জুন থেকেই কার্যকর
বাংলাদেশে বিদ্যুতের দাম পাইকারিতে ১৯.৮৫% এবং খুচরাতে ১৭% বাড়ল
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। পাইকারিতে বিদ্যুতের দাম ১৯.৮৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়ানো হয়েছে গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ।
এছাড়া সঞ্চালন চার্জ ২৩.৯৬ শতাংশ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গ্রাহক পর্যায়ে সর্বনিম্ন লাইফলাইন গ্রাহকের ১৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৯.৯৪ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন দর বিলিং মাস জুন থেকেই কার্যকর হবে।
আজ (বুধবার) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুতের নতুন দর বৃদ্ধির এ ঘোষণা দেন।
পাইকারিতে বর্তমানে ইউনিটপ্রতি দর ৭.০৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে গড় দাম ৮.৩৯ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে সঞ্চালন খরচ (গড়) ইউনিটপ্রতি ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৩৯ পয়সা করা হয়েছে।
কমিশন বলেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্রয় ও আমদানি ব্যয়, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয়, পাইকারি পর্যায়ে পিডিবিকে সরকারের ভর্তুকি এবং সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
দাম বাড়ানোর পরও পিডিবির অবশিষ্ট ঘাটতি মেটাতে বছরে সরকারকে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।
বিদ্যুতের একমাত্র সঞ্চালন কোম্পানি পিজিসিবি (পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি), প্রতি ইউনিটে যথাক্রমে ৩০ ও ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪৮ ও ৪৯ পয়সা করার আবেদন করেছিল।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে ইউনিট প্রতি ১.২০ টাকা (১৭ শতাংশ) থেকে ১.৫০ টাকা (২১ শতাংশ) দাম বাড়ানোর আবেদন করে। দাম বৃদ্ধির আবেদনে বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুতের সম্ভাব্য উৎপাদন খরচ পড়বে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়বে ১২.৯১ টাকার মতো।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৮.৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়। একইসঙ্গে পাইকারি দর ৬.৭০ টাকা থেকে ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৭.০৪ টাকা করা হয়। দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের উপর গত ২০ ও ২১শে মে গণশুনানি হয়।#
পার্সটুডে/এমএআর/৩