বান্দরবানের রুয়াংছড়ির কেএনএ’র গুলিতে সেনাসদস্য নিহত, আহত ২
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i120676-বান্দরবানের_রুয়াংছড়ির_কেএনএ’র_গুলিতে_সেনাসদস্য_নিহত_আহত_২
বাংলাদেশের বান্দরবানের রুয়াংছড়ির দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে সেনাবাহিনীর টহল দলের ওপর কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মির (কেএনএ) অতর্কিত গুলিবর্ষণে এক সেনাসদস্য নিহত এবং দুইজন আহত হয়েছেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মার্চ ১৪, ২০২৩ ০৬:০২ Asia/Dhaka
  • নাজিম উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান
    নাজিম উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান

বাংলাদেশের বান্দরবানের রুয়াংছড়ির দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে সেনাবাহিনীর টহল দলের ওপর কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মির (কেএনএ) অতর্কিত গুলিবর্ষণে এক সেনাসদস্য নিহত এবং দুইজন আহত হয়েছেন।

গতকাল (সোমবার) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে জাতীয় শিশু দিবস-২০২৩ ও মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মা ও শিশুদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে যাওয়া দলের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সেনাসদস্যদের ওপর রোববার আনুমানিক বেলা ১টায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ) অতর্কিত গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার নাজিম উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং দুই সেনাসদস্য আহত হয়। আহতরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার নাজিম উদ্দিন বিগত ৩০ বছর ধরে অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার পিতার নাম মৃত শমসের আলী। তিনি রংপুর সদরের ঘাঘটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। নাজিম উদ্দিনের মৃত্যুতে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।’

আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি ইতোপূর্বে ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বিয়া’ এর মতো একটি জঙ্গিগোষ্ঠীকেও বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকায় অর্থের বিনিময়ে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়েছে। পাহাড়ি এলাকার অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকার সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বান্দরবানের থানচি সড়ক নির্মাণকাজ চালাচ্ছে। এ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম প্রতিহত করতে কেএনএ সন্ত্রাসী দলটি সড়ক নির্মাণ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত অসামরিক ঠিকাদার, মালামাল সরবরাহকারী এবং শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে এবং কাজ বন্ধ করার হুমকি দেয়। কিন্তু সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ কাজ চলমান থাকায় কেএনএ গত ১১ মার্চ ১২ জন শ্রমিককে অপহরণ করে। এদের মধ্যে একজন শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয় এবং চারজন শ্রমিক এখনও জিম্মি রয়েছে। কেএনএ বাকি ৭ শ্রমিককে মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দিলেও তাদের সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ না করার হুমকি দেয় এবং ১২ মার্চ সেনাবাহিনীর টহল দলের ওপর গুলিবর্ষণ করে।’

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বান্দরবানের তিন উপজেলায় গাড়ি চলাচল বন্ধের জন্য কেএনএ পরিবহন মালিক সমিতিকে হুমকি দিয়ে নোটিশ জারি করে। কেএনএ সদস্যদের বিবিধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দ্বারা সৃষ্ট নিরাপত্তাজনিত কারণে গত রোববার ওই এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে জেলা প্রশাসন। এছাড়া কেএনএ’র নির্যাতনে স্থানীয় বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ঘর ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছে। কেএনএ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর চাঁদাবাজি, মাদক চোরাচালান, অপহরণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কারণে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, বেসরকারি বিনিয়োগ ও পর্যটন শিল্প বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। কেএনএ’র এই অপতৎপরতা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশ্ব দরবারে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে এবং সর্বোপরি পার্বত্য চট্টগ্রামের বিরাজমান শান্তি-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে বিঘ্নিত করছে বলে আইএসপিআর জানায়।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৪