হাইকোর্টের সামনে গ্রিক দেবীর মূর্তি আমি নিজেও পছন্দ করিনি: শেখ হাসিনা
-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মঞ্চে মুফতি শাহ আহমদ শফি
বাংলাদেশের আলেম সমাজের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত গ্রিক দেবী থেমিসের ভাস্কর্য অপসারণের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার রাতে গণভবনে কওমি আলেমদের সঙ্গে বৈঠক শেষে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের হাইকোর্টের সামনে গ্রিক থেমেসিসের এক মূর্তি লাগানো হয়েছে। সত্য কথা বলতে কী, আমি নিজেও এটা পছন্দ করিনি। কারণ গ্রিক থেমেসিসের মূর্তি আমাদের এখানে কেন আসবে। এটাতো আমাদের দেশে আসার কথা না। আর গ্রিকদের পোশাক ছিল একরকম, সেখানে মূর্তি বানিয়ে তাকে আবার শাড়িও পরিয়ে দেয়া হয়েছে। এটাও একটা হাস্যকর ব্যাপার করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এটা কেন করা হলো, কারা করল, কীভাবে- আমি জানি না। ইতিমধ্যেই আমাদের প্রধান বিচারপতিকে আমি এই খবরটা দিয়েছি এবং খুব শিগগিরই আমি ওনার সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে বসব। আলোচনা করব এবং আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা এখানে থাকা উচিত নয়।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে গত ডিসেম্বর মাসে এই মূর্তি স্থাপন করা হয়। এটি নির্মাণ করেছেন ভাস্কর মৃণাল হক। ডান হাতে নিচের দিকে করা একটি তলোয়ার আর বাম হাতে দাঁড়িপাল্লা নিয়ে দাঁড়ানো নারী। এই মূর্তি স্থাপনের পর থেকেই বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন এবং আলেমগণ তা অপসারণের দাবি জানিয়ে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
কওমী মাদ্রাসার আলেমদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদের বলব আপনারা ধৈর্য ধরেন। এটা নিয়ে কোনো হই চই নয়। একটা কিছু যখন করে ফেলেছে সেটাকে আমাদের সরাতে হবে। সেটার জন্য আপনারা একটুকু ভরসা অন্তত রাখবেন যে, এ বিষয়ে যা যা করার আমি তা করব।
একই বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তর মর্যাদা দেয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে এই স্বীকৃতি দেয়া হলো।’
এ সময় জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থে জমি অধিগ্রহণে সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ধর্মীয় উপাসনালয় আলাদা জায়গায় সরিয়ে নেওয়া যায় না, এটা ঠিক নয়। তবে মসজিদ সরানোর জন্য নতুন করে কোনও আইন হচ্ছে না। ভূমি আইনে আগেও এটি ছিল।’
তিনি বলেন, ‘আমি ১৯৮৪ সালে প্রথম উমরাহ করতে যাই মক্কা ও মদিনা শরিফে। ১৯৮৫ সালে আমি প্রথম হজ করতে যাই। তখন মক্কা-মদিনা শরিফে যে পরিমাণ ছোট ছোট মসজিদ ছিল এবং এত হোটেল-টোটেল, মসজিদ অনেক কিছু ছিল। আপনারা দেখেন, এখন কিন্তু কিছু নাই।’
অনুষ্ঠানে শোলাকিয়া ঈদগাহ’র ইমাম মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ বলেন, “আজকে ওলামায়ে কেরামরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হল। এটা দেশের কল্যাণ বয়ে আনবে।”
অনুষ্ঠানে হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফিসহ কওমী আলেমরা উপস্থিত ছিলেন। মূলত কওমী সনদের স্বীকৃতি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেশের শীর্ষ আলেমদের আলোচনার জন্য এই আনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। #
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১২