ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছে এই সফর: প্রধানমন্ত্রী
-
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন
বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পারস্পরিক সহযোগিতা-বিশ্বস্ততা-বন্ধুত্বের বহুমুখী সম্পর্ক তার এই সফরের মাধ্যমে আরও সুসংহত হয়েছে।
ভারত সফর শেষে দেশে ফেরার একদিন পর আজ (মঙ্গলবার) গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তার লিখিত বক্তব্যে জানান, “বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে এবং বর্তমানে তা এক বিশেষ উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতাকারী দেশ ভারত। সেই দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ে প্রশ্ন তোলা সমীচীন নয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ সরকার বাস্তবঘনিষ্ঠ উদ্ভাবনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়, যা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। আমি নিশ্চিত একসঙ্গে কাজ করলে, এ অঞ্চলের মানুষের জীবন আমরা বদলে দিতে পারব।
শেখ হাসিনা সোমবার নয়া দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত সংবর্ধনার কথা তুলে ধরে বলেন, “সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করি যে বাংলাদেশ সার্বভৌম দেশ এবং আমরা বর্তমানে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত। আমি আরও বলেছি যে, বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্ব অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং বিবাদের মাধ্যমে কোনো কিছু অর্জন সম্ভব নয়।
এই সফরে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভারতীয় সেনাদের সম্মাননাও জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
গত ৭ এপ্রিল ভারত সফরে যান প্রধানমন্ত্রী। তিনি দেশে ফেরেন ১০ এপ্রিল। এই সফরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৩৬টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বিষয়ে জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক স্বার্থ বজায় রেখেই সব করা হবে। সুতরাং এ বিষয়ে নিয়ে প্রশ্ন তোলা অর্থহীন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্পটি ছিল আত্মঘাতী। এটি করা হলে হিতে বিপরীত হতো। তাই আমি নিজেই তা বাতিল করে দিয়েছি। এরকম কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবেই করতে হবে। সেক্ষেত্রে সম্ভাব্য এমন প্রকল্পের খরচও যৌথভাবে বহন করতে হবে।
আর তিস্তা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিস্তায় শুষ্ক মৌসুমে যাতে পানি পাওয়া যায় সেজন্য আমরা বর্ষা মৌসুমে বাড়তি পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে পারি। এজন্য আমরা জলাধার (রিজার্ভার) তৈরি করতে পারি। আমরা পশ্চিমবঙ্গকে বলেছি, ‘তোমরাও জায়গা দেখো, আমরাও জায়গা দেখি’। যাতে জলাধার নির্মাণ করে বর্ষাকালে পানি ধরে রাখতে পারি এবং শুষ্ক মৌসুমে তা কাজে লাগাতে পারি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এমন ব্যবস্থার দিকে যেতেই হবে।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/গাজী আবদুর রশীদ/১১