শাহ সুলতান বলখী মাহিসাওয়ার এক আধ্যাত্মিক দরবেশ যোদ্ধার কাহিনী
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i111500-শাহ_সুলতান_বলখী_মাহিসাওয়ার_এক_আধ্যাত্মিক_দরবেশ_যোদ্ধার_কাহিনী
বাংলাদেশে ইসলাম ধর্ম প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে যে সকল আধ্যাত্মিক দরবেশ যোদ্ধা ভূমিকা রেখেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, শাহ সুলতান বলখী মাহিসাওয়ার । একাদশ শতাব্দিতে আফগানিস্তান থেকে আগত এ মুসলিম ধর্ম প্রচারক প্রথমে সন্দ্বীপে ইসলাম প্রচার করেন এবং পরে পুণ্ড্রবর্ধন (বর্তমান বগুড়া জেলা) অঞ্চলে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করেন।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
আগস্ট ০৫, ২০২২ ১১:১০ Asia/Dhaka

বাংলাদেশে ইসলাম ধর্ম প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে যে সকল আধ্যাত্মিক দরবেশ যোদ্ধা ভূমিকা রেখেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, শাহ সুলতান বলখী মাহিসাওয়ার । একাদশ শতাব্দিতে আফগানিস্তান থেকে আগত এ মুসলিম ধর্ম প্রচারক প্রথমে সন্দ্বীপে ইসলাম প্রচার করেন এবং পরে পুণ্ড্রবর্ধন (বর্তমান বগুড়া জেলা) অঞ্চলে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করেন।

পুণ্ড্রবর্ধনের  রাজধানী  মহাস্থানগড়ে  রয়েছে তার মাজার। এ  স্থানটি আজ পুন্যার্থীদের জন্য এক তীর্থস্থান। ১৬৮৫ সালে মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজত্বকালে বলখীর দরগা খাজনা মুক্ত ঘোষণা করা হয় এবং   মাজারে বুড়ি কা দরজা  নামে প্রবেশদ্বার  স্থাপন  করা হয়। ।

প্রতিদিন হাজার হাজার  নারী-পুরুষ  পুণ্য লাভের আশায় মাজারে এসে জিয়ারত করেন, সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভের জন্য নফল নামাজ ও দোয়া-দরুদ পাঠ করেন । এ ছাড়া জাগতিক মনোবাঞ্ছা  পূরণের  জন্য  মাজারের বাক্সে দান করেন। অনেকে  সন্তানের মুখে  প্রথম ভাত তুলে দেবার দিনে এখানে  রান্না করা খাবার নিয়ে আসেন এবং  গরীবদের  মাঝে  বিতরণ করেন।

এ প্রসঙ্গে মাজার এলাকার এক দোকানী  আবু ওবায়দা খোকন রেডিও তেহরানকে  জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন  আসে  মাজারে দান করে  বা গরীবদের টাকা- পয়সা  বা রান্না করা খfবার  দান করেন । শুক্রবার শ’খানেক  বাস  আসে  দূরের  জেলা থেকে  পুন্যার্থীদের  নিয়ে। 

মহাস্থানগড়   মাজার মসজিদ কমিটির   প্রশাসনিক কর্মকর্তা  মোঃ জাহেদুর রহমান রেডিও তেহরান-কে জানান, এখানে  প্রতিদিন  কয়েক হাজার দর্শনার্থী  এবং পুন্যার্থীর  আগমন ঘটে। শুক্রবার  জুম্মা উপলক্ষে  প্রায় দশ হাজার মানুষের সমাগম হয়।  এখানে আগত ধর্মপ্রাণ মানুষদের দানে পরিচালিত  হচ্ছে  মাজার-মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ  এবং  উন্নয়নমূলক কাজ। প্রশাসনের  পক্ষ থেকে  পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।

ইতিহাস  থেকে জানা  যায়, আফগানিস্তানের বালখ রাজ্যের সম্রাট শাহ আলী আসগরের পুত্র  ছিলেন  শাহ  সুলতান।  পিতার মৃত্যুর পর তাকেই সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করা হয়।  কিন্তু তিনি তার সাম্রাজ্য ছেড়ে দামেস্ক শহরে এক আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ কামেল পীরের শিষ্যত্ব  গ্রহণ করেন। সেখানে  প্রায় একযুগ  ( ১২ বছর  ভিন্ন মতে ৩৬ বছর )  আধ্যাত্মিক শিক্ষা সম্পন্ন করে ইসলাম  প্রচারের  উদ্দেশ্যে   বাংলায় আগমন করেন।

কথিত আছে শাহ সুলতান তার শীষ্যদের নিয়ে ফকিরবেশে একটি মাছ আকৃতির নৌকাতে করে মহাস্থানগড় এসেছিলেন সেখান থেকে তার নামের  সাথে যুক্ত হয়েছে  মাহিসাওয়ার (মাছের পিঠে সওয়ার হয়ে  আগমনকারী)।   বলখ থেকে এসেছিলেন সেজন্য তাকে শাহ সুলতান বলখীও বলা হয়। মহাস্থানগড় পৌঁছে তিনি ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকেন, প্রথমে রাজা পরশুরামের সেনাপ্রধান, মন্ত্রি এবং কিছু সাধারণ মানুষ ইসলামের বার্তা গ্রহণ করেন। এভাবে পুণ্ড্রবর্ধনের মানুষ হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে থাকলে রাজা পরশুরামের সাথে শাহ সুলতানের বিরোধ বাধে এবং এক সময় শাহ সুলতানের দলের  ওপর   হামলা করে। যুদ্ধে রাজা পরশুরাম পরাজিত এবং মৃত্যু বরন করেন।  পিতার  মৃত্যুর সংবাদ শুনে রাজকন্যা শিলাদেবী করতোয়া নদীতে ডুবে মরেন।  তার ডুবে যাওয়ার স্থানটি  আজো  শিলা দেবীর ঘাট বলে পরিচিত।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/রেজওয়ান হোসেন/৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।