ভোজ্যতেল সংকট
বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট সৃষ্টির জন্য মিলার-ব্যবসায়ীদের দোষলেন বাণিজ্যমন্ত্রী
রোজা শেষে দাম বাড়বে জেনেই অবৈধভাবে মজুত করে বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট সৃষ্টি করেছেন মিলার থেকে শুরু করে খুচরা ব্যবসায়ীরা-এমনটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
ভোজ্য তেলের সরবরাহ সংকট নিয়ে সোমবার (৯ মে) সচিবালয়ে মিলারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, মিলার-ব্যবসায়ীদের বিশ্বাসের খেসারত দিতে হচ্ছে। তবে উৎপাদক কোম্পানিগুলো কোনো দায় নিতে রাজি নয়।
রমজান মাসে ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু ঈদুল ফিতরের আগ মুহূর্তে হঠাৎ করেই বাজার থেকে সয়াবিন তেল উধাও হয়ে যায়। এ অবস্থায় গত ৫ মে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম এক দফায় লিটারপ্রতি ৩৮ টাকা বাড়িয়ে রেকর্ড পরিমান উচ্চ মূল্য ১৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তার পরও বাজারে তেলের সরবরাহ সংকট চলছে। এ নিয়ে ব্যাপকভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ভোক্তা সাধারণ।
এ সময় সাংবাদিকদের সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান জানান, ডিলার বা খুচরা বিক্রেতারা তেলের দাম বাড়ালে তার দায় কোনো উৎপাদক কোম্পানির নয়। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বাড়ার কারণে আমাদের দেশেও বেড়েছে। আমরা চেষ্টা করছি সামনে যাতে আর এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেদিকে আমরা খেয়াল রাখব।
বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বঙ্গভবনে দলীয় সভায় বাদাম তেল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এ সময় তেল উৎপাদনের আরও কী পদ্ধতি আছে সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী।এদিকে বাজার পরিস্থিতি তদারকিতে নেমে ভোক্তা অধিকার পরিষদ রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেটে অভিযান চালিয়ে গুদামে মজুদ করা সয়াবিন তেল উদ্ধার করেছে এবং জরিমানা আদায় করেছে।
চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে একটি গুদাম থেকে ১৫ হাজার লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। সোমবার (৯ মে) দুপুরে বন্দর নগরীর পাহাড়তলীতে অভিযান চালিয়ে মুলয় কারসাজির অভিযোগে একজন ডিলারকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এর আগে চট্টগ্রামে কর্ণফুলী মার্কেটে অভিযান চালিয়ে বাড়তি দামে বিক্রির জন্য গোপন জায়গায় বোতলজাত সয়াবিন তেল মজুত করায় একটি দোকানকে রোববার ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতর।
এদিকে, ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ১১০ টাকা লিটারে সয়াবিন তেল বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা ঘোষনা দিয়েছে। পাশাপাশি এই কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে আগামী জুন মাস থেকে এক কোটি কার্ডধারী পরিবারের কাছে এই একই দামে তেল বিক্রি করা হবে।
টিসিবি সুত্র জানিয়েছে, সরকার টিসিবির মাধ্যমে সরাসরি সয়াবিন তেল আমদানি করার পরিকল্পনা নিয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর সাথে ইতোমধ্যেই রাষ্ট্র মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠনের মাধ্যমে সয়াবিন তেল ক্রয় করার জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।