দুর্গাপূজায় নাশকতা ঠেকাতে নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান কাদেরের
বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজায় নাশকতা ঠেকাতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
আজ (শুক্রবার) ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে পূজা উদযাপন কমিটি ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি এ আহ্বান জানান।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মনে প্রাণে ও চিন্তা চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর।’
ওদিকে, চট্টগ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দদের সাথে মত বিনিময়কালে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ইতিপূর্বে পুজামণ্ডপ বা মন্দিরে যেসব হামলা হয়েছে তার সাথে আওয়ামী লীগের লোকজন জড়িত। তাই এসব ঘটনায় শাস্তি হয় না, বিচার হয় না।
এদিকে, বিএনপি’র পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শারদীয় দুর্গোৎসবের কারণে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে আগামীকাল ১ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য পল্লবী জোনের সমাবেশ স্থগিত করে ৬ অক্টোবর বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রনাথ পোদ্দার বলেছেন, এবারের দুর্গাপূজায় দেশের কোনো মণ্ডপ-মন্দির অরক্ষিত অবস্থায় নেই।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আজ সকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন চন্দ্রনাথ পোদ্দার।
চন্দ্রনাথ পোদ্দার বলেন, ‘আমাদের সনাতন সম্প্রদায়ের যাঁরা পূজা আয়োজন করছেন, তাঁরা মনে করছেন, সুষ্ঠুভাবে দুর্গোৎসব করতে পারবেন। বাকি বিষয় সরকার ও প্রশাসন দেখবে। যাতে নির্বিঘ্নে পূজা করা যায়, সেটা নিশ্চিত করা তাদেরই দায়িত্ব।’
তবে পুলিশের আশংকা, দুর্গাপূজার সময়ে রাজনৈতিক সমাবেশের নামে নাশকতা ঘটানো হতে পারে। তাই সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সারা দেশে প্রায় ৩২ হাজার মণ্ডপে নিরাপত্তা প্রদানের জন্য প্রচুর সংখ্যক পুলিশ সদস্য পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ব্যস্ত থাকবেন। এ কারণে, রাজনৈতিক দলগুলোর অনুষ্ঠান পালনের আবেদন ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদে উদযাপনের লক্ষ্যে পুলিশ প্রাক-পূজা, পূজা চলাকালীন ও পূজা-পরবর্তী তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সব পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে হ্যান্ডহেল্ড মেটাল ডিটেকটর ও আর্চওয়ে গেট স্থাপন, পূজামণ্ডপে সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, নারী-পুরুষের জন্য পৃথক প্রবেশ ও প্রস্থান পথের ব্যবস্থা করা, পূজামণ্ডপ ও বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলো, স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর/চার্জার লাইটের ব্যবস্থা করা, আজান ও নামাজের সময় উচ্চশব্দে মাইক ব্যবহার না করার জন্য পূজা উদযাপন কমিটির প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল করার জন্যও অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।