রাঙামাটিতে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঠেকাতে ১৪৪ ধারা জারি
বাগেরহাটে বিএনপি’র বিক্ষোভ কর্মসূচিতে হামলা, আওয়ামী লীগের অস্বীকার
-
আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা রামদা, হকিস্টিকসহ লাঠিসোঁটা নিয়ে বিভিন্ন সড়কে মহড়া দেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী দেশব্যাপী বিক্ষোভ-সমাবেশ পালনকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় আজ দুপুর পর্যন্ত বিএনপির ১৬ নেতা-কর্মী আহত ও জখম হয়েছেন বলে দাবি করেছে দলটি। এ সময় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে একটি মোটরসাইকেলে।
চিতলমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আহসান হাবিব অভিযোগ করে বলেন, ‘জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ভোলায় ছাত্রদল সভাপতিসহ দু'জন নেতা খুন এবং নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হামলার প্রতিবাদে আজ সকালে চিতলমারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে আমাদের সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। এই সমাবেশ বানচাল করতে দুই-তিন দিন ধরে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আমাদের নেতা-কর্মীদের হুমকি ও মারধর করে আসছেন।’
আহসান হাবিব বলেন, ‘গতকাল সোমবার রাতেও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে মহড়া দিয়েছেন তাঁরা। সমাবেশ বানচাল করতে তাঁরা আজ সকাল থেকে হকিস্টিক, রামদা, লাঠিসোঁটাসহ দেশি অস্ত্র নিয়ে উপজেলা সদরে মহড়া দিচ্ছেন। সকালে সাবেক ছাত্রদল নেতা শফিকুল ইসলাম বাবুকে মারধর ও তাঁর মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছেন যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়া শাসক দলের হামলায় কৃষক দল নেতা শেখ মোহাম্মাদ আলী, যুবদল নেতা কামাল বিশ্বাস, বিএনপির নেতা মনিরুল ইসলামসহ আমাদের অন্তত ১৬ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
বিএনপির এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলছে আওয়ামী লীগ। যদিও রামদা, হকিস্টিক, লাঠিসোঁটা নিয়ে চিতলমারী উপজেলা সদর বাজারে দলবদ্ধ হয়ে যুবলীগ নেতা-কর্মীদের হেঁটে যাওয়ার একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন চিতলমারী সদর ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো. ইব্রাহিম মুন্সি। ফেসবুকে ওই ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘বাজারে মহড়া চলছে, চিতলমারী যুবলীগ’। সকাল ১০টার কিছু আগে ছবিটি পোস্ট করার অল্প সময় বাদেই সেটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
এমন অবস্থায় সকাল থেকে আতঙ্ক ছড়িয়েছে উপজেলাজুড়ে। ভয়ে দোকানপাট বন্ধ করে ফেলেন বাজারের অনেক ব্যবসায়ী। সকাল থেকে রাস্তাঘাট অনেকটা ফাঁকা।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চিতলমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. বাবুল হোসেন খান। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শোকাবহ আগস্ট উপলক্ষে আজ উপজেলা যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল ছিল। তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও যোগ দেন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের কর্মসূচি পালন করেছি। কোথাও বিএনপির কোনো নেতা-কর্মীর ওপর হামলার প্রশ্নই ওঠে না। তাদের সব অভিযোগ মিথ্যা। বিএনপির নিজেদের মধ্যে কোন্দল। সেই কোন্দলের দায় তারা আমাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।’
এ ব্যাপারে চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান বলেন, ‘আজ শহীদ মিনার এলাকায় বিএনপি কর্মসূচি দিয়েছিল। সেখানে পুলিশ ছিল, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এদিকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এর মধ্যে উপজেলার আড়বুনিয়া এলাকায় যুবলীগের একটি মিছিলের মধ্যে এক ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে ঢুকে পড়ে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ালে একপর্যায়ে তিনি মোটরসাইকেল রেখে পালিয়ে যান। পরে বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা ওই মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেন। তবে কোথাও হামলার কোনো ঘটনা শুনিনি।’
প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘এমন কোনো অভিযোগ আমরা শুনিনি। মিছিলে অতি উৎসাহী হয়ে কেউ লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে থাকতে পারেন। অনেক জায়গায় জাতীয় পতাকা নিয়েও মিছিল করেছেন তাঁরা।’
নোয়াখালীর সেনবাগে ১,৩৪৮ বিএনপি কর্মীর নামে মামলা
ওদিকে, নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ ১ হাজার ৩৪৮ নেতা-কর্মীকে আসামি করে থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলার বাদী পুলিশ এবং অন্য মামলার বাদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতা।
গতকাল সোমবার রাতে সেনবাগ থানায় দায়র করা মামলায় আজ সকাল পর্যন্ত বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১৫ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলার অপর আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
এর আগে গতকাল বিকেলে উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের গাজীরহাট মোড় এলাকায় বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে রাতে থানায় একটি মামলা করেছে। মামলায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মফিজুর রহমানসহ ২২৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা হিসেবে আরও ৪০০ থেকে ৪৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
একই সময় আওয়ামী লীগের মারধর ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় ডমুরুয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেছেন। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য। এ মামলায়ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মফিজুর রহমানসহ ২২৩ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া এ মামলায় আরও ৪০০ থেকে ৪৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গতকাল বিকেলে সেনবাগ উপজেলার গাজীরহাট মোড় এলাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতা কাজী মফিজুর রহমান। বিকেলে বিএনপির একটি মিছিল সমাবেশস্থলের দিকে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মুখোমুখি হয়। সময় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও তিনটি দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩১ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শটগান থেকে আটটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
রাঙামাটির জুরাছড়িতে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঠেকাতে ১৪৪ ধারা জারি
এ ছাড়া রাঙামাটির জুরাছড়িতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার সকালে এই ১৪৪ ধারা জারি কার্যকর হবে। অব্যাহত থাকবে সন্ধ্যা অবধি। এসময়ে ওই এলাকায় সভা, সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন বলেন, ‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু, সরকার আইনকে হাতিয়ার করে যেভাবে বিরোধী দলের কর্মসূচি ভণ্ডুল করছে, সেটার কারণে আইনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা কমে যাবে। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে, এভাবে যেনো আইনের অপপ্রয়োগ না করে। এটা পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ও প্রশাসনকেও অবহিত করেছি। এর আগেও লংগদু, কাপ্তাই ও রাঙামাটি শহরের একটি ওয়ার্ডে একইভাবে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর জানিয়েছেন, ‘জুরাছড়িতে আমাদের আগস্টের কর্মসূচি ছিল। বিএনপির কর্মসূচির কারণে প্রশাসন হয়ত আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এটা সম্পূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়, এর সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই।’#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।