শেখ হাসিনার ভারত সফর নিয়ে বিএনপি নেতারা নানা অপপ্রচারে লিপ্ত: কাদের
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i113106-শেখ_হাসিনার_ভারত_সফর_নিয়ে_বিএনপি_নেতারা_নানা_অপপ্রচারে_লিপ্ত_কাদের
বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আস্থাপূর্ণ হওয়ায় বিএনপির গাত্রদাহ শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বিএনপি দেশ ও জনগণের স্বার্থে প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতারা এই ব্যর্থতা আড়াল করতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর নিয়ে নানা অপপ্রচারে লিপ্ত। আজ (রোববার) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ব্রিফিংকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
সেপ্টেম্বর ১১, ২০২২ ১২:৫০ Asia/Dhaka

বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আস্থাপূর্ণ হওয়ায় বিএনপির গাত্রদাহ শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বিএনপি দেশ ও জনগণের স্বার্থে প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতারা এই ব্যর্থতা আড়াল করতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর নিয়ে নানা অপপ্রচারে লিপ্ত। আজ (রোববার) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ব্রিফিংকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘জনগণ আশা করেছিল, প্রধানমন্ত্রীর  ভারত সফরে তিস্তা পানিবন্টন চুক্তির সমাধান হবে, অভিন্ন নদীর পানির হিস্যা পাব, সীমান্তে হত্যা বন্ধ হবে, আমাদের যে বাণিজ্যে ব্যবধান আছে তা কমে আসবে- আরও সুযোগ-সুবিধা তিনি (প্রধানমন্ত্রী) নিয়ে আসতে পারবেন। ভারত  এ সব কিছুই ঝুলিয়ে রেখেছে।    

বিএনপি’র সমালোচনার জবাবে ওবায়দুল কাদের গতকালও বলেছেন,  প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের অর্জন নিয়ে জনগণ খুশি হলেও বিএনপি খুশি নয়; কারণ তারা চায় প্রতিবেশী দেশের সাথে বৈরিতা।

আজকের ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো ক্ষমতার জন্য বিদেশিদের কাছে ধর্ণা দেয় না। বিদেশে আওয়ামী লীগের বন্ধু আছে, কোনো প্রভু নেই।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণের ওপর আওয়ামী লীগের আস্থা শতভাগ। জনকল্যাণই আওয়ামী লীগের একমাত্র লক্ষ্য। জন্মলগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগ মাটি ও মানুষের সঙ্গে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। জনগণ শেখ হাসিনা সরকারের ওপর খুশি, সেকারণেই জনগণ বারবার আওয়ামী লীগকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।  

ওদিকে, আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ মন্তব্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর ফলপ্রসূ হওয়ায় বিএনপি ও মির্জা ফখরুল সাহেবদের মন খারাপ। ওনাদের কাজ বিভ্রান্তি ছড়ানো। ফখরুল সাহেব বিভ্রান্তি ছড়ানোতেই ব্যস্ত আছেন।

এ সময় তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর সফল ও অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম সফলতা হচ্ছে ভারতের স্থলভাগ ব্যবহার করে অন্য তৃতীয় দেশে বিনা শুল্কে পণ্য রপ্তানি করা। বহুদিন ধরে আলাপ-আলোচনার পর এই সফরে এটি বাস্তবায়ন হয়েছে। এতে করে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে নেপাল-ভুটান তাদের পণ্য আমদানি-রপ্তানি করতে পারবে। এটি একটি বড় অর্জন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের হাত ধরেই ভারতের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি আদায় করা হয়েছে। সমুদ্রসীমা, ছিটমহল আমাদের প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই মীমাংসা হয়েছে।

তিনি বলেন, তিস্তা চুক্তি না হওয়ার পেছনে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বাধা নয়। এটি হয়নি সংবিধান অনুযায়ী রাজ্য সরকারের কারণে। রাজ্যের বাধা থাকায় চুক্তিটি হয়নি। আমরা আশা করছি অচিরেই তিস্তা চুক্তিটি হবে। 

ভারতে ইলিশ রপ্তানি স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবিতে আইনি নোটিশ

এদিকে, ভারতে ইলিশ রপ্তানি স্থায়ীভাবে বন্ধে সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সরকারের চার সচিব ও তিনটি সংস্থার চেয়ারম্যান বরাবর রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এটি পাঠানো হয়। আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান এ নোটিশ প্রেরণ করেন।

বাণিজ্যসচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসচিব, পররাষ্ট্রসচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনসচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের প্রধান নিয়ন্ত্রক ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান বরাবর নোটিশটি পাঠানো হয়।

নোটিশে বলা হয়েছে, ‘ইলিশ মাছ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। কিন্তু বর্তমানে ইলিশ মাছের অত্যাধিক দামের কারণে বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী এই ইলিশ মাছ কেনার কথা চিন্তাও করতে পারে না। অন্যদিকে দেশের মধ্যবিত্ত জনগণও এই ইলিশ মাছ কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। বাজারে ইলিশ মাছের দাম গড়ে ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি। এ ছাড়া ইলিশ মাছের মধ্যে সবচেয়ে সুস্বাদু ইলিশ হলো পদ্মা নদীর ইলিশ।

ভারতে রপ্তানি করা ইলিশগুলো বেশির ভাগই পদ্মা নদীর উল্লেখ করে এই আইনজীবী আরও বলছেন, ‘এমনিতেই পদ্মা নদী থেকে সীমিত পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যায়। তাই এই পদ্মার ইলিশগুলো ভারতে রপ্তানির ফলে বাংলাদেশের বাজারগুলোতে পদ্মার ইলিশ যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশের রপ্তানি নীতি-২০২১-২৪ অনুযায়ী ইলিশ মাছ মুক্তভাবে রপ্তানিযোগ্য পণ্য নয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ অনায্যভাবে, জণগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে।’

আইনি নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে ভারতে ইলিশ রপ্তানি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করেছেন আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান। #

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১১ 

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।