লিটন হত্যাকাণ্ড: জামায়াতকে সরাসরি দায়ী করলেন শেখ হাসিনা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i30112-লিটন_হত্যাকাণ্ড_জামায়াতকে_সরাসরি_দায়ী_করলেন_শেখ_হাসিনা
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস‌্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত‌্যাকাণ্ডের জন‌্য সরাসরি জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
(last modified 2026-06-27T09:59:16+00:00 )
জানুয়ারি ০৪, ২০১৭ ২২:০২ Asia/Dhaka
  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস‌্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত‌্যাকাণ্ডের জন‌্য সরাসরি জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার সন্ধ্যায় গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের এক যৌথসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘যেহেতু সে (লিটন) জামায়াতের বিরুদ্ধে সব সময় ছিল, এমনকি গোলাম আযম ওখানে মিটিং করতে চেয়েছিল, সেই মিটিং ও (লিটন) করতে দেয়নি, বাধা দিয়েছিল। সেই থেকে জামায়াতের একটা ক্ষোভ ওর ওপর ছিল। ওকে বেশ কয়েকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আর অবশেষে তারা সেই হত্যাকাণ্ডটা ঘটাল।’

জামায়াতের পাশাপাশি তাদের জোটসঙ্গী বিএনপিকেও ‘হত‌্যার রাজনীতির’ জন‌্য দায়ী করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মানুষ খুন করা বিএনপির চরিত্র এমন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘মানুষ খুন, মানুষ হত্যা করা এটা হচ্ছে বিএনপির চরিত্র। কাজেই আজকে লিটন হত্যার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি আমি। সাথে সাথে যারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদেরও যেভাবে হোক খুঁজে বের করে শাস্তি দিতে হবে।’

২০১৫ সালের ২ অক্টোবর ভোরে সুন্দরগঞ্জের দহবন্দ ইউনিয়নের গোপালচরণ এলাকায় চাচার সঙ্গে হাঁটতে বেরিয়ে সাংসদ লিটনের ছোড়া গুলিতে আহত হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন সৌরভ। দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ এই শিশুকে দীর্ঘদিন রংপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। তার বাবার করা মামলায় এমপি লিটনকে কয়েকদিন কারাগারেও থাকতে হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা ঘটনা আমার খুব খারাপ লাগে। মাঝখানে একটা ঘটনা ঘটে গেল, একটা বাচ্চা ওর গুলিতে আহত হয়। সেটা নিয়ে পত্র-পত্রিকা এমনভাবে লেখালেখি করল এবং ওর ক্যারেক্টার অ্যাসাসিন করল। ঘটনা যেটা ছিল, সেটা আর কেউ তুলে ধরল না। ওকে মারার জন্য ‘অ্যাম্বুশ’ করে রাখা হয়েছিল। যেহেতু ও সবসময় সতর্ক ছিল, কাজেই ও কেনোমতে সেখান থেকে বেঁচে আসে। ওই সময়ের গোলাগুলিতে যে ছেলেটা (সৌরভ) আহত হয়; সেও কিন্তু আমাদের আওয়ামী লীগের কর্মী ছিল।’

মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন

২০১৫ সালের ওই ঘটনা গণমাধ্যমে ‘ফুলিয়ে ফাপিয়ে’ প্রচার করা হয়েছে মন্তব‌্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মামলার পর তার বন্দুকের লাইসেন্স জব্দ করা হয়। তার অস্ত্রটা নিয়ে যাওয়ার পর থেকে সে আতঙ্কে থাকত যে যেকোনো সময় তাকে আক্রমণ করবে। ঠিক সেই ঘটনাটাই ঘটল। ওর বাসার ভেতরে ঢুকে ওকে গুলি করে হত্যা করল।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘চরিত্র হনন করতে চাইলে করেন, কিন্তু একটা মানুষের জীবন যাবে, এই ধরনের ঘটনা না ঘটানোই ভালো। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি হল সে একটা মহাঅপরাধী।’

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশবাসীর কাছে আমি এটা বলব, আমাদের লিটনের হত্যাকাণ্ড আমরা কখনো মেনে নিতে পারি না। সেই সাথে সাথে জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের আরো সোচ্চার হতে হবে। বাংলাদেশের মাটিতে কোনো জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের স্থান হবে না। এর বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কাজেই তার জন্য সবাই আমার মনে হয় প্রস্তুত হবেন।’

বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী তার নেতৃত্বাধীন সরকারের তিন বছর পূর্তির বিষয়টি তুলে ধরেন। এর আগে বক্তব্যের শুরুতে ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক সকলকে শুভেচ্ছা জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি তাঁর বক্তব্যে ছাত্রলীগের সময়কার কিছু স্মৃতিচারণাও করেন। সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। #

পার্সটুডে/এআর/৫