সবার আগে শিক্ষা- শেখ হাসিনা: পরিবর্তন শুরু হয়েছে- ওবায়দুল কাদের
-
ছাত্রলীগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ ও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ আর মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করতে হবে। এগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ইসলাম শান্তির ধর্ম। কিন্তু যারা বিভ্রান্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বাংলাদেশে কোনো জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের স্থান হবে না।’
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের একটা কথাই বলব, জাতির পিতার অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়ে সেখান থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত। ধন-সম্পত্তি চিরদিন থাকে না, কিন্তু একটা আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করে দেশ ও জাতিকে কিছু দিতে পারলে সেই সম্পদটাই চিরদিন থাকে। আর ছাত্রদের জন্য সব থেকে বড় সম্পদ হবে শিক্ষা। কারণ, শিক্ষাই পারে একটি দেশকে, একটি জাতিকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে।’
ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, ছাত্ররাজনীতি আমরা করব। কিন্তু শিক্ষা গ্রহণ করাটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় এবং সবার আগের কাজ।’
জঙ্গিবাদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলাম ধর্মে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই, মানুষ খুন করার কথা বলেনি। আত্মঘাতী হলে দোজখে যেতে হয়, কেউ বেহেশতে যেতে পারে না।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘খুব অবাক লাগে, যখন দেখি ইংলিশ মিডিয়ামের ছেলেমেয়েও এই জঙ্গিবাদের পথে চলে যাচ্ছে। একটা ভালো অর্থশালী পরিবারের সন্তান হয়ে, উচ্চশিক্ষা নিয়ে কীভাবে জঙ্গিবাদের পথে যেতে পারে? কিসের আশায়? জঙ্গিবাদের পথে তারা বেহেশতে যাবে? এ পর্যন্ত যারা গেছে, তারা কি বেহেশতে গিয়ে খবর পাঠিয়েছে যে তারা বেহেশতে গেছে। সেই খবর তো তারা দিতে পারেনি। কেউ বলতে পারবে? কেউ তো বলতে পারবে না। তাহলে তারা এই পথে কেন যাবে?’
দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছিল সেগুলো মোকাবিলা করে আলোর পথে, প্রগতির পথে যাত্রা শুরু হয়েছে। এটা যেন থেমে না যায় সেদিকে সজাগ থাকার তাগিদ দেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি বাংলাদেশকে বিশ্বের মধ্যে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে। কারণ, জাতির পিতার আদর্শ নিয়েই আমরা রাজনীতি করি। কারও কাছে ভিক্ষা চেয়ে হাত পেতে চলা নয়, আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াব। যতটুকু সম্পদ আমাদের আছে, ততটুকু দেশ গড়তে কাজে লাগাব। দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করবে, এটাই আমাদের লক্ষ্য।’
পরিবর্তন শুরু হয়েছে: ওবায়দুল কাদের
পুনর্মিলনীতে দেয়া বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ওবায়দুল কাদের বলেন, 'নেত্রী বলেছেন- রাস্তা বন্ধ করে কোনো র্যালি করা যাবে না। আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য। তাই জনভোগান্তি যেন না হয়, সেটা দেখতে হবে। আজকের দিনের জন্য আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।'
অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগকে খারাপ খবরের শিরোনাম না হওয়ার শপথ করিয়ে সংগঠনটির সাবেক এই সভাপতি বলেন, 'ছাত্রলীগের দু-একটা খারাপ কাজ সরকারের সব উন্নয়ন ম্লান করে দিতে পারে। তাই ছাত্রলীগকে আজ শপথ নিতে হবে, খারাপ কাজের শিরোনাম হব না। ছাত্রলীগকে সুনামের ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে।'
এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, 'পরিবর্তন শুরু হয়েছে। আজ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কোথাও কোনো ব্যানার-ফেস্টুন নেই।'
ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে পুনর্মিলনীতে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকেরা উপস্থিত ছিলেন। পুনর্মিলনী পরিচালনা করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।#
পার্সটুডে/এআর/২৪