ঢাকায় ইইউ'র নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধিদলের দ্বিতীয় দিন
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও রাজনীতিবিদদের সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধি দলের বৈঠক
ঢাকা সফরের দ্বিতীয় দিনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ মূল্যায়ন করতে আসা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) ছয় সদস্যের নির্বাচনী অনুসন্ধানী দল।
আজ সোমবার সকাল ১০টায় মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তার সঙ্গে তারা বৈঠক করেন। বৈঠক চলে ১০টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত। এর আগে রোববার ইউরোপিয় ইউনিয়ন নির্বাচনী অনুসন্ধানী দল বাংলাদেশ সফরের প্রথম দিন বৈঠক করেছে কূটনীতিকদের সঙ্গে। যেখানে গণমাধ্যমের উপস্থিতি ছিলনা তেমন।
তবে আজকে বৈঠক করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সরকারের মন্ত্রীসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে। যেখানে তারা বাংলাদেশে নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায় ইইউ।
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬ সপ্তাহ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থান করে পর্যবেক্ষণ করতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ মূল্যায়ন করতে আসা ৬ সদস্যের নির্বাচনী অনুসন্ধানী দল।
সকালে সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানায় প্রতিনিধিদল। বৈঠক শেষে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেবে মন্ত্রণালয়। এর আগে ২০০৮ সালেও তারা একইভাবে নির্বাচনী পরিবেশ পর্যবেক্ষনে এসেছিলেন।
বাংলাদেশ সফররত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলিসহ ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের দ্বিতীয় দিনের ব্যস্ত সময়ে তারা দেখা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাথে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকের ওবায়দুল কাদের বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষদের বাংলাদেশ স্বাগত জানায়, এতে কোন আপত্তি নেই। তবে নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো উদ্বেগের কথা বলেনি ইইউ। তারা ভালোটা আশা করছেন। কোনো খারাপ কিছু নিয়ে কোনো কথা বলেননি। বাংলাদেশে একটি শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হোক, এটাই তারা চেয়েছেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী ও পরিপক্কতা অর্জন করুক, এটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান ওবায়দুল কাদের।
নির্বাচন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো সুপারিশ ছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বলেছি তারা যদি পর্যবেক্ষক দিতে চায়, তাদের সুস্বাগত। তারা আসবেন, আমাদের অতিথি। যারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন, একজন কূটনীতিক নিজের আওতার মধ্য থেকে কাজ করবেন। পর্যবেক্ষকদেরও দায়িত্ব পালনে ৪১ ভিয়েনা কনভেনশনের নীতিমালা আছে। তারা সেই নীতিমালার মধ্যে দায়িত্ব পালন করবেন। এমনটা আশা করেন ওবায়দুল কাদের।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার, পার্লামেন্টের বিলুপ্তি, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ এসব নিয়ে কোনো কথা হয়নি ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে, জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এদিকে, বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশমম নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি বলেন, বাংলাদেশে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হলে ইইউ পর্যবেক্ষক পাঠাবে না। আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে বাংলাদেশের জিএসপি প্লাস সুবিধাপ্রাপ্তি সুগম হবে। এমন বিষয়গুলো আলোচনায় আছে বরাবরের মতই। #
পার্সটুডে/বাদশা রহমান/রেজওয়ান হোসেন/১০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।