নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে শিগগিরই তুমুল গণআন্দোলন: রিজভী
-
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ
বাংলাদেশে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমকর্মীরা দমন-নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করতে আইন প্রণয়নের জন্য প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
আজ (রোববার) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। রিজভী বলেন, "বিরোধীদের ওপর ধরপাকড় এবং নিরাপত্তা হেফাজতে রেখে নির্যাতনের পাশাপাশি বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের ঘটনা ঘটছে এবং এক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনী দায়মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে। ব্লগার, শিক্ষাবিদ, সমকামী অধিকার কর্মী, বিদেশি নাগরিক এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। শুধু তাই নয় বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ব্যাপক হারে গ্রেফতার, নির্যাতন করছে। পুলিশি হেফাজতে তাদের গুলি করা হয় এবং পুলিশ একে আত্মরক্ষামূলক উল্লেখ করে মিথ্যা ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে।" যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব দাবি করা হয়েছে বলে রিজভী উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, "এইচআরডব্লিউ’র প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে বলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনে করে। প্রকৃত অবস্থা আরো ভয়ঙ্কর। বাংলাদেশে বিরোধী দলের ওপর যে নির্যাতন-নিপীড়ন চলছে তা দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার তুলে ধরলেও বর্তমান স্বৈরশাসক তাদের জুলুম-পীড়ন অব্যাহত রেখেছে।"
রিজভী বলেন, "সরকারের অনাচার-অবিচারের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেকসহ বাংলাদেশের জনগণ সোচ্চার হতে শুরু করেছে। আর বেশী দেরী নয় নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে শিগগিরই তুমুল গণআন্দোলন শুরু করবে জনগণ। অনাচার ও জুলুম করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না।"
বিএনপির এ নেতা দাবি করেন, "বিএনপিকে সভা-সমাবেশ করতে না দেয়ার জন্যই মূলত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, রাস্তায় কোনো কর্মসূচি করা যাবে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন যে রাস্তায় আর কোনো প্রোগ্রাম করা যাবে না। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই নির্দেশনা দেন যে রাস্তা বন্ধ করে কোনো সভা, সমাবেশ বা কোনো কর্মসূচি বাংলাদেশের কোথাও করা যাবে না। মূলত বিএনপির সভা-সমাবেশ বানচাল করার জন্যই এ আদেশ দেয়া হয়েছে। মানুষের প্রতিবাদের ভাষা কেড়ে নেয়ার জন্যই এ আদেশ। গণতন্ত্র ক্রমাগত সংকোচনের ধারায় এটি আরেক ধাপ অগ্রগতি।"
পার্সটুডে/এআর/১৫