ডলারের দাম বাড়ায় ভোজ্য তেলের বাজারে সুফল পাওয়া যাচ্ছে না: টিপু মুনশি
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i111754-ডলারের_দাম_বাড়ায়_ভোজ্য_তেলের_বাজারে_সুফল_পাওয়া_যাচ্ছে_না_টিপু_মুনশি
বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেলের দাম কমার পরও বাংলাদেশে কেন দাম বাড়ছে-এ প্রশ্নের উত্তরে আজ বাণিজ্য বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, দেশে ডলারের দাম বেড়েছে বলে ভোজ্য তেলের বাজারে সুফল পাওয়ার যাচ্ছে না। তারপরও ট্যারিফ কমিশন পুরো বিষয়টি যাচাই করবে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
আগস্ট ১১, ২০২২ ১২:০১ Asia/Dhaka

বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেলের দাম কমার পরও বাংলাদেশে কেন দাম বাড়ছে-এ প্রশ্নের উত্তরে আজ বাণিজ্য বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, দেশে ডলারের দাম বেড়েছে বলে ভোজ্য তেলের বাজারে সুফল পাওয়ার যাচ্ছে না। তারপরও ট্যারিফ কমিশন পুরো বিষয়টি যাচাই করবে।

আজ (বৃহস্পতিবার) মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ সময় সাংবাদিকেরা জানতে চান, শিগগিরই সয়াবিন তেলের দাম আরেক দফায় সমন্বয় করা হবে কি না? জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা তো একটি দাবি দিয়েছেন, সেটা যৌক্তিক কি না, সে আলোচনা করা হবে। এ বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যেই ট্যারিফ কমিশন বসবে।

উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারে প্রতি টন অপরিশোধিত সয়াবিনের দাম কমে ১ হাজার ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ ডলারে নেমে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে আবারও ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে আমদানিকারক ও পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। সম্প্রতি সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে ট্যারিফ কমিশনে চিঠি পাঠায় সংগঠনটি। তবে এ প্রস্তাবে এখনও সাড়া দেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু এরই মধ্যে খুচরা বাজারে বাড়তি মূল্যে তেল বিক্রি শুরু হয়ে গেছে।

এদিকে, বাজারে কয়েকটি কোম্পানির তেলের সরবরাহ এরই মধ্যে কমে গেছে। আবার কিছুসংখ্যক খুচরা ব্যবসায়ী বোতলের গায়ে লেখা মূল্যের চেয়ে লিটারে ৫ টাকা এবং পাঁচ লিটারে ১০ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছেন। একইভাবে খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দামও বেশি নেওয়া হচ্ছে।

খুচরা ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ পাঁচ লিটারের বোতল বিক্রি করছেন ৯১০ থেকে ৯২০ টাকায়। বোতলের গায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৯১০ টাকা লেখা থাকলেও এত দিন এগুলো কেনা যেত ৮৯০ থেকে ৯০০ টাকায়। একইভাবে এক লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়। এর গায়ে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৮৫ টাকা। খোলা সয়াবিনের দামও কেজিতে ১০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।

রাজধানীর খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার দু-একদিন পর থেকেই ডিলাররা তেলের সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছেন। তাঁরা এখন বোতলের গায়ে লেখা দরে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে তেল বিক্রি করছেন। এ কারণে খুচরা ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন।

এ ব্যাপারে ভোজ্যতেল পরিশোধন ও বিপণনকারী শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি টি কে গ্রুপের পরিচালক শফিউল আথহার তাসলিম বলেন, দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এখনও কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি। ডিলারদের কমিশন দিয়েই তেল সরবরাহ করে কোম্পানিগুলো। বোতলের গায়ের দরে বিক্রি করার সুযোগ তাঁদের নেই। কেউ এ ধরনের অনিয়ম করলে তার ডিলারশিপ বাতিল হয়ে যাবে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করার কোনো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। কেউ বেশি দামে বিক্রি করছে- এমন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।