ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিচ্ছে
জনগণই আমাদের শক্তি: শেখ হাসিনা
-
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যতক্ষণ জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে, ততক্ষণ চিন্তার কিছু নেই। কারণ, জনগণই আমাদের শক্তি।
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী এমন আশার কথা শোনান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্বে যে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিচ্ছে, তারমধ্যেও দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ-এগুলো সবসময় আমাদের মোকাবিলা করতে হয়, করতে হবে। সেটা আমরা করতে পারব। জনগণই হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। জনগণ যতক্ষণ আমাদের সঙ্গে আছে, আমাদের চিন্তার কিছু নেই ।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘যেভাবে করোনা মোকাবিলা করেছি, সেই একইভাবে যুদ্ধের সময় যে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে, যে ভয়াবহতা দেখা দিচ্ছে-এটা থেকে আমাদের দেশকে মুক্ত করতে হবে। এজন্য জনগণকে কাজে লাগাতে হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি, এই মর্যাদাটা ধরে রেখে আমরা যেন সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। উন্নয়ন-অর্জনের এ ধারাটা ধরে রেখেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে৷’
একনেক সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, সেপ্টেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিলন ৯ দশমিক ১ শতাংশ । একা বাংলাদেশের পক্ষে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
বর্তমান মন্দার সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্য মজুত করছে বলেও মন্তব্য করে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, পণ্য সরবরাহের পথে কোনো রকম বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে সরকার তা সহ্য করবে না।
ওদিকে, সরকারের কাছে পর্যাপ্ত চালের মজুত আছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন দেশে এখনই দুর্ভিক্ষের কোনো আশঙ্কা নেই। সাধারণ মানুষকে সাশ্রয়ী মূল্যে চালসহ কয়েকটি পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে ।
মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) সচিবালয়ে সভাকক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সাধারণত বছরের এই সময় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। কিন্তু, আমরা তা কাটিয়ে উঠেছি। ২ মাস পর আমন ধান কাটা শুরু হবে। আমাদের কাছে ১৫ লাখ টন চাল মজুত রয়েছে, যা এই সময়ের জন্য যথেষ্ট।
মন্ত্রী বলেন, চাল আমদানি উন্মুক্ত করা হলেও আমদানি করছেন না ব্যবসায়ীরা। গম প্রায় পুরোপুরি আমদানি নির্ভর হলেও, সেক্ষেত্রেও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, চালসহ অন্যান্য পণ্যের দাম আর তেমন বাড়বে না। ১ থেকে ২ টাকা এদিক-সেদিক হতে পারে। পণ্য-মূল্য কিছুটা বেশি হলেও দেশে দুর্ভিক্ষ হওয়ার আশঙ্কা নেই।#
পার্সটুডে/এআরকে/১১