মোমেন-ব্লিংকেনের বৈঠক
আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে অংশগ্রহণ করাতে আমেরিকাকে বাংলাদেশের অনুরোধ
বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি যাতে অংশগ্রহণ করে সে ব্যাপারে প্রভাব খাটাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে অনুষ্ঠিত দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এ আহবান জানান। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন সাংবাদিকদের ব্রিফ করে এ কথা জানান।
আজ ঢাকায় প্রাপ্ত খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে বলেছেন, "নির্বাচন যেনো স্বচ্ছ, অবাধ ও সুষ্ঠু হয়। সব দল জয়েন করে, একটি দল (বিএনপি) ছাড়া। এই পার্টি তৈরি হয়েছে মিলিটারি দ্বারা। তারা নির্বাচনে আসে না। যুক্তরাষ্ট্রের চ্যালেঞ্জ তাদের রাজনীতিতে নিয়ে আসা। তাদের ভোটে জিততে হবে, মানুষের কাছে যেতে হবে। সেজন্য আমরা ফেয়ার সিস্টেম করেছি। আপনারা (আমেরিকা) বরং দেশের বিধিবিধান অনুসরণ করে তাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসুন।
উল্লেখ্য বিএনপি বরাবরই বলে আসছে বর্তমান ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনার অধীনে তারা কোনো নির্বাচনে যাবেনা এবং কোনো আলোচনায়ও যাবেনা । সম্প্রতি বিএনপি সহ বিরোধী কয়েকটি দল এবং নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে দাবী উঠেছে শেখ হাসিনা নয়, নিরপেক্ষ জাতীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে।
বিরোধী পক্ষের এসব দাবি এখন আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনা হচ্ছে। এ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনকে সংশ্লিষ্ট হবার আহবান জানিয়ে আন্তার্জাতিক মহলের উদ্বেগ আমলে নিয়েছে বাংলাদেশ। জানা গেছে, দু’দেশের পররাষ্ট্র পর্যায়ের বৈঠকের মূলপর্বে বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, শ্রম অধিকার, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করা সহ নানা আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গও উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি, বেসরকারি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকগন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএসএআইডির ডেপুটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ইসোবেল কোলম্যান।
যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার ওয়াকার-উজ-জামান, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসান, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. গোলাম সারোয়ার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পশ্চিম) শাব্বির আহমেদ চৌধুরী, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর বে অফ বেঙ্গল স্টাডিজের পরিচালক সাবেক রাষ্ট্রদূত তারিক এ করিম এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার ভোরে (ওয়াশিংটন সময় সোমবার সন্ধ্যায়) বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত ৫২তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের পঞ্চাশ বছর উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষন দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন গত সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি জে ব্লিনকেনের সঙ্গে বৈঠককে ফলপ্রসূ অভিহিত করে বলেন, আগামী ৫০ বছরে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার বিষয়ে আমরা আশাব্যঞ্জক আলোচনা করেছি। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থনদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতা এবং খ্যাতিমান ব্যক্তিদের ভূমিকা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি জর্জ বুশের বাংলাদেশকে জাতিসংঘের সদস্যপদ প্রদান সংক্রান্ত রেজুলেশনের পক্ষে ১৬ বারের মধ্যে ১৫ বারই সমর্থন দেওয়ার বিষয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু'দেশের অংশীদারীত্বের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্র, মানবিক মর্যাদা, আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
মোমেন বাংলাদেশের অব্যাহত উন্নয়ন ও অগ্রগতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ, নারীর ক্ষমতায়ন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উল্লেখ করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রায় পাশে থাকার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও জোরদা করতে শেখ হাসিনার সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন। #
পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান খান/ বাবুল আখতার /৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।