প্রমাণিত হয়েছে এ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: বিএনপি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি'র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, বর্তমান সরকারের অধীনে কোন সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, তা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে আবারো প্রমাণিত হয়েছে। ছয়টি ধাপের নির্বাচনে রক্তাক্ত সন্ত্রাসের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ঘেরাটোপে একতরফাভাবে নির্বাচনী ফসল আওয়ামী লীগ নিজেদের গোলায় তুলেছে।
আজ (শনিবার) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ৬ষ্ঠ ধাপের ইউপি নির্বাচনের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।
দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন করে সরকার গ্রাম-গঞ্জে সহিংসতা ছড়িয়ে দিয়েছে, এমন অভিযোগ করে রিজভী আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ রক্তাক্ত সন্ত্রাসে একতরফা নির্বাচন করছে। শেষ ধাপেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে সিল মারছে। নির্বাচনকে ঘিরে যত হত্যাকাণ্ড হয়েছে সবই সরকারের অঙ্গুলির নির্দেশে হয়েছে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা বেস্টনীতে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দিয়ে ভোট কেন্দ্র দখল করেছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। অভিনব কায়দায় বিএনপির প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট ও সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এই নির্বাচনে শাসকদলের ক্যাডারদের সন্ত্রাস, পুলিশী সন্ত্রাস, র্যাবের সন্ত্রাস, সবমিলিয়ে অভূতপূর্ব নির্বাচনী সন্ত্রাস দেখা যাচ্ছে। আর নির্বাচন কমিশন সন্ত্রাস, ভোট ডাকাতি, রিগিং একাকার করে দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান কমিশনের অধীনে সব নির্বাচনে কারবালার মাতম উঠেছে। অসংখ্য মানুষের রক্তাক্ত লাশ দেখেও তারা বিচলিত হননি। বরং বার বার স্বাভাবিক ঘটনা বলে সহিংসতাকে সশস্ত্র আওয়ামী ক্যাডারদের পক্ষে উস্কে দিয়েছে। চাকরি হারানোর ভয়ে নির্বাচন কমিশন শাসকদলের পক্ষে কাজ করেছে বলেও জানান রিজভী।
তিনি আরও বলেন, একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের উদ্দেশ্য নিয়েই দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। স্থানীয় সরকারে তাদের একতরফা নিজেদের লোক দরকার, তা না হলে একদলীয় ব্যবস্থা কায়েম করা যায় না।
এ সময়, প্রস্তাবিত বাজেটকে গণবিরোধী অ্যাখা দিয়ে রিজভী বলেন, এ বাজেট জনগণের কোন কাজে আসবে না, লুটতরাজকারীদের পক্ষে গেছে বাজেট।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী প্রতিক্রিয়াশীল শব্দের মানে বুঝতে পারবেন না। কারণ, তিনি এরশাদের মন্ত্রী ছিলেন এবং কখনো কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের মন্ত্রী ছিলেন না। তার মাইন্ডসেট এখনো পরিবর্তন হয়নি। আর প্রতিক্রিয়াশীল শব্দের অর্থ হচ্ছে গণবিরোধী। রুটি, আটার দাম বাড়ানো, কৃষি যন্ত্রপাতির দাম বাড়ানো এবং বেকারদের কোনো সুযোগ-সুবিধা না থাকায় প্রস্তাবিত বাজেট মানুষের পক্ষে যায়নি। এটাকে প্রতিক্রিয়াশীল বলা হয়।#
পার্সটুডে/শামস মন্ডল/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/৪