‘বাংরেজি’ নয়, সঠিক উচ্চারণে কথা বলার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i33344-বাংরেজি’_নয়_সঠিক_উচ্চারণে_কথা_বলার_তাগিদ_প্রধানমন্ত্রীর
ইংরেজি ঢঙে বাংলা বলার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি বিকৃত উচ্চারণ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০১৭’ উপলক্ষে আয়োজিত পাঁচদিনের অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
(last modified 2026-06-27T09:59:16+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৭ ২১:৪০ Asia/Dhaka
  • ‘বাংরেজি’ নয়, সঠিক উচ্চারণে কথা বলার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

ইংরেজি ঢঙে বাংলা বলার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি বিকৃত উচ্চারণ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০১৭’ উপলক্ষে আয়োজিত পাঁচদিনের অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইদানীং আমরা একটা দেখি যে ইংরেজির এক সাইডে বাংলা বলার একটা বিচিত্র শব্দ ব্যবহার করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এটা ঠিক জানি না, এটা কেন ছেলেমেয়েদের মধ্যে সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে যাচ্ছে। যে এভাবে কথা না বললে মর্যাদাই থাকে না এমন একটা ভাব। এই জায়গা থেকে আমাদের ছেলেমেয়েদের সরিয়ে আনতে হবে। আমাদের নিজস্ব কথিত ভাষা বলব ঠিক আছে। কিন্তু দয়া করে বাংলা ভাষার আমাদের যে একটা প্রচলিত ধারা, সেটাকে বিকৃত করে মানে বাংরেজি বলে ফেলছি এটা যেন না হয়। যখন যেটা বলবে, সেটা সঠিকভাবে বলবে, সঠিকভাবে উচ্চারণ করবে, সঠিকভাবে ব্যবহার করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একুশে ফেব্রুয়ারি এখন শুধু আমাদের একার না। যেহেতু জাতিসংঘ এটা গ্রহণ করেছে, পৃথিবীর ১৯০টা দেশের জন্য এটা প্রযোজ্য। বিভিন্ন জায়গায় এটা ব্যবহার হচ্ছে। এই উৎসবটা হচ্ছে। আমি অনুরোধ করব এই বিষয়ে আমাদের আরেকটু নজর দেয়া উচিত। আমাদের যে ভাষা আন্দোলনে বা সংগ্রামে ইতিহাসটাকে আরো ব্যাপকভাবে তুলে ধরে বিশ্বব্যাপী এটাকে আরো ব্যাপক প্রচার করা দরকার।’

ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ভাষার ওপর বারবার আঘাত এসেছে। এটাকে কখনো আরবি হরফে এবং কখনো রোমান হরফে লেখার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বাঙালি কখনো তা মেনে নেয়নি। এটা হচ্ছে বাঙালিদের চরিত্র, অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা। এ জন্যই আমরা সব সময় বলি, একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথা নত না করার। সেভাবে আমরা স্বাধীনতাও অর্জন করেছি এই সংগ্রামের পথ বেয়ে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্য ভাষার প্রতি তাঁর কোনো বৈরিতা নেই তবে, নিজের ভাষা আগে শিখতে হবে। সেই সঙ্গে অন্য ভাষাও আমরা শিখব। কিন্তু মাতৃভাষাকে ভুললে চলবে না। এটাই হচ্ছে আমাদের কথা। ভাষা শিক্ষার মধ্যে আলাদা একটা মাধুর্য আছে। পৃথিবীতে একমাত্র মানবজাতিরই ভাষা আছে। তারাই কেবল কথা বলতে পারে।’

জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসাবে বাংলার স্বীকৃতি আদায়ে সক্রিয় হওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলা ভাষাভাষীর স্থান ষষ্ঠ.. সেই হিসাবে জাতিসংঘের একটি ভাষা হিসাবে বাংলাকে গ্রহণ করে কি না- এ ব্যাপারে আমরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। যদিও এটা কার্যকর করতে অনেক রকম সমস্যা আছে। তবুও আমরা আমাদের দাবিটা তুলে রেখেছি। আমরা দাবিটা একদিন বাস্তবায়ন করতে পারব।‘

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জিন্নাত ইমতিয়াজ আলী, বাংলাদেশের ইউনেস্কোর আবাসিক প্রতিনিধি বিয়েত্রিস কালদান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ইউনেস্কোর লিঙ্গুয়াপ্যাক্স ইনস্টিটিউটের উপদেষ্টা আনভিটা অ্যাবি।#

পার্সটুডে/এআর/২২