বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর দাবি এবং বিএনপির প্রতিক্রিয়া
আওয়ামীলীগ সরকারে আসার পর বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছে বলে দাবী করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নবনির্মিত ১২তলা ভবন ‘বিজয়-৭১’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যারা আপনজন হারিয়েছিলাম, আমাদের কোনো অধিকার ছিল না বিচার চাওয়ার। এমনকি আমি বাংলাদেশে ফিরে এসে মামলা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু মামলা করতে দেওয়া হয়নি। কারণ ইন্ডেমনিটি (দায়মুক্তি) দেওয়া হয়েছে খুনিদের।’
বিচারহীনতার একটি সংস্কৃতি দেশে চালু করা হয়েছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সে অবস্থার একমাত্র পরিবর্তন করতে পেরেছি যখন জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকারে এসেছি তখন। সেখানে অনেক বাধা অনেক কিছুই আমাদের মোকাবিলা করতে হয়েছে। আমরা চাই দেশের মানুষ যেন ন্যায্য বিচার পায়
তব বিএনপি মহাসচীব বলেছেন, আওয়ামীলীগ শাসন আমলেই দেশ থেকে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন উধাও করে দেওয়া হয়েছে। আজ নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পৌর বিএনপি’র সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে মির্জা ফখরুল বলেন, দলের চেয়ারম্যান বেগম জিয়া ও ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাজা দিয়েছে। অনুরূপভাবে সারা দেশে ৩৫ লখের বেশী মিথ্যা মামলা গায়েবী মামলা দিয়ে গণতন্ত্রের পক্ষের কর্মীদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, সরকারের দোসর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের দেশে গণতন্ত্র নেই মন্তব্য করে বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনৈতিক চরিত্র একই। আওয়ামী লীগ একবার দেশকে দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেছে, পরে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে চারবার চ্যাম্পিয়ন করেছে। আবার বিএনপি গণতন্ত্র ধ্বংসের কাজ শুরু করেছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে গণতন্ত্র পুরোপুরি ধ্বংস করেছে।’ তিনি বলেন, ‘দেশে এখন একনায়কতন্ত্র চলছে, স্বৈরতন্ত্র চলছে। একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেলে গণতন্ত্র থাকে না, জবাবদিহিতা থাকে না কোথাও। তাই দুর্নীতি ও দুঃশাসন বেড়ে গেছে।’
মঙ্গলবার দুপুরে ফেনী জেলা জাতীয় পার্টির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জিএম কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি স্বাধীনতার চেতনা শেষ করে দিয়েছে। স্বাধীনতার চেতনা ছিল দেশের মালিক হবে জনগণ। তাই দেশের নাম দেওয়া হয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। দেশের মানুষের মধ্যে বৈষম্য থাকবে না, কোনো বিভেদ থাকবে না। এখন স্বাধীনতার পক্ষ ও বিপক্ষ শক্তি বলে মানুষের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সীমাহীন বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন দেশের মানুষ।
জাপা চেয়ারম্যান আরও বলেন,আগামী নির্বাচনে দুটি জোট হবে। একটির নেতৃত্বে থাকবে সরকারি দল, সঙ্গে থাকবে তাদের সমর্থকরা। অপর জোটের নেতৃত্ব দেবে জাতীয় পার্টি। দেশের বঞ্চিত, নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষ জাতীয় পার্টির পতাকা তলে যোগ দেবেন। তিনি বলেন, নেতৃত্ব শূন্যতার কারণে বিএনপি কোনো জোটের নেতৃত্ব দিতে পারবে না। কারণ, বিএনপি নেতৃত্ব সংকটে আছে, দেশের মানুষও বিএনপির ওপর আস্থা রাখতে পারছে না।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতার/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।