বর্তমান সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে বিএনপির ঘোষণা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i107166-বর্তমান_সরকারের_অধীনে_আর_কোনো_নির্বাচনে_অংশ_নেবে_না_বলে_বিএনপির_ঘোষণা
বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি আবারো দৃঢ়তার সাথে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে, বর্তমান সরকারের অধীনে বিএনপি আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
এপ্রিল ২৬, ২০২২ ১৩:৩০ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি আবারো দৃঢ়তার সাথে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে, বর্তমান সরকারের অধীনে বিএনপি আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আজ পৃথক অনুষ্ঠানে একই ঘোষণার পুনরাবৃত্তি করেন। আজ (মঙ্গলবার) সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের নিজ বাসভবনে বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিকদের কাছে বলেন,আমাদের এ প্রিয় দেশ আজ স্বাধীনতার ৫০ বছর অতিক্রান্ত করছে। সুখী সমৃদ্ধ একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ পাবার আশায় আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। কিন্তু র্দুভাগ্যের বিষয় সে আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবায়ন হয় নি।  

আন্দোলন করার ক্ষেত্রে বিএনপির সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা কতটুকু-এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি রাজপথে আছে বলেই সরকারের টনক নড়েছে। এখন সতর্কভাবে আন্দোলনে আছি, ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সব রকমের আন্দোলন করবো।

বিএনপি মহাসচীব  আরো বলেন, আওয়ামী লীগ এখন চিহ্নিত স্বৈরতান্ত্রিক সরকার। এটা এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। জনগণ থেকে এই সরকার সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। এ সরকার পুরোপুরিভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে আমলা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপরে। এ সরকারের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করলেই তাকে জেলে নেওয়া হয় তার প্রমাণ কলাবাগানের মা ও ছেলে। এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে এই সরকার কতটা স্বৈরাচার।

এদিকে, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সমাবেশে বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না।

সমাবেশে গয়েশ্বর খোলাসা করে বলেন, ‘শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে এবং পার্লামেন্ট বাতিল করা না হলে অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া দেশের জনগণ ভোট দিতে পারবে না। সেই কারণে বিএনপির সিদ্ধান্ত এই সরকারের অধীনে কোনো প্রহসনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। ’নিউমার্কেটে সংঘর্ষে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেনের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে দলীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ঢাকাসহ সারা দেশের মহানগরগুলোতে এই প্রতিবাদ সমাবেশ হয়।

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের প্রতিবাদের জায়গা শুধু প্রেসক্লাব নয়; ঢাকা শহরের কমপক্ষে শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা আছে সেখানেও প্রতিবাদ করতে হবে। এই আন্দোলন নিজ নিজ এলাকায় ছড়িয়ে দিতে হবে। বড় রাস্তা, ছোট রাস্তা, অলিগলি পাড়া মহল্লায় ছড়িয়ে দিতে হবে। সব জায়গায় প্রতিবাদের ঝড় তুলতে হবে। তা না হলে যে লক্ষ্য অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন তা দুরূহ হবে।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা এখানে আজ প্রতিবাদ করছি নিউমার্কেটের ঘটনার জন্য। ঢাকা শহরের যত মার্কেট আছে সব মার্কেটেরই বেহাল অবস্থা। এখানে ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ করেছে, সে কারণে মারামারি হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বছরের পর বছর চাঁদা দিয়ে যাচ্ছে। আজকে শেখ হাসিনা ছাত্রদের লেখাপড়ার সুযোগ দিক বা না দিক কিন্তু ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ নানা অপকর্মের মধ্য দিয়ে অর্থলুট করছে। ’এই সরকার দেশে লুটপাট ও দুর্নীতির অভয়রণ্য তৈরি করেছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ১০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেও হয়নি।

সমাবেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে যত মামলা হয়েছে, প্রত্যেকটা মামলার আইও আছে। তাদের বাড়ি ঘরের ঠিকানা কিন্তু সবাই জানে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর বিএনপি যৌথভাবে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেছেন দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু। এ সময় ঢাকা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হকের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতার/২৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।