আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে নির্বাচন: শেখ হাসিনা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i30793-আমরা_গণতন্ত্রে_বিশ্বাসী_নির্দিষ্ট_মেয়াদ_শেষে_নির্বাচন_শেখ_হাসিনা
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষেই বাংলাদেশের পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
(last modified 2026-06-27T09:59:16+00:00 )
জানুয়ারি ১২, ২০১৭ ১৭:৩০ Asia/Dhaka
  • জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষেই বাংলাদেশের পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ (বৃহস্পতিবার) রাত সাড়ে ৭টার দিকে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকারের ৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি বলেছেন, "আমরা চলতি মেয়াদের তিন বছর অতিক্রম করলাম। আমাদের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। জনগণের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে।’

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ। এরপর তার গঠিত ইসির অধীনে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন হবে।

প্রেসিডেন্টের চলমান উদ‌্যোগকে স্বাগত জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা আশা করি সকল রাজনৈতিক দল মহামান্য রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে গঠিত নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখবেন। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নিবেন এবং দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবেন।”

শেখ হাসিনা তিন বছর আগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “আপনারা জানেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আমরা অবৈধ পথে ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করেছি।”

দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে আনতে নিজের চেষ্টা চালানোর বিষয়টি তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন,  "তখন জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দলকে নিয়ে নির্বাচনকালীন একটি জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।সংবিধানের আওতায় আমরা সবধরনের ছাড় দিতেও প্রস্তুত ছিলাম। এমনকি বিএনপি যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিতে ইচ্ছুক, তাও আমরা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিএনপি নেতৃত্ব সে আহ্বানে সাড়া দেয়নি, বরং উনি সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেন।”

৫ জানুয়ারির ভোটে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছিল না বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিএনপি জোট নির্বাচন বর্জন করলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দল এবং প্রার্থীর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সুষ্ঠুভাবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের সময় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত ছিল। সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি।”

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সন্তোষ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের লক্ষ ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ১৫/১৬ শতাংশে নামিয়ে আনা। বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। খাদ্য ঘাটতির দেশ খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত হয়েছে।  

তিনি বলেন, 'বাংলাদেশ সব বাধা দূর করে আজ বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের মডেল। আজকের বাংলাদেশ আর ৮ বছরের আগের বাংলাদেশ এক নয়। বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে দেশ। সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে।'

তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশ আত্মপ্রত্যয়ী বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের একটি আজ বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকারও বেশি। যা জিডিপির ভিত্তিতে বিশ্বে ৪৪তম এবং ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে ৩২তম। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বিশ্বকে অবাক করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বক্তব্যের শুরুতে সরকারে তিনবছর পূর্তিতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। সেইসঙ্গে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধে শহীদসহ বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে প্রাণদানকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যাশার কতটুকু সরকার পূরণ করতে পেরেছে তা জনগণই নির্ধারণ করবে। তবে সরকারের চেষ্টার কোন ত্রুটি ছিল না। জনবহুল দেশে অনেক সমস্যার মোকাবিলার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনসহ বৈশ্বিক নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এরফলে বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এখন বাংলাদেশকে রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। এ সময়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাসহ নানা খাতে সরকারের নেয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।# 


পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/শামস মণ্ডল/১২