বহির্বিশ্বের সঙ্গে জ্ঞান ও প্রযুক্তির সেতুবন্ধন করাই আমাদের লক্ষ্য: শেখ হাসিনা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i31387-বহির্বিশ্বের_সঙ্গে_জ্ঞান_ও_প্রযুক্তির_সেতুবন্ধন_করাই_আমাদের_লক্ষ্য_শেখ_হাসিনা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের লাখ লাখ যুবকের সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশে আমরা যেকোনো প্রকার বৈশ্বিক জ্ঞান এবং ব্যবসা-বাণিজ্যকে স্বাগত জানাব। নিশ্চিতভাবেই এতে করে উভয় পক্ষই লাভবান হবে।’
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
জানুয়ারি ২০, ২০১৭ ০৮:৪১ Asia/Dhaka
  • ‘ডিজিটাল লিডারস’ পলিসি মিটিং অন জব’ শীর্ষক সেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    ‘ডিজিটাল লিডারস’ পলিসি মিটিং অন জব’ শীর্ষক সেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের লাখ লাখ যুবকের সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশে আমরা যেকোনো প্রকার বৈশ্বিক জ্ঞান এবং ব্যবসা-বাণিজ্যকে স্বাগত জানাব। নিশ্চিতভাবেই এতে করে উভয় পক্ষই লাভবান হবে।’

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’র (ডব্লিউইএফ) ‘ডিজিটাল লিডারস’ পলিসি মিটিং অন জব’ শীর্ষক সেশনে বিশেষ অতিথির ভাষণে তিনি একথা বলেন। স্থানীয় শেরাটন হোটেলে এই সেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।

বার্তা সংস্থা বাসস জানায়, শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ নিজেকে উদীয়মান বৈশ্বিক জ্ঞান ভিত্তিক অর্থনীতির এমন অবস্থানে তুলে এনেছে যেখান থেকে উন্নয়নের পথে নানামুখী প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আমাদের সরকার দেশকে ডিজিটালাইজেশনের পথে চালিত করছে। তথ্য প্রযুক্তির প্রসারের কারণে বাংলাদেশ তাঁর যুব সম্প্রদায়ের সঙ্গে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটাতে চায়। আমাদের সমাজ এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে জ্ঞান ও প্রযুক্তির সেতুবন্ধন করাই আমাদের লক্ষ্য।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের জনগণ যেকোনো প্রযুক্তি বিশেষ করে বর্তমানকালের তথ্য প্রযুক্তি যেন দ্রুত গ্রহণ করতে পারে তেমনি এর সঙ্গে খাপ খাওয়াতেও পারে। বিশ্বে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান ১০ম স্থানে। ৬ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। যার অধিকাংশই স্মার্টফোনের সাহায্যে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ তার রাজনৈতিক লক্ষ্য স্থির করে- ‘রূপকল্প ২০২১’ (এই সময়ের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা) এবং ‘রূপকল্প ২০৪১’ (উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ)। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ তথ্য প্রযুক্তিকে শিক্ষা খাতে সম্পৃক্ত করে রোডম্যাপ প্রণয়ন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইসিটিকে কেন্দ্র করে শুধু শিক্ষা খাতেই নয়, আমরা আমাদের শিশুদের ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার মানে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করি। বাংলাদেশে এখন মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলগুলোতে ২৩ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম রয়েছে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে আরো ১৪ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম তৈরীর কাজ চলছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি বৃহৎ ই-লার্নিং প্লাটফর্ম ডেভেলপ করছে যার নাম ‘মুক্তপথ’। এ প্লাটফর্মটির মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে বাংলাদেশিরা তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে কর্মসংস্থান তৈরি করে নিতে পারবেন। এটা হলো আমাদের তারুণ্যকে এ কর্মমুখী বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন বিশ্বজুড়ে কাজ করা আইটি ফ্রিল্যান্সারদের অন্যতম বড় ক্ষেত্র বাংলাদেশ। আমরা এখন নারী ফ্রিল্যান্সার গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছি। জোর দিচ্ছি দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় ফ্রিল্যান্সার তৈরিতেও। সারাদেশে বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ আইট ফ্রিল্যান্সার রয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

দেশব্যাপী সাড়ে ৪ হাজার ডিজিটাল সেন্টার থাকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে বাংলাদেশের প্রতিটি অলি-গলি এখন একটি অপরটির সঙ্গে সংযুক্ত। সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। মানুষের অর্থ-শ্রম দু’টোই বাঁচছে, কাজের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এভাবেই বাংলাদেশ এখন উদীয়মান বৈশ্বিক জ্ঞানের অর্থনীতিতে নিজের জায়গা করে নিচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের সাফল্যগাঁথা সকলের সামনে তুলে ধরার জন্য এ বছর ডব্লিউইএফ তাদের বিশেষ অতিথি এবং প্যানেল আলোচক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মনোনীত করে।#

পার্সটুডে/এআর/২০