বাংলাদেশে শোকাবহ আশুরা পালিত, ঢাকা ও খুলনায় তাজিয়া মিছিল
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i22717-বাংলাদেশে_শোকাবহ_আশুরা_পালিত_ঢাকা_ও_খুলনায়_তাজিয়া_মিছিল
শোকাবহ আশুরা উপলক্ষে কারবালার বিয়োগাত্মক ঘটনা স্মরণে রাজধানী ঢাকা ও খুলনা তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাজধানীর পুরান ঢাকার হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে এ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ধানমন্ডি লেকের কাছে প্রতীকী কারবালায় গিয়ে শেষ হয়। শত শত মানুষ এই শোক মিছিলে ‘হায় হোসেন-হায় হোসেন’ মাতম করেন।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
অক্টোবর ১২, ২০১৬ ০৮:৫৯ Asia/Dhaka
  • পুরান ঢাকায় তাজিয়া মিছিল
    পুরান ঢাকায় তাজিয়া মিছিল

শোকাবহ আশুরা উপলক্ষে কারবালার বিয়োগাত্মক ঘটনা স্মরণে রাজধানী ঢাকা ও খুলনা তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাজধানীর পুরান ঢাকার হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে এ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ধানমন্ডি লেকের কাছে প্রতীকী কারবালায় গিয়ে শেষ হয়। শত শত মানুষ এই শোক মিছিলে ‘হায় হোসেন-হায় হোসেন’ মাতম করেন।

হোসনি দালানের তত্ত্বাবধায়ক এম এম ফিরোজ হোসাইন সাংবাদিকদের জানান, রাতভর বয়ানের পর সকালে তাজিয়া মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি হোসনী দালান থেকে বের হয়ে বকশী বাজার লেন, কলপাড়, উমেশ দত্ত রোড, উর্দুরোড ঢাল, লালবাগ চৌরাস্তা, এমিতখানা রোড, আজিমপুর মেটারনিটি, নীলক্ষেত মোড়, সিটি কলেজ, ধানমন্ডি-২, রাইফেলস স্কয়ার হয়ে অস্থায়ী কারবালায় (বিজিবি সদর দপ্তরের গেটের উল্টো দিক) এসে শেষ করবেন।

এ ছাড়া, রাজধানীর ফার্মগেট, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বকশিবাজার, লালবাগ, পল্টন ও মগবাজার থেকেও তাজিয়া মিছিল বের হয়।

২০১৫ সালে হোসনি দালান এলাকায় শিয়াদের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে জঙ্গিরা বোমা হামলা চালায়। এতে দুইজনের মৃত্যু ও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিল। এ কারণে এ বছর পূর্ব সতর্কতা হিসেবে পুরো এলাকা ও আশে-পাশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলেছে আইনশৃংখলা বাহিনী। ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণে রয়েছে হোসনী দালানসহ মিছিলের গন্তব্য স্থানসমুহ। র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া, তাজিয়া মিছিলের হোসনী দালান কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব প্রায় ২০০ স্বেচ্ছাসেবককে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিযুক্ত করেন।

ঢাকার তাজিয়া মিছিল

খুলনায় তাজিয়া মিছিল

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে খুলনা মহানগরীতে তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। কারবালার শহীদদের প্রতি শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে মিছিলে অংশ নেয়া সবার মুখে ছিল ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ ধ্বনি।

বুধবার সকাল পৌনে ১১টায় মহানগরীর আলতাপোল লেন এলাকার আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী ট্রাস্ট ইমাম বাড়ি থেকে মিছিলটি বের হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া শিশু, কিশোর, বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ সবাই একত্রে মাতম করতে থাকেন। মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফের ইমাম বাড়িতে গিয়ে শেষ হয়।

শোক মিছিলের আগে অনুষ্ঠিত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ সাজ্জাদ হোসাইন।

তিনি বলেন, ইসলামকে রক্ষা করতে গিয়ে নবীর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (আ.) পরিবার-পরিজন ও সঙ্গী নিয়ে ৬১ হিজরিতে কারবালার প্রান্তরে নির্মমভাবে শাহাদৎ বরণ করে যে মহান আত্মত্যাগের নির্দশন রেখে গেছেন, সেই মহান আত্মত্যাগ থেকে আমাদেরকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বে ইসলামকে কলঙ্কিত করার উদ্দেশ্যে যেসব জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামের নামে মানুষ হত্যাসহ ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে এবং সব মানুষের কাছে সত্য দ্বীনকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে। তাহলেই ইমাম হোসাইন (আ.)-এর মহান ত্যাগ সার্থকতা লাভ করবে।

৬১ হিজরির ১০ মহররম কারবালার প্রান্তরে সংঘটিত হয়েছিল বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বিয়োগান্তক ঘটনা। প্রকৃত ইসলামকে রক্ষা করতে গিয়ে সেদিন জালিম ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শাহাদাত বরণ করেন হযরত ইমাম হুসাইন (আ.) ও  ৭২ জন সঙ্গী। তাদের এই আত্মত্যাগ ইরানের ইসলামী বিপ্লবসহ যুগে যুগে সব মহতি বিপ্লবে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।#

পার্সটুডে/এআর/১২