সয়াবিনের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া
বিশ্বে সবকিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী-কাদের: মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষ চরম ভোগান্তিতে -ফখরুল
বাংলাদেশে আজ থেকে সয়াবিন তেল বর্ধিত দামে বিক্রি শুরু হয়েছে। গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত এই বর্ধিত মূল্য ঘোষণার পর থেকেই বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম গতকাল লিটারে ৩৮ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
দাম বৃদ্ধিতে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৮ টাকায় এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৩৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদ্ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন,তেল – জ্বালানিসহ সবকিছুর দাম সারা বিশ্বেই উর্ধ্বমুখী। ওবায়দুল বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী দেশসহ অনেক দেশে ডাবলেরও বেশি বেড়েছে। এর কারণ হলো ইউক্রেন যুদ্ধ। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তেলের দামের ওপর প্রভাব পড়ছে। তেল, জ্বালানিসহ সবকিছুর দাম সারা বিশ্বেই ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশ তো আইসোলেটেড কোনো আইল্যান্ড নয়। কাজেই এর প্রভাব-প্রতিক্রিয়া সব জায়গায় পড়বে, কিছু করার নেই।’
অন্যদিকে, সয়াবিন তেলের মূল্যবৃদ্ধি সরকারের চরম গণবিরোধী নীতির বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফখরুল বলেন, সয়াবিন তেল এখন সোনার হরিণ। এই সরকার যে জনগণের শক্রপক্ষ সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধিতে তা আবারও প্রমাণিত হলো। ঈদুল ফিতরের আগে বাজার থেকে সয়াবিন তেল উধাও এবং গতকাল সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি অভিনব নজীরবিহীন ঘটনা—যা জনগণকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। ক্ষমতাসীন মহলের সিন্ডিকেটের দৌরাত্বেই বাজার থেকে সয়াবিন তেল গায়েব করে এখন দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে মধ্যম ও স্বল্প আয়ের মানুষকে গচ্চা দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। এই ঘটনায় জনগণকে চরম হয়রানির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, 'বাজারের যে কিছু নিয়মকানুন আছে সেগুলো আমাদের দেশে নেই। বাজারে অনিয়ন্ত্রিত গোষ্ঠী থাকলে আইন-কানুন কাজ করে করে না। ব্যবসায়ীদের মুনাফার মানসিকতার পাশাপাশি যোগ হয়েছে বিভিন্ন কমিশন। সরকার জনস্বার্থে কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা করছে না।' তিনি আরও বলেন, 'সরকারের কাছে আমরা যে প্রত্যাশা করি তা অনুপস্থিত। অনিয়ন্ত্রিত বাজারে যারা লাভবান হচ্ছেন সরকার তাদের সুযোগ করে দিচ্ছে।
আর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেছেন, 'তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি কোনোভাবেই জনগণ এবং সরকারের জন্য ভালো না। সরকার বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং নিরুপায়। করোনা পরবর্তী বিশ্ব বাস্তবতা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, তেল উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশগুলোর মনোপলি আচরণের কারণে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি।'
তিনি আরও বলেন, 'সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে বিষয়টি সহনশীল পর্যায়ে আনতে। জনগণের যেন কষ্ট কম হয় সেজন্য বিকল্প চিন্তা করা হচ্ছে। অচিরেই একটা কর্মপন্থা নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। আপাতত সমস্যার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।'#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/৬