সোমবার পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্বোধন: 'মাহেন্দ্রক্ষণ' বললেন নসরুল হামিদ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i105458-সোমবার_পায়রা_বিদ্যুৎ_কেন্দ্রের_উদ্বোধন_'মাহেন্দ্রক্ষণ'_বললেন_নসরুল_হামিদ
বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দেবার মাধ্যমে দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে। বর্তমানে পুরো দেশে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় এসেছে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
মার্চ ২০, ২০২২ ১৫:০৮ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দেবার মাধ্যমে দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে। বর্তমানে পুরো দেশে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় এসেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাব মতে, ২০০৯ সালে দেশের ৪৭ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল; এখন সেটা শতভাগ পূর্ণ হয়েছে।

এ অবস্থায় আগামীকাল ২১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন পায়রা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধন করবেন।

শতভাগ বিদ্যুতায়নের বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমরা এক মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা আসছে ২১ মার্চ। সেই সঙ্গে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাসে কার্যক্রম শুরু করা সর্ববৃহৎ মেগা প্রকল্প পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের।

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা পাঁচগুণ বেড়েছে। ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিদ্যুৎসহ দেশে এখন উৎপাদন ক্ষমতা ২২ হাজার ৫১৪ মেগাওয়াট। আরও ১৩ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন অবস্থায় আছে।

অর্থনীতিবিদ্গণ বলছেন, গ্রামে গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবার কারণে গ্রামীন অর্থিনীতি, ক্ষুদ্র- কুটির শিল্প গতি পেয়েছে। একইসাথে গ্রামে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবার কারণে অর্থনীতিতে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

এদিকে, বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাগ্রহণের সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ছিল অত্যন্ত নাজুক। দিনের অধিকাংশ সময় মানুষ বিদ্যুৎহীন থাকতেন। ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ সংকটের কারণে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে পারছিল না। মানুষের গড় আয় ছিল অনেক কম। ফলে সরকার দ্রুতগতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধির নানা উদ্যোগ নেয়। প্রায় এক যুগ পর সরকার এখন শতভাগ বিদ্যুতায়ন বাস্তবায়ন করেছে। চাহিদার চেয়ে বেশি সরবরাহ সক্ষমতা অর্জন করেছে। যদিও বিতরণ ও সঞ্চালন ব্যবস্থার ত্রুটি রয়ে গেছে। ফলে এখনো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়নি।

তবে সরকার আশা করছে, আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যেই দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারবে। গত ১৩ বছরে দেশে ১৪৮টি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এক যুগ আগে যেখানে দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো গড়ে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট; বর্তমানে সেখানে প্রায় ২৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে উঠেছে। গড়ে প্রতিদিন বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ১২ হাজার মেগাওয়াট।

এদিকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের বিষয়ে বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম শতভাগ বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে পেরেছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এখনো শতভাগ বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে পারেনি। সন্দ্বীপ, রাঙ্গাবালী, নিঝুম দ্বীপ, চরসোনারামপুরসহ প্রায় বেশির ভাগ চর এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। যমুনা, তিস্তার অনেক দুর্গম চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। হাতিয়া নিঝুম দ্বীপে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এটা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় অর্জন, অনেক সম্মানের।

উল্লেখ্য, সরকার দেশে এক শ' অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়নে কাজ করছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিত করতে মাস্টারপ্ল্যান করেছে। যার ধারাবাহিকতায় বেশকিছু বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বাস্তবায়ন করছে। আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে চলে আসবে। বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত-বাংলাদেশের যৌথ মালিকানায় খুলনার বাগেরহাটে রামপাল ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রাশিয়া-বাংলাদেশের যৌথ সহযোগিতায় নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এ ছাড়া বেসরকারি মালিকানাধীন আর এক ডজন বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। সরকার ২০৪০ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।