জিয়া পরিবারকে হেয় করতেই এ মামলা-বিএনপি
জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা চলবে: সুপ্রিম কোর্ট
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারমান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি মামলা চালু রাখার পক্ষে মত দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তাকে এ মামলায় নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পন করতে হবে।
আজ বুধবার (১৩ এপ্রিল) প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।
আদালতে জোবায়দা রহমানের পক্ষে শুনানি করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জোবায়দা রহমানের ও তার মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কাফরুল থানায় মামলা করে দুদক।
পরের বছর তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্র দাখিলের পর মামলা বাতিল চেয়ে জোবায়দা রহমান হাইকোর্টে আবেদন করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল হাইকোর্ট জোবাইদা রহমানের আবেদন খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে রায় দেন। একই সঙ্গে ওই মামলায় আট সপ্তাহের মধ্যে জোবায়দা রহমানকে বিচারিক আদালতে উপস্থিত হতে নির্দেশ
জিয়া পরিবারকে হেয় করতেই এ মামলা: বিএনপি
এদিকে, বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, জিয়া পরিবারকে হেয় করতেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। রিজভী বলেন, ‘১/১১ এর জরুরি সরকারের সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিনী ডা. জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে যে মামলাটি করা হয়েছিল তা ছিল সম্পূর্ণরুপে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কারণ, সেই জরুরি সরকার ছিল বর্তমান আওয়ামী সরকারের আন্দোলনের ফসল। রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্যই এই মামলাটি করা হয়েছিল।’
‘মূলত জিয়া পরিবারকে হেয় করার জন্য বানোয়াট, কাল্পনিক ও অসত্য মামলা দায়েরের ধারাবাহিকতারই অংশ ডা. জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে এই মামলা। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে লাখ লাখ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগসহ মহাদুর্নীতির তেলেসমাতি আজ দেশ-বিদেশে সবার মুখে মুখে। এই মূহুর্তে মামলাটি মূলত জনগণের দৃষ্টিকে অন্যদিকে ফেরানোর অপচেষ্টা মাত্র’- বলেন রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ‘ডা. জোবাইদা রহমান একদিকে যেমন জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্রবধু অন্যদিকে তিনি এদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী বর্ণাঢ্য পরিবারের সন্তান। সরকার অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই এই মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে টিকিয়ে রেখেছে। অথচ এই মামলাটির কোনো সারবত্তা নেই। আজ সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাহাদুরিতেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। বর্তমান সরকারের ইঙ্গিতেই আইন-আদালত নিয়ন্ত্রিত হয়।’
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলায় চার্জ শুনানির তারিখ আগামী ২৪ মে
এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদকের রুজু করা নাইকো দুর্নীতি মামলায় চার্জ শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামী ২৪ মে ধার্য করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে মামলাটি চার্জ শুনানির জন্য ধার্য ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় আদালতে হাজির হতে পারেননি। তার পক্ষে সময় আবেদন করা হয়। আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে চার্জ শুনানির পরবর্তী এ তারিখ ধার্য করেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী হেলাল উদ্দিন এ তথ্য জানান।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলা তদন্তের পর ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন মুখ্য সচিব কামাল উদ্দীন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউসুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এমএএইচ সেলিম, নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ। এ মামলার আসামি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ইতোমধ্যে মারা গেছেন।#
পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার /১৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।