদি সম্পাদনের জন্য রাষ্ট্রীয় রপ্তানি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। স্বাক্ষরিত আন্ত-রাষ্ট্রীয় চুক্তি এবং রাষ্ট্রীয় রপ্তানি ঋণ চুক্তির ভিত্তিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন (১ম পর্যায়) প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
২০১৩ সালের ২ অক্টোবর, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রথম পর্যায় কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
এরপর ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে বাংলাদেশ ও ভারত সরকার এবং গ্লোবাল সেন্টার ফর নিউক্লিয়ার এনার্জি পার্টনারশিপ, ভারতের পরমাণু শক্তি সংস্থা, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পেন্ট ফুয়েল রাশিয়ায় ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও রুশ ফেডারেশনের সাথে ২০১৭ সালের ৩০ আগস্ট এক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
২০১৭ সালের ৪ নভেম্বর, একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নকশা ও নির্মাণ লাইসেন্স প্রদান করা হয়। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নং ইউনিটের প্রথম কংক্রিট ঢালাইয়ের উদ্বোধন করেন।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।