বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের উদ্বেগে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i116986-বাংলাদেশের_রাজনৈতিক_পরিস্থিতি_নিয়ে_বিদেশি_কূটনীতিকদের_উদ্বেগে_মিশ্র_প্রতিক্রিয়া
আগামী ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির ঢাকা সমাবেশের স্থান নির্ধারণে মতদ্বৈততা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কয়েকদিন ধরেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত। এরই মধ্যে ঢাকার গুলশানে মরক্কোর রাষ্ট্রদূতের বাসায় বৃহস্পতিবার বিকেলে বৈঠক করেছেন ২৮ বিদেশি রাষ্ট্রদূত। বেলা ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
ডিসেম্বর ০৯, ২০২২ ১৪:০৭ Asia/Dhaka

আগামী ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির ঢাকা সমাবেশের স্থান নির্ধারণে মতদ্বৈততা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কয়েকদিন ধরেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত। এরই মধ্যে ঢাকার গুলশানে মরক্কোর রাষ্ট্রদূতের বাসায় বৃহস্পতিবার বিকেলে বৈঠক করেছেন ২৮ বিদেশি রাষ্ট্রদূত। বেলা ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বৈঠক সংশ্লিষ্ট কেউই কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে মন্তব্য করা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত বৃহস্পতিবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না এ বৈঠকে।

গতকাল বৃহস্পতিবারের বিকেলের এই জমায়েতকে 'নিয়মিত চা চক্র' বলা হলেও সেখানে আলোচনা গড়ায় বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ঘিরে। 

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—ভারত, জাপান, ইউরোপিয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরবসহ মোট ২৫ দেশের রাষ্ট্রদূতগণ।

এর আগে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মঙ্গলবার বিবৃতি দেয় ১৫টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এই বিবৃতিতে মিছিল-মিটিংসহ গণতান্ত্রিক চর্চার অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতি দেওয়া মিশনগুলোর মধ্যে আছে—অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশন, ব্রিটিশ হাইকমিশন, কানাডিয়ান হাইকমিশন, ডেনমার্ক দূতাবাস, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশন, ফরাসি দূতাবাস, জার্মান দূতাবাস, ইতালির দূতাবাস, জাপান দূতাবাস, নেদারল্যান্ডসের দূতাবাস, নরওয়ের দূতাবাস, স্পেনের দূতাবাস, সুইডিশ দূতাবাস, সুইজারল্যান্ডের দূতাবাস ও যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস।

অনধিকার চর্চা না করার অনুরোধ কাদেরের   

ওবায়দুল কাদের

বিশ্ব মানবাধিকার দিবসের আগমুহূর্তে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি রাষ্ট্রদূতগণের এমন বিবৃতিতে খানিক উষ্মা প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, তাদের দেশে কী ঘটনা ঘটছে, সেগুলো সামলান কারণ তাদের বিভিন্ন ম্যাশ স্যুটে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। তাই তাদের অনধিকার চর্চা না করার অনুরোধ জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।  

এ প্রসঙ্গে, আইন ও শালিশ কেন্দ্র আসক এর নির্বাহী পরিচালক নূর খান লিটন রেডিও তেহরানকে বলেছেন, কূটনীতিকদের যৌথ বিবৃতি একেবারেই সময়োপযোগী এবং বাস্তবিক। এখানে তারা মত প্রকাশের স্বাধীনতা, প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক সরকার ও সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থার যেসব বিষয় উল্লেখ করেছে তা একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য একান্ত অপরিহার্য। তাই বিষয়গুলোকে সরকারের মেনে নেয়া উচিত বলেই মনে করেন এ মানবাধিকার কর্মী।

তিনি বলেন, ১০ ডিসেম্বর বিশ্বমানবাধিকার দিবসের প্রাক্কালে ঢাকায় রাজনৈতিক দলের ওপর যে ধরনের বাধা ও চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে সেটা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। কারণ কথা বলার অধিকার সংকুচিত করার কোন সুযোগ কাউকে দেয়নি মানবাধিকার। স্বাধীন মত প্রকাশ করা সবার মৌলিক মানবাধিকার।

বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম রেডিও তেহরানকে বলেন, রাষ্ট্রদূতদের বক্তব্যে যেসব ভালো বিষয় থাকে সেটাকে ভালো বলা যায়, তবে প্রতিটি দেশের নিজস্ব রীতিনীতি আছে সেভাবেই রাষ্ট্রপরিচালনা করা হয়। সেখানে কোন কোন বিষয়ে অনধিকার চর্চা গ্রহণযোগ্য নয়। তবে দেশ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চেতনা জাগ্রত হোক এটা অবশ্যই চান জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক এই চেয়ারম্যান। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে কাউকে হেয় করাটাকেও মানবাধিকার বহির্ভূত বলছেন নাছিমা বেগম। তাই প্রত্যেককে গণতন্ত্রের বিষয়ে সহনশীল আচরণের পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক এই সচিব ও মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম।##    

পার্সটুডে/নিলয় রহমান/আশরাফুর রহমান/৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।