দেশের সকল আদালত প্রাঙ্গণে সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ
বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সভা-সমাবেশ ও মিছিল না করার বিষয়ে উচ্চ আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে দেওয়া ২০০৫ সালের একটি রায় কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুই বিচারপতির পদত্যাগের দাবিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে আসছিল বিএনপিসহ সরকারবিরোধী আইনজীবীরা। এ নিয়ে আদালত অবমাননার আবেদন নিয়ে যায় আওয়ামীপন্থি এক আইনজীবী। ওই আবেদনের ওপর ১৯ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য করে এই রায় কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ।
আজ বুধবার প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি বোরহান উদ্দিন, বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম। পরে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের সব আদালত প্রাঙ্গণে কোনো ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ ও লিফলেট বিতরণ করা যাবে না। সুপ্রিমকোর্টের এ রায় এখন থেকে মানা না হলে তা হবে আদালত অবমাননা। কারণ আপিল বিভাগ ওই রায় মেনে চলতে বলেছেন। নিষেধ অমান্য করে কেউ মিছিল, সভা-সমাবেশ ও লিফলেট বিতরণ করলে সেই আইনজীবী আইনি কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবে বলেও তিনি জানান।
এ সময় তিনি আরও বলেন, মূলত ২০০৫ সালে তৎকালীন হাইকোর্টের বিচারপতি আবদুল মতিনের নেতৃত্বাধী বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এসব নিষেধাজ্ঞা দেন। আজ থেকে সেই রায় কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। তবে আদালত অবমাননার অভিযোগ ওঠা বিএনপির ৭ আইনজীবীর ক্ষেত্রে এই রায় কার্যকর হবে না বলেও জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।
গত ১৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট আয়োজিত শোক দিবসের এক আলোচনা সভায় ‘বিচারপতিরা শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ’ উল্লেখ করে আপিল বিভাগের দুই বিচারপতির বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাদের অপসারণ চেয়ে সংবাদ সম্মেলনের পাশাপাশি কয়েকটি কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা।
এমন প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) বিএনপি সমর্থক সাত আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা গ্রহণ চেয়ে সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করেন মো. নাজমুল হুদা নামের এক আইনজীবী। সে আবেদন আপিল বিভাগে উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাহিদ সুলতানা যুঁথী। #
পার্সটুডে/বাদশা রহমান/রেজওয়ান হোসেন/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।