বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আলোকসজ্জা না করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখাটাই কষ্টকর ব্যাপার হয়ে গেছে: শেখ হাসিনা
কিছুদিন আগেও গর্বভরে দাবি করা যতো দেশ থেকে বিদ্যুৎ ঘাটতি উধাও হয়ে গেছে। এখন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টার, বিপনি বিতান, দোকানপাট, অফিস-আদালত এবং বাড়িঘরে আলোকসজ্জা না করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ (বুধবার) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ আহ্বানের কথা জানানো হয়। এ ছাড়া আজ গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) স্থাপিত ইনকিউবেটরের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এলাকাভিত্তিক পালাক্রমে লোডশেডিং করার প্রস্তাব করেন।
তিনি বলেছেন, ‘রাশিয়ার ওপর আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার ফলে এখন পুরো বিশ্বেরই নাভিশ্বাস অবস্থা। এ অবস্থায় আমাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখাটাই একটা কষ্টকর ব্যাপার হয়ে গেছে। তাই, বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের শিডিউল করে দিতে বলা হয়েছে।’
বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ সংকেটর বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ১৬০০-১৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। সেখানে আমরা দিতে পারছি মাত্র ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এর বেশি গ্যাস আমরা দিতে পারছি না, কারণ অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে কৃষি ও শিল্পখাতকে। কৃষির জন্য সার অপরিহার্য। সার উৎপাদনেও আমাদেরকে অনেক গ্যাস দিতে হচ্ছে’।
উল্লেখ্য, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন এখনও কম। লোডশেডিংও গত কয়েক দিনের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। ঢাকার দুই বিতরণ কোম্পানিই বলছে, লোডশেডিং করা হচ্ছে ৪৬০ মেগাওয়াট। প্রতিটি ফিডারে নিয়ম মাফিক এই লোডশেডিং করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে দেশে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
এখন দিনে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় ১০ হাজার ৮৩১ মেগাওয়াট এবং রাতে পিক আওয়ারে ১২ হাজার ৩৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। কিন্তু দিনে-রাতে সবসময়ই এর চেয়ে অন্তত দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা রয়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশের গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুতের অবস্থা বেশি খারাপ। চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ কম থাকায় ৬৯টি গ্রিডের সবক’টিতে লোডশেডিং করা হচ্ছে।
এর আগে গতকাল (৫ জুলাই) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ গ্যাস-বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হবার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখা করে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ এর প্রভাব সব জায়গায় পড়েছে। করোনার ধাক্কা যখন সবাই কাটিয়ে উঠছিল তখনই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পুরো বিশ্বকে গভীর সংকটে ফেলেছে। এই সংকট শুধু উন্নয়নশীল দেশেই নয়, অনেক উন্নত দেশেও প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি মার্কেট চরম অস্থিতিশীল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক খাদ্য পণ্যের বাজারও বেসামাল। বৈশ্বিক এই সংকট আমাদেরকেও বিপদে ফেলেছে।’
প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে ‘দিন বদলের ইশতেহারে’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সবার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবেন। সেই রূপকল্প আমরা বাস্তবায়ন করেছি। মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস বিদ্যুতের কোনও বিকল্প নাই। আমরা সে লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু যুদ্ধের কারণে হঠাৎ ছন্দপতন সব জায়গাতেই’।
উন্নত দেশ জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। ভারত-পাকিস্তানের বিদ্যুৎ সংকেটর বিষয়টিও সামনে আনেন। সবাইকে এই সংকটকালীন সময়ে রেশনিং করতে হচ্ছে বলে জানান নসরুল হামিদ।
এ পরিস্থিতি খুব বেশিদিন থাকবে না আশাব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি বছরেই পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভারত থেকে ১৬০০ মেগাওয়াট আমদানিকৃত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে’।
নসরুল হামিদ বলেন, 'চলমান সংকটে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বিশ্বাস রাখতে বলব। সবার কাছে একটাই অনুরোধ আসুন আমরা সবাই গ্যাস-বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যায়ী হই’।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।