নতুন বিশ্বব্যবস্থায় মার্কিন আধিপত্যবাদের স্থান নেই: জার্মানিতে ইরানের রাষ্ট্রদূত
-
জার্মানিতে ইরানের রাষ্ট্রদূত মাজিদ নিলি।
পার্সটুডে: জার্মানিতে ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, উপনিবেশবাদ ও আধিপত্যবাদের যুগের অবসান ঘটছে এবং বিশ্ব একটি নতুন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা ন্যায়বিচার, পারস্পরিক সম্মান এবং সভ্যতাসমূহের সংলাপের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন বিশ্বব্যবস্থায় যুদ্ধনীতি, জোরজবরদস্তি এবং “আমেরিকা ফার্স্ট”-এর মতো স্লোগানের কোনো স্থান থাকবে না।
পার্সটুডে’র খবরে বলা হয়েছে, জার্মানির রাজধানী বার্লিনে অনুষ্ঠিত “উপনিবেশবাদের ৫০০ বছরের যুগের অবসান; সভ্যতাসমূহের সংলাপের পথে” শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জার্মানিতে ইরানের রাষ্ট্রদূত মাজিদ নিলি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, উপনিবেশবাদের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটলেও এর তিক্ত উত্তরাধিকার এখনও আন্তর্জাতিক কাঠামো, রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।
রাষ্ট্রদূত নিলি আরও বলেন, এই বাস্তবতার সুস্পষ্ট উদাহরণ হলো কিছু শক্তিধর দেশের হস্তক্ষেপমূলক ও যুদ্ধমুখী নীতির ধারাবাহিকতা, যারা নিজেদেরকে সভ্যতার ধারক বলে দাবি করলেও বাস্তবে উপনিবেশবাদী মানসিকতার উত্তরাধিকার বহন করছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন, মিনাবে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হওয়ার ঘটনা এবং এসব যুদ্ধাপরাধের ব্যাপারে কিছু রাষ্ট্রের নীরবতা বা সমর্থন সেই উপনিবেশবাদী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।
নিলি বলেন, বিশ্ব এখন একটি নতুন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যার ভিত্তি হবে আধিপত্যবাদ ও বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে “না” এবং ন্যায়বিচার, পারস্পরিক সম্মান, সংলাপ ও মানবিক-সভ্যতাগত মূল্যবোধের পক্ষে “হ্যাঁ”।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “নিঃসন্দেহে এমন একটি বিশ্বব্যবস্থায় ‘আমেরিকা ফার্স্ট’-এর মতো স্লোগান কিংবা ইরানের মতো প্রাচীন ও সমৃদ্ধ সভ্যতার বিরুদ্ধে হুমকিমূলক নীতির কোনো স্থান থাকবে না।”
ইরানি রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বৈশ্বিক প্রবণতাগুলো স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে নতুন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং বৈজ্ঞানিক শক্তিগুলোর উত্থান ঘটছে। ফলে পশ্চিমা বিশ্বকে এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে এবং উদীয়মান শক্তিগুলোর ভূমিকা ও অবস্থানকে সম্মান করতে হবে।
তার মতে, ভবিষ্যতের বিশ্ব আর একক শক্তির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে না; বরং বহুমাত্রিক অংশীদারিত্ব, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে নতুন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে উঠবে।#
পার্সটুডে/এমবিএ/২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।